২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুয়াকাটায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে জমি দখল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২১ নবেম্বর ॥ কুয়াকাটায় জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপির ভাগ্নের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। দখল জমিতে চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, ভাগ্নে সাদেকুর রহমান সরকারসহ ৬ জনের নাম লেখা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে, দখলকৃত জমির মালিকানা নিয়ে হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে স্থানীয়দের আদালতে মামলা চলছে। এতে জমি দখল করতে বাউন্ডারি দেয়াল করতে গেলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনও এ নিয়ে রয়েছে বিপাকে। অপরদিকে সাদিকুর রহমান জানান, ৭-৮ বছর আগের কেনা জমিতে বাউন্ডারি দিতে গেলে স্থানীয় ভূমিদস্যু শাহআলম শেখ তার বাহিনী নিয়ে হামলা করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে ওই জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।

শাহআলম শেখ জানান, চীফ হুইপের ভাগ্নে সাদিকুর রহমান সরকার ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় ও বায়না সূত্রে মালিকানা দাবি করলেও অনেক বেশি জমি দখলে নিয়েছেন। সেখানে তিন দিন আগে শুরু হয় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের কাজ। জাতীয় সংসদের চীফ হুইপের নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জমি দখলের খবরে কুয়াকাটাসহ কলাপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হুইপের ভাগ্নে মোঃ সাদিকুর রহমান সরকার জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আট বছর পূর্বে নবোদয় হাউজিংয়ের সাগর নীড় প্রকল্পের জমি কিনেছেন। কয়েকজন মিলে সমিতি করেছেন, ওই সমিতির নামে জমি কেনা হয়েছে। যেখানে মামা (চীফ হুইপ) সমিতির সদস্য, তাই সাইনবোর্ডে তার নাম দিয়েছেন। তার জমিতে দেয়াল করতে গেলে শাহআলম শেখ গ্রুপ তার নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর করতে তেড়ে আসে। তার দাবি এ চক্রের কারণে কুয়াকাটায় বাইরের লগ্নিকারকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। জানা গেছে, কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা ও মীরাবাড়ি সংলগ্ন লতাচাপলী মৌজার ২৭৯৯নং খতিয়ানের ৫১২৬নং দাগে এবং এসএ ১৪৭, ২২০ ও ১৩৬নং খতিয়ানের প্রায় ২৪ একর জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। নবোদয় হাউজিং কোম্পানি ২০১০ সালে ওই জমি নামমাত্র মূল্যে কিনে ‘সাগর নীড় প্রকল্প’ নামে প্লট করে তা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে প্লট বুঝিয়ে দেন। কিন্তু জমির মালিকানার কাগজপত্র নিয়ে ওই খতিয়ানের প্রায় শতাধিক শরিক তাদের জমির দখল নিতে এলেও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ব্যর্থ হয়। এ সকল ওয়ারিশদের মধ্যে অনেকেই কাগজপত্র নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলে নবোদয় হাউজিং কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকরা পক্ষ হয়ে আবার আদালতে আপীল করেন। অনেকে কোন উপায় না পেয়ে পটুয়াখালী জেলা ও কলাপাড়া উপজেলা লেভেলের প্রভাবশালী কয়েক নেতার কাছে বিক্রি করে দেন। প্রভাবশালী ক্রেতারা জমির মালিকদের নিয়ে কয়েকটি প্লটের দখল নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। একই জমি দখল পাল্টাদখলের কারণে কুয়াকাটায় এখন জমির মালিকরা আতঙ্কে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাগর নীড় প্রকল্পের কাছ থেকে যারা প্লট কিনেছে তারা।