২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘আগামী আয়কর মেলা হবে এনবিআরের নতুন ভবনে’

অর্থনেতিক রিপোর্টার ॥ আগামীবছর আয়কর মেলা রাজস্ব বোর্ডের নির্মাণাধীন নতুন ভবনে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃনজিবুর রহমান।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে শীতকালীন আয়কর মেলার সমাপনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, কর অঞ্চল-১ কমিশনার জিয়া উদ্দিন মাহমুদ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে রাজধানীতে দুইটি, ছয়টি বিভাগীয় শহরসহ আটটি স্থানে তিন দিনব্যাপী (১৯-২১ নবেম্বর) এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ ভবনে মেলা করার জন্য একটি স্থায়ী অবকাঠামো করা হবে। এ ভবনে মেলা হলে জনগণকে আরো বেশি সেবা দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামেও ৪০ তলা ভবন হবে। সে ভবনেও কর অফিসের পর যে জায়গা থাকবে তাতেও মেলার স্থায়ী অবকাঠামো এবং অন্যান্য মেলা করা যাবে।

মেলা সফল হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে করা এ মেলা সফল হয়েছে। করদাতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

এ মেলা সীমিত পরিসরে করেও বহুলাংশে স্বার্থক। এ মেলার মাধ্যমে করদাতাদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম যে করদাতা তাদের নাগরিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আক্ষরিক অর্থে মেলা শেষ হলেও আমাদের মূল কাজ শুরু হয়েছে। মেলায় আমরা করদাতাদের ভালো পরিবেশ দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।

মেলা শিক্ষায় কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, মেলার এ পরিবেশ কর অঞ্চল, সার্কেলে যেন মেলার মতো একই পরিবেশ বজায় রাখা যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ কর দিতে চান না- যে ধারণা ছিল এ ধারণা রাখার কোন সুযোগ নেই। মেলার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে কর দেওয়ার বিশেষ উৎসাহ দেখা গেছে।

রাজস্ব বোর্ড থেকে যে সুশাসন ও উন্নততর ব্যবস্থাপনার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে আস্তা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে যোগ করে তিনি।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এ আস্তা ধরে রাখতে হবে। দীপ্ত শপথ নিতে হবে, দেশ সেবায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে এ আস্তা ধরে রাখবো।

খন্ডকালীন মেলায় মেলায় জনগণ যে সাড়া দিয়েছে তার শিক্ষা নিয়ে আগামীতে আরো বড় পরিসরে পূর্ণাঙ্গ মেলা করার ক্ষেত্রে বোর্ডকে প্রেরণা যোগাবে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, শসস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে সেনানিবাসগুলোতে মেলা করা জন্য। প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অবহিত আছি, কিছু কিছু মহল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অগ্রযাত্রায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কাজে এখনই শুধরানোর সময়। রাজস্ব বোর্ড যেভাবে এগুচ্ছে তাতে আমাদের শুদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ভীত না হয়ে আমাদের সাথে শুদ্ধতার সারিতে দাঁড়াতে হবে।

উপজেলা করমেলা সম্পর্কে তিনি বলেন, উপজেলা অর্থনীতিতে নতুনমাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে মেলার মাধ্যমে সেখানে কর আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর আদায়ের ক্ষেত্রে সমস্যা চিহিৃত করতে পেরেছি, এখন সমাধানও পেয়ে গেছি। কর অফিস ও কাজ অত্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান জানান, তিন দিনের মেলায় ঢাকাসহ আটটি স্থানে ৬২ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৬ টাকার আয়কর আদায় হয়েছে। রিটার্ন জমা পড়েছে ৫৩ হাজার ২৫৯টি, ই-টিআইএন নিবন্ধন নিয়েছে ৩ হাজার ১শ ৪৯জন ও পুন:নিবন্ধন করেছেন ২৪৫জন।