২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিলেটে জলমহাল নিয়ে উত্তেজনা

  • দুই পাহারাদার হত্যায় পুলিশ নীরব

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ কোম্পানীগঞ্জ ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর বিল’ জলমহাল থেকে সশস্ত্র পাহারায় মাছ লুটপাটের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুই পাহারাদার নিহত হওয়ার ২০দিনেও কোন সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়নি। উপরন্তু হামলাকারীদের সশস্ত্র পাহারায় জলমহাল থেকে মাছ লুটপাট নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ পৃথকভাবে একই জলমহাল দুই পক্ষকে ইজারা দেয়ায় ইজারাদার দুই পক্ষ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে প্রথম দফায় ৬বছরের জন্য ইজারা নিয়ে শিমুলতলা নোয়াগাঁও অগ্রগামী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি হাইকোর্ট থেকে তাদের পক্ষে স্থিতাবস্থার আদেশ পেয়েও রক্ষা পায়নি। জলমহালে দখলরত অবস্থায় বনবিভাগের ইজারদার পক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় গত ৩১ অক্টোবর গুলিবিদ্ধ হয়ে বিলের দুই পাহারাদার নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।

শিমুলতলা নোয়াগাঁও অগ্রগামী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল হক সরকার বলেন ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর বিল’ দখল নিয়ে গত ৩১ অক্টোবর বন বিভাগের ইজারাদার বিএনপি নেতা তোরাব আলীর নেতৃতে আমাদের লোকজনের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিলের পাহারাদার শেখ ফরিদ ও আবদুল খালিক নামের দুইজন নিহত ও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি বলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর’ জলমহালটির সংস্কার ও উন্নয়নের স্বার্থে ২০১০সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে ৬ বছর মেয়াদী ইজারা গ্রহণ করেন তারা। পরবর্তী সময়ে বিপত্তি বাধিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) দেলওয়ার হোসেন। প্রথমে তিনি ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর’ এর আওতাধীন সকল দাগ ব্যতীত বনবিভাগের মালিকানা অন্য একটি মহালকে ইজারা প্রদান করেন। ক্রমশ তিনি ইজারার আওতায় নিয়ে আসেন ‘ছোট দুলাইন সিংগাইর’ জলমহালস্থ দাগ। বনবিভাগ থেকে ওই মহালের ইজারা গ্রহণ করেন বিএনপি নেতা তোরাব আলী। ইজারাদার তোরাব আলী ওই দাগের দখল দাবি করলে এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। মামলায় জেলা প্রশাসনের ইজারাদারের পক্ষে স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে লিভ টু আপীল করে বনবিভাগ। আপীল বিভাগের ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবরের আদেশে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা বহাল রাখে সুপ্রীমকোর্ট। হাইকোর্ট ও সুপ্রীমকোর্টের আদেশ ও স্থিতাবস্থা লংঘন করে বনবিভাগের ইজারাদার পক্ষের লোকজন জলমহালে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসনের ইজারাদার পক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের পক্ষে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। তা অমান্য করে ৩১ অক্টোবর জলমহালে গিয়ে গোলাগুলি করে দুইজনকে হত্যা করে বন বিভাগের ইজারাদার।

আবদুল হক সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাঞ্চল্যকর দু’টি হত্যাকাণ্ড হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করছে না। পুলিশের রহস্যজনক নীরবতায় আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সন্ত্রাসীরা আমাদের জলমহালে অনধিকার প্রবেশ করে সশস্ত্র পাহারায় মাছ লুটপাট করছে।