২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে ফিরলেন খালেদা, স্বাগত জানালেন নেতাকর্মীরা

দেশে ফিরলেন খালেদা, স্বাগত জানালেন নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৬৭ দিন পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শনিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে এলে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্র্মীকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরের বাইরে গোল চত্বরের সামনে আটকে দেয় পুলিশ। বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া সরাসরি তার গুলশানের ভাড়াবাড়ি ফিরোজায় যান। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাদের নেত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও ২০ দলীয় জোটে বিএনপির শরিক দল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যেই দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া। এছাড়া তার দেশে ফেরার দিনটি ছিল সশস্ত্র বাহিনী দিবস। তাই এ দিনে তার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলা হয়। এদিকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার দিনে কোন ধরনের কোন সমস্যা হবে কি না বিএনপির পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করা হয়। আর সরকারের তরফ থেকে বলা হয় খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে তাকে বাধা দেয়া হবে না।

লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেসব গাড়ি বিমানবন্দরে প্রবেশ করে সেগুলো থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে। দুপুর থেকেই বিমানবন্দরের মূল প্রবেশ পথে ছিল বিপুলসংখ্যক আনসার ও এপিবিএন সদস্য। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে মহাখালী পর্যন্ত সড়কে সতর্ক অবস্থায় থাকে পুলিশ।

উল্লেখ্য, লন্ডনে অবস্থানের মধ্যেই দেশে দুই বিদেশী নাগরিক খুন হয়েছেন এবং আরেক বিদেশী নাগরিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এছাড়া তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে দুই পুলিশকে। এসব কারণে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপিকে দোষারোপ করে সরকারী দলের নেতারা বক্তব্য-বিবৃতি দেয়ায় খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার সময় কোন সমস্যা হয় কি না তা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল। খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই বিমানে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খন্দকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ধর্মবিষয়ক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, দলের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, শাহজাদা মিয়া, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, রাবেয়া সিরাজ, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আখতার প্রমুখ।

বিমানবন্দরের বাইরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমাণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন আমাদের নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিমানবন্দরের বাইরে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এ থেকে প্রমাণ হয়ে দেশে গণতন্ত্র নেই।

১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। ২ মাসেরও বেশি সময় সেখানে অবস্থান করে চোখ ও পায়ের চিকিৎসা ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। এর মধ্যে খালেদা জিয়া লন্ডন বিএনপি আয়োজিত ক’টি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে প্রথমে ক’দিন হোটেলে অবস্থান করলেও পরে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় উঠেন তিনি। ছেলে তারেক রহমান ছাড়াও ছেলে বউ ডাঃ জোবাইদা রহমান, নাতনি জায়মা রহমান, প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি এবং তার ২ মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে একান্তে বেশ কিছুদিন সময় কাটান খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট ও ক্রান্তিকাল বিবেচনা করে চিকিৎসা শেষ না করেই লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া।

লন্ডন হিথরো বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিমানে ওঠার আগে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে আগের দিনই সংবাদ সম্মেলন করে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার সময় তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। বিকেল ৪টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিমানবন্দর সংলগ্ন গোল চত্বর এলাকায় গিয়ে জড়ো হয়। তবে পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে অনেক নেতাকর্মীই বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানা যায়। খালেদা জিয়া বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীরা সেøাগান দেন ‘খালেদা জিয়ার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সঙ্গে’।

খালেদার নিরাপত্তা চেয়ে ডিএমপিতে বিএনপির চিঠি ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার আগেই শনিবার দুপুরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে দলের সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপনের পক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপ-পুলিশ কমিশনার, উত্তরা বিভাগ ও বিমানবন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