২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গল্পে কবিতায় বিকেলের আড্ডা

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আড্ডার পসরা। ক্যাম্পাস যেন মুহূর্তের মধ্যইে হয়ে ওঠে আরও প্রাণময়। আস্তে আস্তে বিকেলটা ধূসর হয়ে উঠছে, একটু পরেই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে যাবে সূর্যটা, এমন একটা বিকেলে আড্ডা না দিলে যেন সারাদিনটাই মাটি। তাই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা জমায়েত হতে থাকে বটতলা, টারজান, ট্রান্সপোর্ট, মেডিক্যাল, মুক্তমঞ্চসহ বিভিন্ন আড্ডাস্থলে। কোথাও কথা হয় ক্যারিয়ার নিয়ে, কোথাও চলে দলবেঁধে গান, কোথাও আবার চা খেতে খেতে নিছকই আড্ডা। এসব কোলাহলময় আড্ডার মধ্যেও কেউ কেউ আবার ভালবাসে কবিতা, গল্প, এককথায় সাহিত্য। এই সাহিত্যপ্রেমী তরুণ-তরুণীদেরই সংগঠন ‘চিরকুট’। সপ্তাহ ঘুরে বুধবার এলেই চিরকুটের আয়োজনে আনুষ্ঠিত হয়ে যায় একেকটা জমজমাট সাহিত্য আড্ডা, যেখানে শুধু ক্যাম্পাসেরই নয়; আড্ডা দিতে ছুটে আসে দূর-দূরান্তের নবীন-প্রবীণ সাহিত্যিকরাও। ফেসবুকে আগের দিনই জানিয়ে দেয়া হয় আড্ডার স্থান ও সময়। সময় হওয়ার আগেই কবিতাপ্রেমীরা জমায়েত হতে থাকে পূর্বনির্ধারিত আড্ডাস্থলে। এরা কখনও আড্ডা দেয় ক্যাফেটেরিয়ার বারান্দায়, কখনও সপ্তম ছায়ামঞ্চে, কখনও টিএসসি, কখনও আবার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। আলোচনা হয় নিজেদের লেখা নিয়ে, দেশের সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে। শুধু তাই নয়, এখানে আলোচনা হয় আলোচিত সাহিত্য এবং বিশ্বসাহিত্য নিয়েও। আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বির্তকের মধ্য দিয়ে বিষয়টি যেমন ঝালাই করে নেয়া যায়, তেমনি নিজেদের জ্ঞাত থাকে বিশ্বসাহিত্যের খুঁটিনাটি। সাহিত্যের আড্ডার মতো প্রাণচঞ্চল ও জমজমাট আড্ডা আর কোথাও হয় না হযত। আড্ডা শুরু হলে যেন শেষই হতে চায় না। শুধু নিছক আড্ডাই নয়, এই তরুণদের হাতেই বের হয় সাহিত্যরে ছোট কাগজ ‘চিরকুট’, যা প্রতিনিধিত্ব করে ক্যাম্পাসের তরুণ সাহিত্যিকদের সাহিত্যচর্চার র্বতমান অবস্থা। অনাচার, অবিচার ও মৌলবাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার কণ্ঠ উচ্চারিত হয় এখান থেকেই। গল্প-কবিতার আড্ডাবাজ এই তরুণরা শীঘ্রই বের করতে যাচ্ছে লেখক-প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে চিরকুটের প্রতিবাদী বিশেষ সংখ্যা। প্রতি বুধবাররে মতো গত বুধবারও শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক জমজমাট সাহিত্য আড্ডা। কবি মাসুম মুনাওয়ারের সঞ্চালনায় ক্যাম্পাসের সাহিত্যিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- কবি কামরুল হুদা পথিক, কবি শাফি সমুদ্র, গল্পকার ঋষি এস্তেবানসহ আরও অনেকে। তারাও বলেন, এই আড্ডাবাজ তরুণদের থেকেই একদিন কেউ কেউ হয়ত হয়ে উঠবে তুখোড় গল্পকার, দেশসেরা কবি।

হাসানুজ্জামিল মেহেদী

নির্বাচিত সংবাদ