২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছেলেবেলা ও ছাত্রজীবন

  • আবুল মাল আবদুল মুহিত

আমার ভাইবোনেরা

(২২ নবেম্বরের পর)

একাদশতম ভ্রাতা ছিল সাদেক, যার জন্ম হয় ১৯৫২ সালের ২২ জানুয়ারি এবং সে এক মাস পূর্ণ না হতেই ২০ ফেব্রুয়ারি ইহধাম ত্যাগ করে। এই ভাইটিকে দেখবার সুযোগ আমার হয়নি।

দ্বাদশতম ভ্রাতা হলো আবুল বশর আবদুল মুমিত ওরফে ফুয়াদ। সে সিলেটে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮২ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে বিএ পাস করে। আই এফ আই সি ব্যাংকে একজন কর্মকর্তা হিসেবে জীবন শুরু করে ১৯৮৬ সালে। ১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই ফাহমিদা খাতুন মল্লিক ওরফে ছোটনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারা ১৯৯১ সালে আমেরিকায় চলে যায় এবং নিউইয়র্কের কুইনসে বসবাস করে। মুমিত একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং ফাহমিদা সৌন্দর্য বুটিকে কাজ করে। তাদের এক ছেলে রুমিত মুমিত নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে অত্যন্ত সক্রিয় এবং বর্তমানে একটি পর্যটন খাতের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।

ত্রয়োদশ সহোদরা হলো শিপা হাফিজা খাতুন, যে নারী অধিকার নিয়ে খুবই সোচ্চার। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে এমএ ডিগ্রী লাভ করে ১৯৭৬ সালে এবং সেই বছরেই ২৫ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বোখারির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বেশ কিছুদিন তারা ব্রিটেনে নিউ ক্যাসেলে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দেশে প্রত্যাবর্তন করে শিপা কর্মজীবন শুরু করে। বর্তমানে সে ব্র্যাকে জেন্ডার জাস্টিস এবং ডাইভার্সিটি ও এ্যাডভোকেসি বিষয়ের পরিচালক। আমেরিকার ভারমন্টে স্কুল ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং থেকে সে ১৯৯৮ সালে আর একটি এমএ ডিগ্রী লাভ করে। তার দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে, যারা সবাই নিজেদের জীবন ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত। মেয়ে সারা ও তার স্বামী নয়ন ওয়াশিংটন এলাকায় শিক্ষা জগতে বিচরণ করে।

আমার সর্বশেষ সহোদরা হলো ১৯৫৮ সালের ২৪ এপ্রিল জন্মপ্রাপ্ত বোন রিও আজিজা খাতুন। সে আমার চব্বিশ বছরের ছোট। সে ১৯৮২ সালে সমাজ বিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করে। ১৯৮৩ সালের ২২ জুলাই তার বিয়ে হয় হবিগঞ্জের মাধবপুরের কস্ট এ্যাকাউন্টেন্ট সৈয়দ এ কে এম সেলিমের সঙ্গে। তাদের আছে একটি ছেলে তানিম ও একটি মেয়ে মাদিহা। তারা দুজনেই পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরির সন্ধানে আছে। আমার বোন বিয়ের পরই লন্ডনে চলে যায় এবং সেখানে সিটি কাউন্সিলের সমাজসেবা বিভাগে চাকরি করত। আমার ভগ্নিপতি তাদের পারিবারিক শিল্প প্রতিষ্ঠান সায়হাম বস্ত্রকলের ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর। তারা দুজনেই প্রথমে লন্ডনে, পরে নিউইয়র্ক ও ইয়েলে কয়েক বছর অতিবাহিত করে। বর্তমানে তারা ঢাকার গুলশানে বসবাস করে।

ঢাকায় ছাত্রজীবনের সূচনা

আমাদের দেশে আধুনিক শিক্ষার সূচনা হয় ব্রিটিশ শাসন আমলে। আবুল ফজল ‘আইন-ই- আকবরী’তে মোগল শাসন ব্যবস্থার চমৎকার বিবরণ প্রদান করেন। কিন্তু তার এই গ্রন্থে শিক্ষা সম্বন্ধে কোন বক্তব্য নেই। ধারণা করা হয় যে, মোগল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল না বলে সম্ভবত এই শূন্যতা থেকে যায়। মোগল আমলে বা তার আগে ভারত উপমহাদেশে শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত বিষয়। জ্ঞানী ব্যক্তির পদতলে বসে শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং শিক্ষকেরাই প্রজন্মের পর প্রজন্মে শিক্ষা দান করতেন। আদিকালে গুরুরাই জ্ঞানের ধারা সংরক্ষণ করতেন এবং তাদের শিষ্যরা সেই সংরক্ষণটা সম্ভব করতেন। মুদ্রণ শিল্পের বিকাশ জ্ঞান সংরক্ষণ ও জ্ঞান বিতরণকে অন্য মার্গে নিয়ে যায়।

