২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এডিবি ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা দেবে

  • চুক্তি স্বাক্ষর, ডিসেম্বরে প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাজেট সহায়তায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার (২৫ কোটি ডলার) বাজেট সহায়তা চুক্তি করেছে সরকার। এ ঋণ পেতে শেয়ারবাজার সংস্কারে নতুন ২৬ শর্তের মধ্যে ১০টি পূরণ করায় এ চুক্তি হয়েছে। রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ ও এডিবির কান্ট্রি ডাইরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি।

চুক্তি শেষে সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যেই দশটি শর্ত পূরণ হয়েছে, ফলে ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা ছাড় করবে সংস্থাটি। বাকি শর্তগুলো পূরণ সম্ভব। এসব শর্ত পূরণ করা হলে আমাদেরও তো লাভ হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ে। তাই আমরা আগে থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব বলেই এই ঋণে সম্মতি দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত ২০ নবেম্বর এডিবির বোর্ড প্রথম কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে।

কাজুহিকো হিগুচি বলেন, বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি অর্থবছর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষে ২০২০ সালে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্য পূরণে সরকারকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পুঁজি বাজার উন্নয়ন। আমরা চাচ্ছি এর মাধ্যমে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ বাড়বে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচী (সিএমডিপি-৩) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে বাজেট সহায়তার এ অর্থ পাওয়া যাবে। এ জন্য পুঁজিবাজারসহ আর্থিক খাতের সংস্কার-সংবলিত মোট ২৬টি শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরের মধ্যে ১০টি শর্ত পূরণ হলে ৬৫০ কোটি টাকা। পরবর্তী ১৬ শর্ত পূরণ হলে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ছাড় করবে এডিবি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ করবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এডিবির বেঁধে দেয়া শর্তের মধ্যে পুঁজিবাজার বিষয়ক আইনকানুন সংশোধনের বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- সিকিউরিটি এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জনবল বৃদ্ধিসহ সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালীকরণ এবং এসইসির সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা, পুঁজিবাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা এবং পুঁজিবাজারের নির্দিষ্ট আয়ের ওপর কর মওকুফ সুবিধা প্রদান।

শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে বীমা খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন। আইডিআরএ’র জনবল কাঠামো ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া স্বাধীন ফাইন্যানন্সিয়াল কাউন্সিল গঠন করার শর্ত দেয়া হয়েছে। যারা আর্ন্তজাতিক মান সম্পন্ন অডিট করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনকানুন হালনাগাদেরও প্রস্তাব রয়েছে এডিবির শর্তে। এসব সংস্কারমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে এডিবি। এ জন্য অতিরিক্ত সাত লাখ ডলার অনুদান সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।