২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দুর্নীতি দমনে বড় শর্ত সুশাসন’

অনলাইন রিপোর্টার ॥‘দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় শর্ত হলো সুশাসন। দুর্নীতিহীন প্রশাসন না হলে সুশাসন সম্ভব নয়’— এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

‘দুদকের একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২০১৫’ উপলক্ষে রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অডিটোরিয়ামে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র সমস্যা। সমাজের ৫ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকি ৯৫ শতাংশ মানুষ সচেতন হলেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে বড় কথা হলো সরকারের সদিচ্ছা। সরকার যদি একান্তভাবে দুর্নীতি দমন করতে চায় তবেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন শতভাগ কোনো সমাজেই সম্ভব নয়। তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দুদকের গত ১০ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে তাতে আমরা কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে পারি।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাজে সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতাও রয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে এক হাজার ৭৩ জন কাজ করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৩০০ জন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের কাজে জড়িত। এতো স্বল্প সংখ্যাক লোক দিয়ে এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’

বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্নীতি লাঘবের জন্য। দাতাগোষ্ঠীদের চাপে ওই সময়ে (২০০৪ সালে) কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু কমিশন গঠন করা হলেও তাকে নির্জিব করে রাখা হয়। দৃশ্যমান কোনো কর্মকাণ্ডই সে সময় পরিলক্ষিত হয়নি।’

অনুষ্ঠানে দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন, ফরিদ আহমেদ ভূইয়া, জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মো. মইনুল ইসলাম, পরিচালক নিরু শামসুন নাহার, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্যসহ কমিশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২১ নভেম্বর দুদকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় রবিবার এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।