জার্মান বিজ্ঞানী গুটেনবার্গ চতুর্দশ শতাব্দীতে তিরিশ ও চল্লিশের দশকে ছাপাখানা আবিষ্কার করে মানবসভ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন। জ্ঞানের সংরক্ষণ করে অনুসন্ধিৎসাকে আরও ব্যাপক করে দেয় মুদ্রণযন্ত্র। লেখার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধিকে ধরে রাখা ও সর্বসাধারণে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ মানুষের উদ্ভাবনী শক্তিকে সংহত করে এবং সভ্যতার অগ্রগতি নিশ্চিত করে। ভারতে মুদ্রণযন্ত্র আসে ইউরোপীয় বণিকদের সঙ্গে। কলকাতায় জেমস হিকি অষ্টাদশ শতাব্দীর ৭০-এর দশকে প্রথম মুদ্রণযন্ত্র কলকাতায় স্থাপন করেন এবং তখন থেকেই জ্ঞানের বিকাশে ভারতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলেই আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে এবং জ্ঞান বিতরণ ও অনুসন্ধিৎসা জাগরণে বিপ্লবের সূচনা হয়। উনবিংশ শতাব্দীর সূচনায় প্রচুর আধুনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে এবং উচ্চশিক্ষারও প্রসার ঘটে। তাতে নতুন মাত্রা সংযুক্ত হয় ১৯৫৭ সালে ভারতে কলকাতা, মাদ্রাজ ও মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেলে। প্রথম দিকে ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় লেখাপড়ার মাধ্যম হয় ইংরেজী এবং তাতে লেখাপড়া তেমন বিকশিত হয়নি।

আমার শিক্ষাজীবন শুরুর আগেই মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হয় মাতৃভাষা। তাই আমি যখন ১৯৫১ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিমুল্লাহ হলের ছাত্র হলাম তখন জ্ঞান আহরণ অনেক সহজ হয়ে গেছে। মুদ্রণ শিল্প তখন পাঁচ শ’ বছর ছুঁই ছুঁই করছে আর ভারতেই তার বয়স পৌনে দু’শ বছর। সলিমুল্লাহ হলে আমার ছাত্রজীবনের যবনিকা টানি ১৯৫৬ সালের ৯ নবেম্বরে- মোট পাঁচ বছর ১৯ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যস্ত জীবনযাপন করে এবং জ্ঞানের সাগরে নুড়ি খুঁজে খুঁজে। আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার যে বিকাশ এখানে বিবৃত করলাম তার একটি অবদান ছিল রাজনীতিতে ছাত্রসমাজের অত্যন্ত ব্যাপক ও বিনিশ্চায়ক ভূমিকা। লেখাপড়া যেহেতু নবীনদেরই বিষয় ছিল তাই আধুনিক জাতীয়তা, স্বশাসন, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এসব নব নব ধারণা ও চিন্তার বিকাশ এবং প্রসারে ছাত্ররা বিরাট ভূমিকা পালন করে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার পর আশা ছিল যে, ছাত্রদের এই ভূমিকা কমে যাবে এবং পাকাপোক্ত রাজনীতিবিদরা সামাজিক বিবর্তনে মূল অভিনেতা হবেন। বাস্তবেই ভারতে এই প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়; কিন্তু পাকিস্তানে তা হলো না। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কয়েকটি মৌলিক অবস্থানই এদেশে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কালচার গড়ে তুলল। পাকিস্তানে দুই অংশে সমাজ ও চিন্তাধারা ছিল খুবই ভিন্নতর। পশ্চিমে ছিল এক ধরনের সামন্তবাদী সমাজ, পূর্বে ছিল বহুলাংশে গণতান্ত্রিক সমাজ। দুই দেশের ভাষা শুধু ভিন্নই ছিল না, তারা দুই ভিত্তির ওপর ছিল প্রতিষ্ঠিত। পশ্চিমে ভৌতিক অবকাঠামো ছিল অনেকটা আধুনিক, পূর্বে তা ছিল ব্যাপকভাবে পশ্চাৎপদ। পশ্চিমে ছিল পর্বতমালা, মরুভূমি এবং সীমিত জনবসতি, পূর্বে ছিল শুধু নদ-নদী, ঘনবসতি ও সবুজের মহাসমারোহ।

