২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টঙ্গীবাড়ীতে হত্যা মামলার আসামীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ॥ বাদী হতাশ

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ধামারণ গ্রামের চাঞ্চল্যকর দিপু হত্যা মামলার আসামীদের ছেড়ে দেওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করায় সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গীবাড়ী থানা এসআই জব্বার। শনিবার সকালে টঙ্গীবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকরা তার মোবাইলে ফোন করে বাদীর ধরিয়ে দেওয়া হত্যা মামলার আসামীদের কেন ছেড়ে দেওয়া হলো জানতে চাইলে, সে কোন সদ-উত্তর না দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আপনারা যা পারেন লেহেন গা। এর আগে বুধবার রাত ৩টার নারায়নগঞ্জের ইাসদাইর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিহত দীপুর চাচী ঝিলন বেগম, চাচাতো বোন শাহানা বেগম, চাচাতো ভাই আশিক বেপারী, বোন জামাই মুক্তার হোসেন ও ভোলাকে বাদীর সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের নামে উৎকোচ বানিজ্য। স্থাণীয় মেম্বার রিপন মোল্লাসহ ওই এলাকার গন্যমান্য কতিপয় ব্যাক্তির সমঝোতায় মোটা অংকের টাকা খেয়ে পুলিশ আটককৃতদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার সকালে ওই হত্যা মামলার বাদী এমদাদুল হক অপু টঙ্গীবাড়ী কর্মরত সাংবাদিকদের মোবাইলে ফোন করে কান্নায় ভেঙ্গে পরে জানান, আমার ভাই দিপুকে আমার দুই চাচা, নুরু শেখ, গিয়াসউদ্দিন, চাচী ঝিলুন বেগম, চাচাতো ভাই নাসির, আজাদ, জাহাঙ্গীর বোন শাহানা বেগম এবং ৩ বোনের জামাইর কসাই জাকির, মুক্তার হোসেন ও ভোলা আমাদের গ্রামের নিজ বাড়ি টঙ্গীবাড়ীর ধামারণ গ্রামে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে ওই সময় আমি ৫ জনকে গিয়াসউদ্দিন, নুরু সেখ, নাসির, আজাদ, জাহাঙ্গীরকে এজাহারভুক্ত আসামী ও আরো অজ্ঞাতনামা আসামী করে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। পরে জানতে পারি ওই এজাহারভুক্ত আসামীদের সাথে আমার ভাই হত্যাকান্ডে আমার চাচী ঝিলুন বেগম, চাচাতো বোন শহিনা, এবং বোন জামাই ভোলা ও মুক্তার জড়িত। আমি এদের পুলিশ নিয়ে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার ইসদাইর বাজার এলাকা থেকে ধরিয়ে দিলেও পুলিশ তাদের উৎকোচ খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনাকে অন্য খাতে প্রভাবিত করার জন্য আমার চাচী ঝিলুন বেগমকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। সে আরো জানায়, আমার চাচী ও চাচাতো ভাই বোনেরা যদি ঘটনার সাথে সম্পৃক্তই না হবে তাহলে খুনের আসামী হিসাবে তারা যাদের নাম বলছে তাদের সাথে নারায়নগঞ্জে স্থায়ী ভাবে বসবাস করা আমার চাচী ও চাচাতো ভাই বোনেরা কেন আমার নিজ বাড়ি টঙ্গীবাড়ীর ধামারনে যাবে। ওই আসামীদের ছেড়ে দেওয়ার পর হতে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি এবং আতœগোপন করে দিন কাটাচ্ছি। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি তদন্ত মেহেদি হাসান জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল এসপি এমদাদ হোসেন স্যারের নির্দেশে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের গাবতলীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও আরজু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী তারেক শামস দীপু শেখ (৩৭) গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় টঙ্গীবাড়ীর ধামারণ গ্রামের নিজ ঘরে খুন হন। সন্ত্রাসীরা তাকে জবাই করে হত্যা করে। পরে ৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহতের ভাই ইমদাদুল হক অপু বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।