২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণ নক্সায় ত্রুটি ॥ আইএমইডি

  • ‘এই টাকায় ৪ গুণ বেশি মানুষকে আশ্রয় দেয়া যেত’

নাজনীন আখতার ॥ উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে নক্সায় ত্রুটি রয়েছে এবং প্রকল্পের কর্মকর্তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তদারকিতে প্রয়োজনীয় সময় দেন না বলে উল্লেখ করেছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে বর্তমান নক্সার চেয়ে আরও ৪ গুণ বেশি মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হতো।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নিমার্ণ প্রকল্প (২০১১Ñ২০১৫) লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, বরগুনা, পটুয়াখালী এবং ঝালকাঠি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত চার দফায় পরিদর্শনের পর প্রকল্পের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে ২১ দফা সুপারিশ দিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ওসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ মানুষ ও ৩শ’ গবাদি পশু আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অথচ এই অর্থ দিয়ে একতলা পিলারের ওপর সাড়ে ৭শ’ বর্গফুটের ১৬ থেকে ২০ ঘূর্ণিঝড় সহনীয় বাড়ি তৈরি করা সম্ভব। ওই সব বাড়িতে আশপাশের ১৫শ’ থেকে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এভাবে আশ্রয়কেন্দ্র কাম বাড়ি নির্মাণ করা হলে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে।

স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপত্তি তুলে ধরে বলা হয়েছে, এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর এবং অন্যান্য সংস্থার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পাউন্ডে স্থাপিত হয়েছে। এটি সমীচীন নয়। সেক্ষেত্রে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না তা মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

তদারকিতে নজরদারি কম উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকির প্রধান কাজ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সময় দিচ্ছেন না।

নির্মাণ নক্সায় আরও কিছু বিষয় পরিকল্পনায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয় ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের প্লিন্থ লেভেলের কলাম ও বিমের সহনীয় ক্ষমতা তৃতীয় তলা এবং সিঁড়ির ছাদ পর্যন্ত একই রাখা হয়েছে। ওপরের দিকে সেল্ফ লোড কমার সঙ্গে সঙ্গে সহনীয় ক্ষমতা কমানো হলে নির্মাণ ব্যয় কম হতো। প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায় গ্রহণ করা হলে নক্সায় এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সিঁড়ির ঢাল বাইরের দিকে ঈষৎ উর্ধমুখী ও গ্রুপকাটা হওয়া প্রয়োজন। আশ্রয়প্রার্থীদের মালপত্র রাখার জন্য প্রতিটি কক্ষের করিডরে আরও সেল্ফ দেয়া প্রয়োজন এবং এর প্রশস্ততা কমপক্ষে ৩ ফুট হওয়া প্রয়োজন। সিঁড়ি তৈরির সময় রেলিং স্থাপনের ব্যবস্থা রেখে নক্সা করা উচিত। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গরু-ছাগল বাঁধা ও খড় দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এতে মারামারি করে পশুরা আহত হতে পারে এবং সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