২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাণভিক্ষায় বিচারের যথার্থতা প্রমাণিত, জামায়াত নিষিদ্ধে আর কোন বাধা নেই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধী মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরী ও বদরপ্রধান মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করার মধ্য দিয়ে একাত্তরের কৃতকর্মকে স্বীকার করে নিলেন। তারা সত্যিকারেই নরঘাতক, গণহত্যাকারী। একাত্তর থেকে গত ১৭ নবেম্বর রিভিউয়ের সময় পর্যন্ত তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্বীকার করেনি। এত দিন তারা বলে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এবার মানবতাবিরোধী অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনায় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করতে আর কোন বাধা রইল না। দেশের বিশিষ্ট আইন বিশেজ্ঞরা এমনই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী এবং মুজাহিদ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী সাবেক এই দুই মন্ত্রীর আইনী লড়াই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর তাদের শেষ সুযোগ দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। রিভিউ খারিজের পর তাদের দ- কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে শনিবার বেলা আড়াইটায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।’

এদিকে দুই আসামির ক্ষমা প্রার্থনাকে প্রসিকিউটর ও আইনজীবীরা কিভাবে দেখছেন- এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহম্মেদ বলেছেন, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। অর্থাৎ তারা অপরাধী। একাত্তরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা সুবিচার চায়। তাদের আকুতি মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধে যারা দণ্ডিত ভিয়েনা কনভেনশন ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি নিজের ক্ষমতা বলে ক্ষমা করতে পারবেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর (এ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায়) সৈয়দ হায়দার আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ ছিল তা এতদিন অস্বীকার করে এসেছে। তারা এতদিন বলেছেন, আমাদের বিনা কারণে আটক করে বিচার করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত করা হচ্ছে। এখন তারা যে অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইল, তার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়ে গেল একাত্তরে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জামায়াত যে সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধী দল তা প্রমাণিত হলো। এখন যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

কারাবন্দীদের ক্ষমার আবেদন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে যায় আইন মন্ত্রণালয়ে। আইন মন্ত্রণালয় তা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠায়। ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন,’ বলেন আইনমন্ত্রী। এরপর ২টা ৩৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ানকে একটি রেজিস্টার খাতা নিয়ে বের হতে দেখা যায়।

কীসের ফাইল, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খোলেননি তিনি। খাতাটির উপরে লেখা ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ পত্রাদি’। ডেপুটি জেলার খাতাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের কক্ষে ঢোকেন। এরপর তিনি বেলা সোয়া তিনটার দিকে কারাগারে ফিরে আসেন। এর আগে দুপুরে সাকা এবং মুজাহিদের পরিবার দুটি স্থানে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করলেও প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট করেননি। সাকা চৌধুরীর পরিবার বলেছে, যুদ্ধাপরাধের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বিচারে মৃত্যুদ-ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তারা রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেবেন। মুজাহিদের পরিবার বলেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদ- কার্যকর স্থগিত রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।