২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস নির্মূল করুন

  • বিশ্বের প্রতি জাতিসংঘ ॥ নিরাপত্তা পরিষদে ফ্রান্সের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস

প্যারিস হামলার পর ইসলামিক স্টেটকে নির্মূল করতে বিশ্বের প্রতি ডাক দিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদ ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য চরমপন্থী দলগুলোর আরও হামলা রোধ করতে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে সব জাতির প্রতি আহ্বান জানায়। এ বিষয়ে ফরাসি উদ্যোগে আনীত এক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় সর্ব ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। খবর বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

নিরাপত্তা পরিষদ ইরাক ও সিরিয়ার কোন কোন অংশে স্থাপিত আইএস ও অন্যান্য জঙ্গী দলের নিরাপদ আস্তানাগুলো নির্মূল করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দলিলে জোর দিয়ে বলা হয় সন্ত্রাসীদের হামলা রোধ করে জাতিসমূহের আরও জোরালো ও সমন্বিত চেষ্টা চালানো উচিত।

প্যারিসে হিংসাশ্রয়ী চরমপন্থীদের একযোগে চালানো বন্দুক ও বোমা হামলায় ১৩০ ব্যক্তি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর ওই প্রস্তাব গৃহীত হলো। ইসলামিক স্টেট প্যারিস হামলার দায় স্বীকার করে। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আট দিন আগে বৈরুতে দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৩ ব্যক্তি এবং তিন সপ্তাহ আসে মিসরের সিনাই উপদ্বীপে এক রুশ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৪ আরোহীর সবাই নিহত হন। আইএস ওই দুটি হামলা ও দায় স্বীকার করে। প্রস্তাবটিতে সুসে, তিউনিশিয়া ও আঙ্কারায় সম্প্রতি চালানো হামলাগুলোরও নিন্দা করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, আইএস দল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি এক নজিরবিহীন হুমকি। এতে এ হুমকি রোধ করতে নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্কল্প ব্যক্ত করা হয়। তবে প্রস্তাবটিতে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়নি, কারণ এটির খসড়া জাতিসংঘ সনদের ৭ অধ্যায়ের আওতায় তৈরি করা হয়নি। এ অধ্যায় শক্তি প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট বৈধ ক্ষমতা দিয়ে থাকে। ফ্রান্স ও রাশিয়া যুক্তি দেখায় যে, দেশগুলোর আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলে সামরিক ব্যবস্থা এরই মধ্যে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণিত হয়েছে। জাতিসংঘের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রিকফট বলেন, আজ আমরা দ্ব্যর্থহীন বার্তা পাঠিয়েছি যে, ইসলামিক স্টেটকে রোখা, দমন ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় কোন বিরতি ঘটবে না। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি। জাতিসংঘের ফরাসি রাষ্ট্রদূত গেরার্দ আরাউদ ওই প্রস্তাবকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করে বলেন, সরকার আমাদের অভিন্ন শত্রুকে নির্মূল করার লক্ষ্যে সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা জোরদার করবে। প্রস্তাবে ইরাক ও সিরিয়ায় বিদেশী সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের আসা এবং সন্ত্রাসবাদীদের অর্থযোগান রোধ করার চেষ্টা চালাতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। মার্কিন ডেপুটি রাষ্ট্রদূত মিচেল সাইসন বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের ঐক্য ও আইএসের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দৃঢ় সঙ্কল্প আইএসের আতঙ্ক এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন ব্যর্থ করে দেবে। তিনি বলেন, বিশ্বের সংহতি ও সহযোগিতার ফলে আইএস ও এর মতবাদ পরাজিত হবে। নিরাপত্তা পরিষদের টেবিলে এখন সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত আরও দুটি প্রস্তাব রয়েছে। একটি প্রস্তাব রাশিয়া বুধবার বিতরণ করে। অন্যটি বোকো হারাম সম্পর্কে পরিষদের তিন আফ্রিকান সদস্য শাদ, নাইজিরিয়া ও এ্যাঙ্গোলার আনা প্রস্তাব।

রুশ খসড়াটি কয়েক সপ্তাহ আগে প্রত্যাখ্যাত এক প্রস্তাবের সংশোধিত রূপ। সন্ত্রাস দমন অভিযান চলছে এমন সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে জাতিসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ সেটি প্রত্যাখ্যান করে। এমন সব দেশ বলতে সেটিতে মস্কোর মিত্র সিরিয়া ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি স্পষ্টত ইঙ্গিত করা হয়েছিল।নতুন প্রস্তাবেও একই ভাষা ব্যবহার করা হয়। এটি এক সমস্যা হয়ে রয়েছে বলে পশ্চিমা কূটনীতিকরা মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের রুশ রাষ্ট্রদূত ভিতালি চারকিন শুক্রবার বলেন, তিনি প্রস্তাবটি নিয়ে এগিয়ে যাবেন। ব্রিটেনের রিকফট বলেন প্রস্তাবের পক্ষে অনুমোদন পেতে হলে রাশিয়াকে সিরিয়ায় আসাদের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে পরিষদে বিদ্যমান মতানৈক্য দূর করার লক্ষ্যে খসড়াটিতে পরিবর্তন আনতে হবে।