১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষ মূলত সন্ত্রাসবিরোধী

ধরিত্রী বিপন্ন বটে নানান কারণে, সন্ত্রাসকবলিত হয়ে পড়ছে বিশ্বের অনেক এলাকা। তবু আশার জায়গা সম্পূর্ণরূপে উবে যায়নি। কারণ মানুষ মূলত সন্ত্রাসবিরোধী। মানুষ এমন কোন কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না যা মানুষের মানবিকতাকে আহত করে, মানুষকে সীমাবদ্ধ ও সঙ্কুচিত হতে বাধ্য করে। হরতাল এক সময় মানুষের ন্যায্য অধিকার বলেই পরিগণিত হতো। কালে কালে অধিকার আদায়ের এই পন্থার অপব্যবহারে তার ধার কমে গেছে, বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার হরতাল দিয়েছিল একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় হরতাল ডেকেছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তি। যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে ছিল ওই হরতাল। অথচ মানুষ সেই হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। সারাদেশে কোথাও এই হরতালের প্রভাব পড়েনি। কারণ মানুষ সব সময় অসুন্দরের বিপক্ষেই অবস্থান নেয়, অন্যায্য দাবি মানুষের সমর্থন পায় না। আর হরতালের ভেতর জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঢালাও বিধ্বংসী তৎপরতাকে মানুষ ঘৃণা করে।

দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দুই ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধীর দ- কার্যকর হওয়ার জন্য। ওই দুই মহাঅপরাধীর দলভুক্ত লোকজন বড় ধরনের নাশকতা করতে পারে- এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়। তাই মানুষের ভেতর এক ধরনের উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা কাজ করছে। অত্যাধুনিক এই যুগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগের সহজ সুবিধার দিকটি কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে সাময়িকভাবে ফেসবুক-ভাইবার বন্ধ থাকায়। তবু মানুষ বিরক্ত না হয়ে এই সঙ্কটময় সময় অতিক্রমণের অপেক্ষায়। একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়ে বাংলার সবুজ প্রান্তর রঞ্জিত করেছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের মতো রাজনৈতিক শক্তির নেতাকর্মীরা কেবল গণহত্যা নয়, শহর-বন্দর-গ্রামের অগণিত জনপদ জ্বালিয়ে দেয়, লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হরণ করে। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করেও পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনীর কারও শাস্তি হয়নি এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগীরাও নিজেদের মনে করেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা ভেবেছিল, বিচারের বাণী কেবল নীরবে-নিভৃতে কেঁদে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রায় চার দশক ধরে বুক ফুলিয়ে চলে তারা কেবল আমাদের শোক-ক্রোধের ক্ষতকে আরও খুঁচিয়ে চলে। কাউকে কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের অবিনাশী চেতনায় সঞ্জীবিত বাংলাদেশের জনগণ পরাভব মানতে চায়নি। তারা বরাবর সোচ্চার থেকেছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে। এমন অপরাধ কখনও তামাদি হয়ে যায় না।

এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিম-লে চোখ রাখলে আমরা দেখতে পাই, সন্ত্রাসের হুঙ্কার থামছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীরা। এর জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদাকে নিষ্ক্রিয় করতে যতটুকু সময় লেগেছে তার চেয়ে দ্রুততম সময়ে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র।

মানুষ শান্তি চায়। হানাহানি কারও কাম্য নয়। বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে একাত্তরের পরাজিত শক্তির যে কোন চেষ্টা ব্যর্থ করতে দল ও মতের উর্ধে উঠে স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে তথা দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ সম্পন্ন হতে এখনও আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আগামীতে যত বাধাই আসুক বাংলাদেশ তার পথের কাঁটা সরিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে- এমনই প্রত্যয় ও সঙ্কল্প দেশবাসীর।