১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকান চিতই আর চন্দ্রপুলি খাওয়ার ধুম

গ্রামীণ জনপদে পুরোদমে শুরু হয়েছে শীতের পাকান-পুলি, চিতই, ভাপা, চন্দ্রপুলি, চুঁই, ছড়া ও শেয়োই পিঠা খাওয়ার ধুম। এর সঙ্গে খেজুর রসের পায়েসের তো জুড়ি নেই। শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, ততই গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ থেকে মধুর রস ঝরছে। আর তা দিয়ে ঘরে ঘরে চলছে পিঠা, পায়েস খাওয়ার ধুম। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এখন অতিথি আপ্যায়নে শীতের পিঠা ও পায়েস রান্নার ধুম পড়েছে। প্রতিবছর শীতের মৌসুমে পিঠা-পায়েসের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরে ঘরে চলে অতিথি আপ্যায়ন। এজন্য আত্মীয়দের নিয়ে দু’একবার উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবারও তার কমতি নেই।

বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকার মুজাহিদ মঞ্জিলের বাসিন্দা গৃহবধূ ময়না বেগম জানান, তিনি শীতের পিঠা-পাকান, পুলি, ডিমচিতই, তিলের পুলি, শাহী চন্দ্রপুলি ও ভাপাসহ প্রায় ২০ ধরনের পিঠা তৈরি করতে পারেন। তিনি আরও জানান, এক লিটার দুধ, একটা নারকেল কোরা, এক কেজি ময়দা, পরিমাণ মতো লবণ, ভাজার জন্য তেল, সিরার জন্য এক কেজি চিনি, পরিমাণ মতো পানি, তেজপাতা ও দারুচিনি দিয়ে শীতের পাকান-পুলি পিঠা তৈরি করা হয়। গৃহিণী সীমা আহম্মেদ জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শীতের পিঠা খাওয়ানোর জন্য তাদের আত্মীয়স্বজনদের ইতোমধ্যে নিমন্ত্রণ করেছেন। পরিমাণ মতো খেজুরের রস কেনার পর প্রতিবেশী নারীদের নিয়ে তিনি শীতের পিঠা বানিয়ে থাকেন। চিতই, ছড়া ও চুঁঁই পিঠা খেজুর রসে ভিজিয়ে তা পরিবেশন করা হয়। বোরাদী গরঙ্গল গ্রামের গাছি জহর আলী ফকির জানান, শীতের তীব্রতা যত বৃদ্ধি পাবে খেজুর রস ও তার মিষ্টতাও তত বৃদ্ধি পাবে। আর সে সময় খেজুরের রস দিয়ে গ্রামীণ জনপদে শুরু হবে পিঠা খাওয়ার ধুম। তিনি আরও জানান, মৌসুমী রসের জন্য ইতোমধ্যে তিনি অর্ধশতাধিক খেজুরের গাছ পরিষ্কার করেছেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রতি হাঁড়ি রস একশ’ টাকা করে বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন গাছিরা। চড়ামূল্যে খেজুরের রস বিক্রি করা হলেও শীত মৌসুমের এ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না মানুষ। তাই প্রতিবছর শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে খেজুর রস দিয়ে গৃহবধূদের সুস্বাদু পায়েস, রসে ভেজা পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে

এই মাত্রা পাওয়া