২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেডিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট বাণিজ্য ॥ ৬ ক্লিনিককে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডাক্তার তাহমিনা সকালে ক্লিনিকেই যাননি। অথচ তার স্বাক্ষরেই ওই ক্লিনিক থেকেই একটি সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে এক প্রবাসগামী যুবককে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাহমিনা গত কদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে যাননি। তিনি অগ্রিম স্বাক্ষর করে রেখে গেছেন কয়েকশ প্যাড। যাতে রোগীর নাম বসিয়ে দিয়েই সার্টিফিকেট দেয়া হয়। র‌্যাব শনিবার রাজধানীর ফকিরাপুলে অভিযান চালিয়ে এমন ৪ হাজার প্যাড উদ্ধার করে। এসব প্যাড দিয়ে মেডিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট বাণিজ্য করা হচ্ছে। বিদেশ যেতে হলে প্রত্যেকেরই এ ধরনের সার্টিফিকেট লাগে। এ সুযোগটাকেই কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছিল এ বাণিজ্য।

র‌্যাব পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ধরনের বাণিজ্য করার দায়ে শনিবার দুপুরে ফকিরাপুলের ৬টি ক্লিনিককে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এগুলো হচ্ছে মডার্ন ডায়াগনস্টিকস, দেশ ডায়াগনস্টিকস, সুমাইয়া ডায়াগনস্টিকস, বেস্ট ডায়াগনস্টিকস, আলামিন ডায়াগনস্টিকস ও বেনগাজী ডায়াগনস্টিকস।

র‌্যাব-৩ পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম সারওয়ার জনকণ্ঠকে জানান, এসব ডায়াগনস্টিকস সেন্টারে প্রতিদিন শত শত সার্টিফিকেট বিক্রি করা হতো। প্রতিটি সার্টিফিকেট ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করত তারা। বিদেশ যেতে শারীরিক যোগ্যতার জন্য এসব সেন্টার থেকে সার্টিফিকেট বিক্রি করা হচ্ছিল।

গোলাম সারওয়ার বলেন, কতগুলো সুনির্দিষ্ট রোগের প্রেসক্রাইবড ফরমে ডাক্তারের অগ্রিম স্বাক্ষর করা আছে। সেগুলোতে শুধু যাত্রীর নাম বসিয়ে সার্টিফিকেট দেয়া হয়-তিনি সুস্থ। তার শরীরে বড় ধরনের কোন রোগ বালাই নেই।

তিনি জানান, অভিযানের সময় দুজন ডাক্তারের স্বাক্ষর করা কয়েক হাজার প্যাড উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন নিপসমের ডাক্তার তাহমিনা ও পুলিশ হাসপাতালের ডাক্তার নজরুল ইসলাম। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। তাহমিনা জানালেন-শনিবার সকালে তিনি ওই ক্লিনিকে যাননি। তাহলে কিভাবে তার স্বাক্ষর করা হলো।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এ পল্টন ও ফকিরাপুল এলাকায় কয়েকটি ক্লিনিকে এ ধরনের ফেইক সার্টিফিকেট বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। ডাক্তারের যোগসাজশে অসাধু ক্লিনিকগুলো এভাবে রাতারাতি কোটিপতি সেজে যাচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।