১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঋষিজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন গুণীজনকে সম্মাননা

ঋষিজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন গুণীজনকে সম্মাননা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সময়টা ছিল ১৯৭৬ সালের ২২ নবেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যাত্রা শুরু করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী। সময়ের বহমানতায় সংগঠনটি পেরিয়েছে প্রতিষ্ঠার ৩৯টি বছর। সাফল্যের স্মারক হিসেবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রবিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে তিন গুণীজনকে প্রদান করা হয় ঋষিজ সম্মাননা। তারা হলেনÑ শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান, সংস্কৃতিতে সৈয়দ হাসান ইমাম ও সঙ্গীতে ফাহমিদা খাতুন। গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নৃত্যের নান্দনিকতায় সাজানো অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত বরেণ্য গীতিকবি নয়ীম গহরকে।

হেমন্তের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন ঋষিজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর। সংবর্ধনা প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন তিন গুণীজন। সম্মাননা স্মারক প্রদানের পাশাপাশি তাদের পরিয়ে দেয়া হয় উত্তরীয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষক ও সাংবাদিক সাখাওয়াত আলী খান বলেন, এপার-ওপার বাংলা মিলে আমরা বাঙালী সংস্কৃতিকে রক্ষা করে চলেছি। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরা হিন্দীর কাছে আত্মসমর্পণ করে বসেছে। তাই বাঙালী সংস্কৃতিকে অটুট রাখবার কাজটি এ বাংলায়ই সম্পাদন করতে হবে। এসব কাজে ঋষিজের মতো সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, আমার জীবনে কোনকিছুর প্রতি বিশেষ আকাক্সক্ষা ছিল না। তাই প্রাপ্তি নিয়ে কোনরকম হতাশায় ভুগতে হয়নি। আমি সব সময় মানুষের কাছে থাকতে চেয়েছি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমরা যে সময়ে বেড়ে উঠেছি তখন শিশুরা মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারত আজ আর তেমনটি দেখি না। এতে একটি শিশুর মনন ঠিকমতো গড়ে ওঠে না। তবুও আশা রাখি একদিন আবারও অতীতের শিক্ষা নিয়ে শিশুরা বেড়ে ওঠবে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় সূচনা সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে। শুরুতেই একক কণ্ঠে গান শোনান রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী রোকাইয়া হাসিনা। সুমধুর কণ্ঠে কবিগুরুর সৃষ্টির আশ্রয়ে গেয়ে শোনান ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ ও ‘দূরে কোথাও দূরে’। একক কণ্ঠের সুর থামতেই পরিবেশিত হয় সম্মেলক সঙ্গীত। ঋষিজের শিল্পীরা গেয়ে শোনান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পরিবেশিত নয়ীম গহরের গান ‘নোঙ্গর তোলো তোলো, সময় যে হলো হলো’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃৃতিকে যারা নির্বাসনে পাঠাতে চেয়েছিল এবং সে উদ্দেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, সেরকম দুজনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হলো। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কলঙ্ক মুক্তির শেষপ্রান্তে। এ কাজটি করতে গিয়ে সরকার, প্রশাসন ও জনগণের আন্তরিকতা ছিল। অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করতে অতীতের মতো সকলের আন্তরিকতা থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, এমন একটি সময়ে ঋষিজ তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করছে যখন সমগ্র বাঙালী ভাল ও মন্দের কাছাকাছি অবস্থানে। ভাল এই অর্থে যে, ইতোমধ্যে স্বচ্ছ বিচারকার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে। আর মন্দ এই অর্থে যে, স্বাধীনতাবিরোধী সেই দোসররা এখনও ওতপেতে আছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা’ ॥ চুয়ান্ন যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রচারণায় বেরিয়েছেন দুই নেতা। নৌকায় চড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। আরেক ছবিতে চেয়ারে বসে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। এমন নানা দুর্লভ আলোকচিত্রে উদ্ভাসিত হয়েছেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি শেখ মুজিব। রবিবার ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হলো শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৫নং গ্যালারিতে। গ্যালারিতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। তৃণমূলের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে উঠার আগে ও পরে বিভিন্ন গুরুত্ব বহন করছে আলোচিত্রগুলোতে। এর পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রর্দশন করা হচ্ছে এই প্রদর্শনীতে। একাত্তরে রণাঙ্গণে প্রাণপণে যুদ্ধ করে যাচ্ছে এদেশের অকুতোভয় বাঙালীÑ এমনও আলোকচিত্র দেখা মিলেছে এই প্রদর্শনীতে। পাকহানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়নেও আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে গ্যালারিতে। একটি ছবিতে দেখা গেলÑ হতভাগ্য দুই শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে একাত্তরের পাক হানাদারদের দোসর। ছবিটি বিবেককে নাড়িয়ে দেয়ার মতো। কতই না ভয়ঙ্কর ও নৃশংস ছিল পাক হানাদার বাহিনীÑ তারই চিত্র বহন করছে এই আলোকচিত্রটি। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ঘুরে দেখছেন বিদেশী সাংবাদিক মার্ক টালি, সেই দৃশ্য দেখা মিলল প্রদর্শনীর একটি ছবিতে। আছে একাত্তরে ভাই হারানো বোনের আর্তনাদ, ভিটেমাটি হারানো অন্নবস্ত্রহীন মানুষের জীবনচিত্র। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাÑ এই তিন বিষয়কে এক করে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আর্কাইভ ’৭১।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মিথুনের প্রদর্শনী ‘আত্মবিভাজনের খেলা’ : রাজধানীর ধানম-ির গ্যালারি টোয়েন্টি ওয়ানে রবিবার থেকে শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিল্পী মিথুন আহমেদের ‘আত্মবিভাজনের খেলা’ শীর্ষক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী ও পারফর্মেন্স আর্ট। যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান এবং কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন।