২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপকল্প-২১ দ্রুত বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ

  • আট অগ্রাধিকার চিহ্নিত ;###;কাল পর্যালোচনা বৈঠক

এম শাহজাহান ॥ রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে ‘শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ’ নামে একটি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। জীবনমান উন্নয়ন ও দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে এ কর্মসূচীতে আটটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতগুলো হচ্ছেÑ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, যা আগামী বছরে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, এরপরই রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুত, কমিউনিট ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ এবং সামষ্টিক নিরাপত্তা কর্মসূচী। এই আট কর্মসূচী দ্রুত বাস্তবায়নে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি পর্যালোচনা সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। ওই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগ দিতে নির্দেশ প্রদান করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠিও দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মনে করছে, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং এসডিজি অর্জনে এসব খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এ সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) মূল ভাবনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সার্বজনীন মানব উন্নয়ন চিন্তার ব্যাপক মিল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনা কার্যকরভাবে উপস্থাপন করে সকল কর্মকা-ে বিভিন্ন স্তরের নাগরিকগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত আশু করণীয় ও কর্মকৌশল নির্ধারণে আগামীকালের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, ভিশন-২১ বাস্তবায়ন এবং এসডিজি অর্জনে এ আট অগ্রাধিকার খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। চলতি বাজেটেও এসব খাত বাস্তবায়নে যথেষ্ট বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আগামীতে যে বাজেট আসছে সেখানেও এগুলো অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ কর্মসূচীতে এ আট খাত অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ঘোষিত সময়ের মধ্যেই রূপকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

জানা গেছে, রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদেই সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ ও ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। আর সরকারের ধারাবাহিকতায় এখন ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া ভিশন-২১ সামনে রেখে ইতোমধ্যে সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ওই সময়ে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করে শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসা, দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯-১০ এর মধ্যে নিয়ে যাওয়াসহ এসডিজি অর্জনে সাফল্য পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্রতি এক সভায় বলেন, ১৯৭১ সালের বিজয়ের ধারাবাহিকতায় জাতি আজ অর্থনৈতিক মুক্তিলাভের মাহেন্দ্রক্ষণে উপনীত। এ অগ্রযাত্রায় বিগত সাত বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এখন সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে রূপকল্প ভিশন-২১ বাস্তবায়ন। এছাড়া দেশকে পুরোপুরি দারিদ্র্যমুক্ত করা। আশা করছি, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনেও সাফল্য পাবে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বিগত বছরের সমতুল্য অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকার সক্ষম হবে।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের মেয়াদে গত সাত বছরে দেশী-বিদেশী প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বড় শিল্প নিবন্ধিত হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ লাখ বেকার মানুষের। এছাড়া ওই সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন কলকারখানা ফের চালু করা হয়েছে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার পাশাপাশি আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্যগুদামের ধারণ ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৯ লাখ টনে উন্নীত করা হয়। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দু’দফায় ১৬০০ টাকা বাড়িয়ে ৫৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অষ্টম পে-স্কেলে সরকারী চাকুরেদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮-৯ শতাংশে নিয়ে যেতে গৃহীত অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। ২০২১ সাল নাগাদ দেশের বিদ্যুত চাহিদা ২০ হাজার মেগাওয়াট ধরে নিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করবে বলে সরকার আশা করছে। পাশাপাশি আগামী বছরের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, ২০২১ সালের মধ্যে সকল মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, বেকারত্বের হার বর্তমানে ৪০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ওই সময়ের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৪৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।