২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষ মুহূর্তেও নাটক

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদ-াদেশ কার্যকরপরবর্তী ঘটনায় যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল এমারত হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মহানগরীতে ৬, সীতাকু-ে ২, রাউজানে ২, আর স্ট্যান্ডবাই ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, রাউজান থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সাকাকে রাউজানের গহিরায় পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে রাউজান কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার হাফিজ আকতার জানিয়েছেন, দেখুন, অপেক্ষা করুন। অপরদিকে, পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, র‌্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন সমন্বয়ে বাহিনীকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকর করার প্রক্রিয়াটি দিনভর নাটকীয়তা সৃষ্টি করে। নানা জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। চট্টগ্রাম মহানগরী, রাউজান, রাঙ্গুনীয়া ও আশপাশ এলাকাসমূহে উৎসুকদের নজর সর্বক্ষণিক ছিল টিভি চ্যানেল ও পত্রপত্রিকার দিকে। কুখ্যাত সাকার অতীত ইতিহাস পাঠকরা খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েন। আর টিভি চ্যানেলগুলোতে মুক্তিযুদ্ধে মূর্তিমান আতঙ্ক সাকাকে নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে অনুধাবন করেন।

তবে ঢাকা নাজিমউদ্দিন রোডের সেন্ট্রাল জেল প্রাঙ্গণে সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকর পূর্ববর্তী ঘটনাবলী উৎসুক জনতার উৎসাহ কেবলই বাড়িয়ে দেয়। সাকা ও মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন বলে জেল কর্তৃপক্ষ জানান দিলেও সাকা পরিবারের সদস্যরা তা এক ধরনের অসম্ভব বলে সাংবাদিকদের জানান। এতে করে উৎসুক জনতার মাঝে জল্পনা-কল্পনা আরেক ধাপ বেড়ে যায়। কি হচ্ছে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এই দুই যুদ্ধাপরাধীকে নিয়ে, নতুন কোন ষড়যন্ত্রের বীজ বপন হয়েছে কিনা এসব নানা সন্দেহের আবর্তে ঘুরপাক খায় মানুষের চিন্তা ভাবনা।

রাউজান আওয়ামী লীগ আগেই বলে দিয়েছে সাকাকে রাউজানে দাফন করতে দেয়া হবে না। চবি ছাত্রলীগ বলেছে চবির সম্মুখস্ত প্রধান সড়ক দিয়ে খুনী সাকার লাশ নিতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাধীনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সাকার ফাঁসি কার্যকর করার শেষ মুহূর্তটি তার উত্তরসূরি অর্থাৎ তার পরিবারের সদস্যরা নতুন নাটকের অবতারণা করে আগ্রহী মহলকে রীতিমতো হতবাক করে দেন। সরকার পক্ষ বলছে, সাকা ও মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন। অথচ সাকার দুই পুত্র প্রকাশ্যে বলেন, তার পিতা প্রাণভিক্ষার আবেদন করার বিষয়টি অসম্ভব একটি ব্যাপার। মূলত সাকা পরিবারের সদস্যদের এ জাতীয় কর্মকা- ঘটিয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা নতুন কোন ব্যাপার নয়। শেষ মুহূর্তেও তারা তাদের রীতি অনুযায়ী তাই করার অপচেষ্টা চালান।

যাই হোক, রাউজানে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহের বিভিন্ন সূত্রে শনিবার জানানো হয়েছে, সাকা ও তার পরিবার সারাজীবন যা করে গেছেন ফাঁসির রশিতে ঝোলার আগেও একই ঘটনার অবতারণা করে গেলেন। এটা তাদের হতবাক করেনি। কারণ, রাউজানবাসীর চেয়ে সাকাকে অন্যরা বেশি চেনেন না, জানেন না। মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং তৎপরবর্তী সময়ে এ সাকা ও তার পরিবারের সদস্যরা হেন অপকর্ম করেনি যা রাউজানবাসীকে দিনের পর দিন জিম্মিদশায় রেখেছিল।