২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসবে মনোমুগ্ধকর গড়য়া নৃত্য

মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসবে মনোমুগ্ধকর গড়য়া নৃত্য
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মঞ্চজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেন ২২ জন পুরুষ নৃত্যশিল্পী। সবার পরনে ধুতি-গেঞ্জি, মাথায় লাল রঙের পাগড়ি, কোমরে গামছার বেড়ি। বাঁশির সঙ্গে ঢোলকের বাদ্যের তালে তালে চমৎকার অঙ্গভঙ্গিতে কোমর দুলিয়ে নাচছেন শিল্পীরা। একইসঙ্গে গাইছেন নতুন বছরের কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ার গান। ত্রিপুরা জাতির আদিম ধর্ম, সংস্কৃতি চেতনাবোধের সঙ্গে প্রাচীন জীবন-জীবিকার প্রণালী সমৃদ্ধ এ নৃত্যের নাম ‘গড়য়া নাচ’। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে প্রথম আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসবের তৃতীয় দিন শনিবার সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর এ নৃত্য পরিবেশন করে বাংলাদেশের য়ামুক ত্রিপুরা সম্প্রদায়। ত্রিপুরা জাতির মধ্যে হাজার বছরের বিশ্বাস, পরম করুণাময় ভগবানের আরেক নাম গড়য়া। তিনি অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন। তাঁর ইচ্ছাতে বিশ্ব ব্রহ্মা- সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় ঘটে। তাঁর কৃপাতে মানুষ ও জীবজগৎ সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। আবার তাঁর ইশারাতে মহামারী, দুর্ভিক্ষ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। ত্রিপুরা জাতির জীবিকা নির্বাহের আদিরূপ ছিল জুমভিত্তিক কৃষি চাষ পদ্ধতি। তাই গড়য়া দেবতাকে এক কথায় কৃষি দেবতাও বলা হয়ে থাকে। তাদের বিশ্বাস গড়য়া পূজা করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায় ও কীটপতঙ্গের উপদ্রব কমে, মহামারী হয় না। এ চেতনা নিয়ে বছর শেষান্তে সুখ, দুঃখ, ব্যথা-বেদনাকে পিছনে ফেলে নতুন বছরের উদ্যাম কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে গড়য়া পূজা ও গড়য়া নাচ করা হয়। এ নৃত্যে নারীর অংশগ্রহণ স্বতঃসিদ্ধ নয়। মোট ২২ জন নৃত্যশিল্পী ঢোলের তেহাই বোলে ২২টি নৃত্যের মুদ্রায় ত্রিপুরা জনজীবনের জীবন-জীবিকার কর্ম প্রণালী দেখানো হয়।

এরপর একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তাইকিং কালচারাল এ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের শিল্পীরা নাটক পরিবেশন করে। এর আগে বিকেলে একাডেমির নন্দন মঞ্চে বাংলাদেশের সাওতাল সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের শিল্পীরা পরিবেশন করে গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য। এটি সাঁওতাল জাতির নবান্ন উৎসবের একটি ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য। এরপর বাংলাদেশের য়ামুক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল খাসী গান। সম্প্রীতি নাট্যোৎসব পর্ষদ আয়োজিত ৮ দিনব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশের ৭টি এবং ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৯টি মৃত্তিকালগ্ন জাতিগোষ্ঠীর নাট্যদল অংশ নিচ্ছে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মরণানুষ্ঠান ॥ বাংলা সাহিত্যের অনিরুদ্ধ অহংকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। শনিবার সন্ধ্যায় স্মরণ করা হলো কিংবদন্তি এই কবিকে। তাঁকে নিবেদন করে অনুষ্ঠিত হলো আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দাঁড়াও পথিক বর, জন্ম যদি তব বঙ্গে শীর্ষক স্মরণানুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যশোর জেলা প্রশাসন।

স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমত আরা সাদেক, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ ও সাবেক সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস ও জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। যশোর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।

গণগ্রন্থাগারে মঞ্চস্থ চারুকণ্ঠ প্রযোজনা ‘চম্পাবতী’ ॥ বাঙালীর সাংস্কৃতিক জাগরণে সব সময়ই বিশেষ ভূমিকা রেখেছে কবি জসীম উদ্দীনের রচনা । তাঁর লেখায় উঠে এসেছে বাঙালীর গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার আবহমান চিত্র; যা কিনা নগর জীবনের ব্যস্ততায় ভুলতে বসেছে শহুরে নাগরিকরা। সেই হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ জীবনযাত্রার চিত্রটির দেখা মিলল শনিবার। হেমন্ত সন্ধ্যায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে শওকত ওসমান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদের প্রযোজনা ‘চম্পাবতী’। কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে শ্রোতারা খুঁজে পেল শেকড়সন্ধানী পল্লী জীবনের দৃশ্যকল্প। কবি জসীম উদ্দীনের রচনা অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রযোজনাটি গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন জি এম মোর্শেদ। পরিবেশনাটি উপস্থাপন করেন আনোয়ার পারভেজ, সুমাইয়া মাহজেবীন তিথি, ফয়েজ আহমেদ, ফারজানা রোজী, তাবাস্সুম মুন্নী ও জি এম মোর্শেদ।