২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামের ১৬ থানায় বিজিবি ও রায়ট ফোর্স মোতায়েন

  • রাউজানে সাকার লাশ দাফনে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ একাত্তরে মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নগরীতে আগে থেকেই প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। শনিবার পুলিশের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। দণ্ড কার্যকর হলে সাকার লাশ দাফনে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার ১৬ থানায় মোতায়েন করা হয়েছে স্পেশাল রায়ট ফোর্স (এসআরএফ)।

এ সম্পর্কে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান বলেন, ফাঁসির রায় কার্যকর কেন্দ্র করে নগরীতে আগেই বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়। শনিবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। তিনি বলেন, বিকেলে কমিশনার কার্যালয়ে জরুরী বৈঠক থেকে যে কোন ধরনের সহিংসতা রোধে পুলিশকে তৎপর থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাকার মরদেহ তার নিজ গ্রাম রাউজানের গহিরায় দাফন করতে চাইলে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। শনিবার চট্টগ্রামের এসপি একেএম হাফিজ আক্তার এ কথা জানান। শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাকার লাশবাহী গাড়ি ছাত্রলীগের প্রতিহতের ঘোষণা এবং রাউজানবাসীর ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাফিজ আক্তার বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে আমাদের জানানো হয়নি। যদি রাউজানে দাফন করা হয় সেক্ষেত্রে নির্বিঘেœ দাফন সম্পন্ন করতে পুলিশ সব ধরনের নিরাপত্তা দেবে। রাউজানে এখনও র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে সাকা চৌধুরীর লাশ না আনার দাবিতে শনিবার বিকেলে রাউজানে মিছিল-সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। লাশবাহী গাড়ি প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিকেল থেকেই রাউজনের প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন।

গত ১৮ নবেম্বর সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার পরপরই চট্টগ্রাম নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রতিটি থানায় এক প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণস্থানসমূহে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলায় ও নগরীতে ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। শনিবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। সকালে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নগরীর ১৬ থানায় ১৬ এসআরএফ (স্পেশাল রায়ট ফোর্স) টিম পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি টিমে ২০ জন আছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।