১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যান্সার নির্ণয়ে কবুতর!

ক্যান্সার নির্ণয়ে কবুতর!

প্রাচীনকালে চিঠি আদানপ্রদানে কবুতর ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এই কবুতর যদি এখন প্রাণঘাতী ক্যান্সার নির্ণয়ে ভূমিকা রাখতে পারে খবরটি অবশ্যই সবার কাছে আশা জাগাবে। কারণ এই ছোট্ট প্রাণীটির মধ্যে মনে রাখার চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে।

হ্যাঁ, একদল মার্কিন বিজ্ঞানী কবুতরকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন যাতে রিপোর্ট দেখে কবুতরগুলো নির্ভুলভাবে ক্যান্সার নির্ণয় করতে পারে। বিজ্ঞানীদের যুক্তি কবুতর যদি মানুষের মুখের অভিব্যক্তি, বর্ণমালা এবং চিত্রকর্ম চিনতে পারে তবে রিপোর্ট দেখে কেন ক্যান্সারের মাত্রা বুঝতে পারবে না?

এরপর থেকেই কয়েকটি পোষা কবুতরকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেছেন আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ঝানু গবেষক। গবেষকদল আরও বলছেন, কবুতরকে ঠিক যা শেখানো যায় এটি সেভাবেই কাজ করে। তাই এটিকে এক্সরে প্রতিবেদনে কোথায় টিউমার রয়েছে এটি শেখাতে পারলে ভালই কাজ দেবে। গবেষণাটি সম্প্রতি প্লাস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দলের সহ-প্রধান প্রফেসর এ্যাডওয়ার্ড ওয়াশারম্যান বলেন, কবুতর সহজেই কোন জিনিসের সাদৃশ্য এবং বৈশাসৃদ্য নির্ণয় করতে পারে। মানুষের মুখের ওপর ভেসে ওঠা মনের আবেগ, অক্ষর, বর্ণমালা এবং কোনটা বেঢপ সাইজের ওষুধ তাও বুঝতে পারে। পাশাপাশি কবুতরের স্মরণশক্তিও চমৎকার। প্রমাণ হিসেবে আমরা দেখেছি একহাজার আট শ’র বেশি ছবির ধরনকে মনে রাখতে পেরেছে কবুতর। এর পর থেকেই আমরা গবেষণা শুরু করেছি যে রোগ নির্ণয়ে কবুতর ঠিক কীভাবে কাজ করতে পারে।

প্রফেসর ওয়াশারম্যান আরও বলেন, প্রতিটি কবুতরকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখানো হয় কোনটা ক্যান্সার এবং কোনটা ক্যান্সার টিস্যু নয়। এর পরই দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় কবুতরগুলো মোটামুটি সঠিক উত্তর দিতে পেরেছে। এভাবে দুই সপ্তাহ পরীক্ষার পর কবুতরগুলোর উত্তর ৮৫ শতাংশই সঠিক হয়। পাখিগুলো সফলভাবে ক্যান্সার টিস্যু নির্ণয় করতে সক্ষম হয় ঠিক এগুলোকে যেভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।

গবেষণা দলটির প্রধান প্রফেসর রিচার্ড লেভেনসন বলেন, পাখিগুলো চমৎকারভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ খুঁজে পায়। ভবিষ্যতে কবুতরগুলো যাতে ৯৯ শতাংশ সঠিক উত্তর দিতে পারে এ জন্য আরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিবিসি অবলম্বনে।