২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেনা বা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন ছিল ঘাসনার

প্যারিস হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত আবদেল হামিদ আবাউদের জ্ঞাতি বোন হাসনা আইতবুলাসেন দেশটির সেনা বা পুলিশ বহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বুধবার প্যারিস শহরতলীর একটি ফ্ল্যাটে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে আবাউদের সঙ্গে হাসনাও নিহত হন।

প্যারিস শহরতলী সঁ দেনির যে ফ্ল্যাটকে ঘিরে জঙ্গীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র লড়াই চলে, সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় হাসনা আইতবুলাসেনের মৃতদেহ। ২৬ বছর বয়সী হাসনা আত্মঘাতী বোমারু ছিলেন না বলে পরে জানা গেছে। হাসনার ছোটবেলার বন্ধুরা শুক্রবার টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেন, হাসনা ছোটবেলা থেকে সেনা বা পুলিশ বহিনীতে যোগ দেয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার প্রতিবেশীরাও একথা জানিয়েছেন। তারা জানান, হাসনা তাদের বলেছেন, তিনি সেনাবাহিনীতে ভর্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কাছে এ রকম কোন তথ্য নেই। আউলনি সু বয় শহরতলী এলাকার বাসিন্দা করিম বলছেন, হাসনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ফ্রান্সের সেবা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তার চিন্তার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে সিরিয়া। করিম যে এলাকায় বসবাস করেন সেটি মাদক ও সহিংসতার জন্য পরিচিত। করিম অবশ্য তার পারিবারিক নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেছেন, হাসনা ছয় মাস স্কার্ফ পরার অভ্যাস করলেও তার আগে তিনি মাদকের দিকে ঝুঁকেছিলেন। মাদক নিয়ে পুলিশের সঙ্গে হাসনার সম্পর্কও ভাল ছিল না। এক সময় কোকেনের ওপর তার প্রবল আসক্তি ছিল। তিনি ‘কাউগার্ল’ নামেও বন্ধুমহলে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ধর্মীয় রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

হাসনার বয়স যখন ৮ বছর তখন তার বাবা-মায়ের সম্পর্কচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত হাসনা এক পালক মায়ের কাছে বড় হন। এ সময় হাসনা প্রতিমাসে একবার তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। -টেলিগ্রাফ