২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ শুরু প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সারাদেশে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। পরীক্ষার প্রথম দিন আজ অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজী পরীক্ষা। বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ এ পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নবে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ ক্ষুদে শিক্ষার্থী। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৩২১ জন। এদিকে প্রশ্ন ফাঁস ও ফাঁসের গুজব ছড়ানো বন্ধে এবার বিশেষ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ কাজ শেষ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ৬৪টি জেলাকে ৮টি গ্রুপে বিভক্ত করে বিতরণ করা হয়েছে আট সেট প্রশ্নপত্র।

পরীক্ষা চলাকলীন আজ সকালে রাজধানীর আইডিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। মন্ত্রী জানিয়েছেন. সমপনীর প্রতিটি পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বেশি রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হবে ২৯ নবেম্বর। সারাদেশে সাত হাজার ৫২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক সমাপনীর জন্য দেশের বাইরে ১১টি কেন্দ্র্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। মোট ছয়টি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে। প্রতি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর সাধারণ পঞ্চম শেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩ জন ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে তিন লাখ পাঁচ হাজার ৪৫১ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষায় ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৩ বেশি। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৫ জন ছাত্র এবং ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ইবতেদায়ীতে এক লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ জন ছাত্র এবং এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশেষ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণ কাজ শেষ করা হয়েছে। ৬৪টি জেলাকে ৮টি গ্রুপে বিভক্ত করে প্রশ্নপত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র বিশেষ নিরাপত্তার সঙ্গে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র উপজেলা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবের নিকট পৌঁছে দেয়া হবে। দুর্গম এলাকার ৩৭৬টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে।

আট সেট প্রশ্নপত্র হচ্ছে ॥ সারাদেশে আট সেট প্রশ্নপত্রে এবার এ পরীক্ষা নেয়া হবে। ৬৪টি জেলাকে ৮টি গ্রুপে বিভক্ত করে প্রশ্নপত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের জেলার জন্য আলাদা প্রশ্ন থাকবে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এ বছর থেকেই প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় নতুন এ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এবার আট সেট প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। কোন আটটি জেলার জন্য কোন সেট প্রশ্ন তা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ছাড়া কেউ জানবে না। এ ব্যবস্থায় কোন জেলায় প্রশ্ন ফাঁস হলেও অন্য কোন জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন সামগ্রিক কার্যক্রম দেখার জন্য মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ৯৫১৫৯৭৭ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ৫৫০৭৪৯৩৯। সমাপনী পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা যাবে না।

পরীক্ষার সময়সূচী ॥ প্রাথমিক সমাপনীতে ২২ নবেম্বর ইংরেজী, ২৩ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২৫ নবেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৬ নবেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৯ নবেম্বর গণিত পরীক্ষা হবে।

ইবতেদায়ী সমাপনীতে ২২ নবেম্বর ইংরেজী, ২৩ নবেম্বর বাংলা, ২৪ নবেম্বর পরিবেশ পরিচিতি সমাজ ও পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান, ২৫ নবেম্বর আরবী, ২৬ নবেম্বর কুরআন ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ্, ২৯ নবেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধেরও বিকাশ ঘটাতে হবে ॥ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধেরও বিকাশ ঘটাতে হবে। তা না হলে মেধা কাজে লাগিয়ে অনেকে খারাপ কাজও করতে পারে। শনিবার ঢাকা কলেজের ১৭৪ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সকালে মন্ত্রী কলেজের ১৭৪ বছর পূর্তি উৎসবের একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালির সূচনা করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা কলেজ জাতির অনেক শ্রেষ্ঠ সন্তান উপহার দিয়েছে। এজন্য এখনও কলেজটি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখতে যা প্রয়োজন তা করা হবে। ইতোমধ্যে সারাদেশে ৭০টি কলেজ বাছাই করা হয়েছে। যেগুলোতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যাব, ক্লাসরুম, ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও অর্থ দেয়া হবে। শিক্ষায় আর্থিক সঙ্গতি কম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এজন্য কলেজগুলোতে শিক্ষক সঙ্কট থাকে। আগামী বছর ঢাকা কলেজের পৌনে দু’শ’ বছর পূর্ণ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গৌরবের। বহু আগের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেছেন। তবে সেই তুলনায় শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও ফলের দিক থেকে ঢাকা কলেজ ভাল করছে।