১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে সাগর পারে বে-টার্মিনাল নির্মাণে কোন বাধা নেই

  • আলোচনা অনুষ্ঠানে গণপূর্তমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে সাগর পারে বে-টার্মিনাল নির্মাণে কোন বাধা নেই। তবে পাশাপাশি একটি স্মার্ট সিটি গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর আদলে চট্টগ্রাম নগরীতেও একটি পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেক্ষেত্রে বে-টার্মিনাল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের ভারী যানবাহনগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সড়ক ব্যবহার করতে পারবে না।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শনিবার সকালে চট্টগ্রাম ক্লাবে আয়োজিত এক সভায় একথা জানান। নান্দনিক চট্টগ্রাম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তিনি ‘সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার জনপদ হোক চট্টগ্রাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি পরিকল্পিত নগরায়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সাগর পারে নান্দনিক গ্রীন সিটি গড়ে তুলতে চাই। বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানে বে-টার্মিনাল করতে চায়। এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে বন্দরের ভারী যানবাহনগুলো আমাদের সড়ক ব্যবহার করতে পারবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষও এ শর্ত মেনে নিয়েছে। ফলে আমরা অনুমতি দেব। সাগর পারে বে-টার্মিনাল নির্মাণে এখন আর কোন বাধা নেই। গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্বের অনেক পর্যটন নগরীর চেয়েও সুন্দর। এমনকি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে এটি সিঙ্গাপুরের চেয়েও সুন্দর শহর হতে পারে। নান্দনিক শহর গড়ার জন্য তিনি নাগরিকদের সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা বিদেশে ঠিকই নিয়মকানুন মেনে চলি। কিন্তু নিজের দেশে যত্রতত্র ময়লা ফেলি। সকলের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা না থাকলে শুধু সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনের জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির ওপরও জোর দেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান নান্দনিক-এর কর্ণধার তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে আরও আলোচনা করেন চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আলিয়ঁস ফ্রঁসেস চট্টগ্রামের পরিচালক রাফায়েল ইয়েগার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিরিন আক্তার প্রমুখ। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সাগর পারে বে-টার্মিনাল নাকি স্মার্ট সিটি হবে এ নিয়ে চলে আসছে এক ধরনের রশি টানাটানি। বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় রয়েছে বে-টার্মিনাল, যা বাস্তবায়িত হলে অনায়াসে ভিড়তে পারবে পণ্যবাহী বড় জাহাজ। অপরদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর পরিকল্পনায় বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর আদলে দৃষ্টিনন্দন একটি স্মার্ট সিটি, যেখান থেকে সাগরের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যাবে। এটি করা গেলে চট্টগ্রাম সত্যিকারের পর্যটন নগরীর পথে একধাপ এগিয়ে যাবে। সার্বিক বিবেচনায় কোনটি বেশি জরুরী তা নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি। অবশেষে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ নিজেই জানালেন যে, বে-টার্মিনাল হতে বাধা নেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ৯০৭ একর আয়তনের জমিতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে জোরালো দাবিও রয়েছে আমদানি-রফতানিকারক তথা বন্দর ব্যবহারকারীদের। কেননা, ১৮৭ বছরের প্রাচীন চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান বহির্নোঙ্গর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উজানে। প্রাকৃতিক এই বন্দরটি জোয়ার ভাটা নির্ভর। ফলে আসা যাওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে থাকতে হয় জোয়ারের অপেক্ষায়। নদী পথে দুটি বাঁক থাকায় জাহাজ চলাচলে ঝুঁকিও রয়েছে। রাতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় নাইট নেভিগেশন বন্ধ। সব মিলিয়ে জাহাজ আসা যাওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সময় পাওয়া যায় সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা। তাছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষও মনে করছে, বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে দেশের আমদানি-রফতানিকে আর বেশি দিন সার্ভিস দেয়া সম্ভব হবে না। দেশের চাহিদার প্রেক্ষিতে আগামী ২০১৯ সালে সক্ষমতার ঘাটতি হবে প্রায় আড়াই লাখ টিইইউএস কন্টেনার। আর ২০২২ সালে সেই ঘাটতি পৌঁছাবে ১০ লাখ টিইইউএস কন্টেনারে। এসব বিবেচনায় রেখে দ্রুততার সঙ্গে বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের বিপাকের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য এমএ লতিফ এমপি এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, আবাসিক এলাকা গড়ার জন্য অনেক জায়গা পাওয়া যাবে। কিন্তু বন্দর যেখানে সেখানে করা যায় না। বন্দর গড়তে হবে সাগর পারে। আবাসিক এলাকা হলে তা হবে শুধুই চট্টগ্রামের। তা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু বন্দর হলে তা হবে পুরো দেশের। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরী। অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে বে-টার্মিনালই নির্মিত হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা রয়েছে।