১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাধারণ মানুষ হত্যা করা জিহাদ নয়॥ ইমরান

  • ‘পাকিস্তানে এখন ধর্মীয় চরমপন্থার প্রভাব স্তিমিত’

‘আমি আপনাদের ঠিক এ কথাটিই বলেছিলাম’ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট তারকা ও বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ইমরান খান এ কথাটি বলতেই পারেন। আমেরিকানদের তিনি ইরাকে আগ্রাসন না চালাতে বলেছিলেন। তিনি তাদের আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালানোর বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালিয়ে ছিলেন। ইমরান খান তাই কথাটি এখন বলতে পারছেন যেÑ ‘দেখুন এখন কী অবস্থা’। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে কী অর্জিত হলো? নিজের বাসায় নিউইয়র্ক টাইমসকে কথাগুলো বলছিলেন ইমরান খান।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন আল কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশারফের একজন কট্টর সমালোচক ছিলেন ইমরান। এ কারণে মোশারফও তার প্রতি যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন। মোশারফ ইমরানকে একবার ‘শশ্রুবিহীন সন্ত্রাসী’ অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেন, তারা (মোশারফ সমর্থকরা) আমাকে তাকে ‘তালেবান খান’ পর্যন্ত নাম দিয়েছিল। গত প্রায় এক বছর যাবত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিগত অনেক বছরের মধ্যে বেশ ভাল রয়েছে। ইমরান খান ইঙ্গিত দিচ্ছেন শেষ হাসিটি সম্ভবত তিনিই হাসবেন।

লাহোরে একটি পাহাড়ের ওপর ইমরান খানের বাসা। সামনে দূরে রাজধানী ইসলামাবাদ দেখা যায়। এখানে বসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানকে আরও বেশি কিছু করার জন্য চাপ দিচ্ছিল, দেশ তখন ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে বেশি করে ঝুঁকছিল। কিন্তু পাকিস্তানে এখন ধর্মীয় চরমপন্থীদের প্রভাব যথেষ্ট স্তিমিত। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে বেশিরভাগ সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন একসঙ্গে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না।’ গত বছর ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবানের হামলায় প্রায় দেড় শ’ ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক হত্যার পর জঙ্গী দমনে সরকারকে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে- এ কথা স্বীকার করে ইমরান খান বলেন, ‘এটি এখন আর জিহাদ নয়। এ হলো নিজের জনগণকে হত্যা করা।’ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি ইমরানের জনপ্রিয়তার অন্যতম ভিত্তি। ক্রিকেটার হিসেবে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতেছে। কিন্তু ক্রিকেটের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা পাননি। তার প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক দিন পর্যন্ত কোন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ছিল না। কিন্তু দলটি গতবারের সাধারণ নির্বাচনে অনেক আসন পায়। দেশটির দুটো প্রধান রাজনৈতিক দলকে চমকে দিয়ে পিটিআই প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে চলে আসে। দলটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সরকার গঠন করে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস