২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাতাদের সমন্বয়হীনতা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর এবার দৃষ্টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের দিকে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালে গিয়ে শেষ হবে পনেরো বছরব্যাপী নতুন এই বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন কার্যক্রম।

এ অবস্থাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী টেকসই উন্নয়নের প্রথম সোপান, আর নতুন করে তৈরি হবে ভিশন ডকুমেন্ট-৩০। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বাধাগ্রস্ত করতে পারে উন্নয়নের নতুন এই লক্ষ্যমাত্রাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিজস্ব চাহিদা পূরণের দক্ষতায় আপোস না করে যে উন্নয়ন, বর্তমানের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম তাকেই বলা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশ, ১৭ দফা পরিকল্পনা সামনে নিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে নতুন এই বৈশ্বিক এজেন্ডা। এই ১৭ দফার মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, গুণগত শিক্ষা, সুশাসনসহ বিভিন্ন এজেন্ডা রয়েছে যা বর্তমানের হয়েও ভবিষ্যৎ অভিমুখী।

টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ঠিক করে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য প্রফেসর শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা আগামী ১৫ বছরের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হব। আমরা এই লক্ষ্যে একটি ভিশন ডকুমেন্ট-২০৩০ তৈরি করতে যাচ্ছি।’ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র দারিদ্র্য নয়, কমাতে হবে বৈষম্য। এছাড়া সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বাধাগ্রস্ত করতে পারে টেকসই উন্নয়ন ধারাকে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যারা প্রবৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সঙ্গে অতীতে খুব একটা সম্পৃক্ত হতে পারেননি তাদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এবং সেই সঙ্গে পরিবেশের দিকে নজর রেখে সবাইকে সম্পৃক্ত করে প্রবৃদ্ধি যাতে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারে সেটাই হচ্ছে এখন মূল এজেন্ডা।’

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য যেটা দরকার, সেটা হচ্ছে সূচকগুলো নির্ধারণ করা এবং অর্থায়নেরও দরকার আছে। একটা হচ্ছে, নিজেদের অর্থায়ন যতটা আমরা করতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে আর হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিম-ল থেকে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকে নজর দিতে হবে।’ টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ তার অগ্রাধিকার ঠিক করে, দেশীয় চিন্তা প্রসূত অর্থনৈতিক ভাবনায় সামনে এগিয়ে যাবে, এমন আশা সকলের।