২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কটে ফ্রান্সের অর্থনীতি

তানজিনা আক্তার

বিপর্যয়ের মুখে ফ্রান্সের অর্থনীতি। দীর্ঘ কয়েক বছর মন্দার মধ্যে কাটিয়ে দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার কারণে আবারও মন্দার হুমকিতে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। আইএস জঙ্গীরা একযোগে দেশটির সাতটি স্থানে হামলা চালালে ১২৯ জন মানুষ মারা যান এবং আহত হন দুই শতাধিক। এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কারণে বিশ্বজুড়েই চলছে শোকের মাতম। দেশটির সর্বত্রই থমথমে অবস্থা। পর্যটক থেকে শুরু করে বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও ভুগছেন আতঙ্কে। ফলে দেশটির অর্থনীতিতেও কালো ছায়া উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পর্যটন খাতে ধস এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণেই মূলত তাদের এই আশঙ্কা।

দীর্ঘসময় ধরে মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সবে দেশটি প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছিল। অথচ সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এবং আরও হামলার হুমকি দেশটির অর্থনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারের দিকে। এ বিষয়ে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিশেল সাপাও বলেছেন, ‘তৃতীয় প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক তিন শতাংশ; যা অর্থনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের আভাস দিচ্ছিল। এ সবকিছুই ছিল সন্ত্রাসী হামলার কয়েক ঘণ্টা আগের অবস্থা। এখন সবই এলোমেলো।’

ফ্রান্স বিশেষ করে প্যারিস বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন গন্তব্য। এ খাত থেকেই দেশটির মোট জিডিপির আট শতাংশ অর্জিত হয়। গেল বছর দেশটিতে ৮ কোটি ৪০ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছিল। কিন্তু ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ফ্রান্স ত্যাগ করেছেন। যারা প্যারিসে আসার জন্য বিমানের টিকেট কেটেছিলেন, তারা তা ফেরত নিচ্ছেন। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে দেশটির পর্যটন খাত হুমকির সম্মুখীন। পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য খাতগুলোও হুমকির মুখে। দেশটির ভোক্তা আস্থা ও ব্যয়ও কমে যাচ্ছে। হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগ উঠিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন। সবমিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি যে আবারও মন্দায় পড়তে যাচ্ছে, এমন শঙ্কাই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বছরের জানুয়ারিতে কার্টুন ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর অফিস ও ইহুদীদের একটি মার্কেটে হামলার পর দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছিল ফ্রান্স। কিন্তু এবারের হামলার ভয়াবহতা এতটাই ব্যাপক যে, দেশটির অর্থনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ গ্রে বেকার মনে করছেন এখনই এতটা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার পর অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। সবকিছুই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কেমন হবে তার ওপর। নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় কোন ছাপ ফেলতে পারেনি। সেটা সম্ভব হয়েছে আমেরিকানদের সংঘবদ্ধতার কারণে। আশা করছি ফ্রান্সবাসীও সংঘবদ্ধ থেকে এই দুঃসময় মোকাবেলা করবে।’