২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা জেলের নিরাপত্তা শিথিল

ঢাকা জেলের নিরাপত্তা শিথিল
  • সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ছাড়াও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ঢাকার ও গ্রামের বাড়িসহ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২০ প্লাটুন করে ৪০ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই কক্সবাজারে বিজিবি বাড়তি টহল শুরু করে। আজ সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন থাকছে। বিএনপি-জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বিজিবি মোতায়েনের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যদের বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বিশেষ বিশেষ এলাকার মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক। কারাগারের চারদিকে সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ যে পথে যায়, নিরাপত্তা জোরদার ছিল সেসব পথেও। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। সেখানেও ছিল কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে দুই যুদ্ধাপরাধীর রাষ্ট্রপতির কাছে করা মার্সি পিটিশন নিয়ে কারা অধিদফতরের কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর সোয়া ২টার দিকে কারা কর্মকর্তারা চলে গেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। মন্ত্রণালয়ে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়াদি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আজ সকাল ৬টা থেকেই সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন থাকছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মহসীন রেজা জানান, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র‌্যাবকে সহায়তা করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। পর পর দুইজন বিদেশীকে হত্যা এবং এক বিদেশী হত্যাচেষ্টার পর চট্টগ্রামে বিজিবি নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে। চট্টগ্রামে থাকা বিদেশীদের নিরাপত্তায় মূলত বিজিবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করে থাকে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত টহলের বাইরেও বাড়তি বিজিবি মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। সেই চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রামে বাড়তি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা পুলিশ ও র‌্যাবকে সহায়তা করছে। সন্ধ্যা থেকেই বিজিবি চট্টগ্রামে টহল শুরু করে। চট্টগ্রামেও অতিরিক্ত ২০ প্লাটুন বিজিবি টহল দিচ্ছে। এরমধ্যে কক্সবাজারে সন্ধ্যা থেকেই বিজিবি বাড়তি টহল জোরদার করেছে।

এ ব্যাপারে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মুহসীন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বিদেশী হত্যাকা-ের পর চট্টগ্রামে থাকা বিদেশীদের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব কারাগারসহ আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। শনিবার তা আরও বাড়ানো হয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। এদিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছিল পুরো কারাগার এলাকা। কারাগারের ভেতরে শনিবার আরও বেশ কিছু এলাকার মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

শাহবাগ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়ার সব রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কারাগারের চারদিকের সব রাস্তা। শাহবাগ থেকে কারাগারে প্রবেশের সব রাস্তায় বেরিকেড দেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি, দোয়েল চত্বর, পলাশী মোড়, জগন্নাথ হলের সামনে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বকশীবাজার, চকবাজার, হোসেনী দালান, ওয়াটার ওয়ার্কস রোড, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা রোডসহ আশপাশের সকল অলিগলিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, বকশী বাজার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ও চকবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্সের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল এপিসি (আর্মার পার্সোনাল কেরিয়ার) ও জলকামান।

কারাগারের চারদিকে থাকা ওয়াচ টাওয়ারগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব অত্যাধুনিক শক্তিশালী স্নাইপার রাইফেল আর বাইনোকুলার হাতে সতর্ক অবস্থানে ছিল। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইট লাগানো হয়েছিল কারাগার এলাকা আলোকিত রাখতে। জেলখানার মূলগেটে চারস্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কারারক্ষীরা চার স্তরে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। দায়িত্বরতরা যথেষ্ট ভারি অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার, ডগ স্কোয়াড, আমেরিকা থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি), পুলিশ ও র‌্যাবের সাদা পোশাকধারী সদস্যদের।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অলিখিত ১৪৪ ধারা জারিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রগোলাবারুদ ব্যতীত যে কোন ধরনের অস্ত্রগোলাবারুদ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর ধানম-ির আবাসিক ১০/এ নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর ‘কিউসি রেসিডেন্স’ এবং চট্টগ্রামের গুডস হিলের বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাসা বাড়ি ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। বিশেষ করে মতিঝিল শরীফ ম্যানশনে থাকা কিউসি লাইন, বনানীতে সাকা চৌধুরীর সব কোম্পানির গাড়ি রাখার বিশাল গ্যারেজটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। মুজাহিদের ঢাকা ও গ্রামের বাড়ি ছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।