ঢাকায় আমার ছাত্রজীবন ছিল খুবই ঘটনাবহুল এবং নানা ঘটনার সঙ্গে আমার সম্পৃক্তি ছিল গভীর ও ব্যাপক। ঢাকায় আসার প্রস্তুতি হিসেবে আমি প্রয়োজনীয় পারিবারিক তথ্য নিয়ে একটি খাতা লিখতে শুরু করি, তার কিছু অংশ ১৯৪৯ সালেই পূরণ করি। ঢাকায় অবস্থানের শুরু থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত প্রায় নিয়মিতভাবে আমি ডায়েরি লিখি এবং সেগুলো সংরক্ষিত আছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রজীবনে সময়টি ছিল খুবই উত্তাল এবং সংঘর্ষময়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় পূর্ব বাংলায় যে আগ্রহ ও উত্তেজনা ছিল, পশ্চিমে তার কোন নিদর্শনই ছিল না। কিন্তু ধর্মের নামে পশ্চিমে যে উত্তেজনা ও গেঁঁঁঁঁাঁড়ামি ছিল, পূর্বে তা ছিল একান্তই নিম্নমাত্রায়। পশ্চিমে যে ধরনের রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং তার ফলে এক দেশ থেকে আর এক দেশে যে ধরনের বাস্তুত্যাগ হয় তার কোন তুলনাই ছিল না পূর্বে। দেশ ভাগের সময় পাকিস্তানের ৬৩ শতাংশ জনগণ ছিল পূর্বে আর মাত্র ৩৭ শতাংশ ছিল পশ্চিমে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানে জনগণ যেভাবে এক দেশ ছেড়ে আর এক দেশে গেল তার ফলে পশ্চিমের জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়ে তা হলো ৪৪ শতাংশ আর পূর্বে জনসংখ্যা নেমে গেল ৫৬ শতাংশে। পূর্ব বাংলার মুসলমানরা খুবই আগ্রহ নিয়ে পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করে, পশ্চিমে সেটা তেমন ছিল না। নতুন রাষ্ট্রের জন্য পূর্ব এলাকা যে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিল পশ্চিমে সে রকম কোন মানসিকতাই ছিল না। পশ্চিমের লক্ষ্য ছিল যে করেই হোক নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি। পশ্চিমের সুবিধা ছিল যে, তারা সর্বভারতীয় মুসলিম নেতাদের পেয়ে যায় এবং প্রশাসনে উচ্চপদস্থ ভারতীয় মুসলমানদের সিংহভাগ পশ্চিমে হিজরত করে।

মোটামুটিভাবে ধারণা ছিল যে, পাকিস্তান হবে একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র, যেখানে মুসলমানরা হবে রাষ্ট্রের মূল শক্তি। যেহেতু ভারতে মুসলমানরা ছিল পশ্চাৎপদ, সুতরাং ধারণা করা হয় যে, তারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশেষভাবে ব্রতী হবে এবং একইভাবে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেবে। পূর্ব বাংলার নেতৃত্ব মোটামুটিভাবে এই চিন্তাধারা নিয়ে রাষ্ট্রগঠনে মনোনিবেশ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পশ্চিমের অধিবাসীদের চিন্তায় ছিল শুধু নিজেদের সুবিধা এবং যেভাবে হোক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার ছিল তাদের সব কর্মকা-ের মুখ্য উদ্দেশ্য। এতে শুরু থেকেই পূর্ব এলাকার বঞ্চনা হলো তাদের ভাগ্যে। এই বঞ্চনা কিন্তু যারা পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তারা বিনা প্রতিবাদেই সহ্য করতে রাজি ছিলেন। শিশু রাষ্ট্রের দোহাই এবং ভারতের বৈরী ভাবের মাশুল হিসেবেই তারা তাদের বঞ্চনা মেনে নিলেন। এটি কিন্তু যুব সম্প্রদায় ও সচেতন ছাত্রসমাজ গ্রহণ করল না। আমার মনে হয় এই কারণেই পূর্ব বাংলায় দেশ বিভাগের পর ছাত্র রাজনীতিতে কোন ভাটা পড়ল না; কিন্তু ভারতে ছাত্র রাজনীতির উগ্রতা এবং ব্যাপকতা একেবারেই কমে গেল। আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পশ্চিমের জারিজুরি, স্বার্থসিদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে ঝগড়া করতে বিরত থাকেন। গণপরিষদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা নির্বিবাদে ছেড়ে দিলেন। ৬৯ সদস্যের গণপরিষদে পূর্ব বাংলার সদস্য ছিলেন ৪৪ জন ও পশ্চিমের সদস্য ছিলেন ২৫ জন। সেখানে পূর্ব বাংলা ছয়জন পশ্চিমের নেতাদের নির্বাচিত করল। তারা ছিলেন মোহাজের (১) লিয়াকত আলী খান (প্রধানমন্ত্রী), পাঞ্জাবী (২) গোলাম মোহাম্মদ (অর্থমন্ত্রী), মোহাজের শিক্ষাবিদ (৩) ইশতিয়াক হোসেন কোরেশি, মোহাজের মওলানা (৪) শাব্বির আহমদ ওসমানী, (৫) মোহাজের শিক্ষাবিদ ড. মাহমুদ হোসেন এবং (৬) পশ্চিমে হিজরতকারী বেগম শায়েস্তা ইকরামুল্লাহ। তদুপরি পশ্চিমে অনেক মোহাজের ভারত থেকে এসেছে বলে পশ্চিমের থেকে অতিরিক্ত ১০ জন সদস্য নির্বাচন করা হলো। তাই পূর্ব এলাকার সত্যিকার প্রতিনিধি হলেন ৩৮ জন ও পশ্চিমের হলেন ৪১ জন। তাছাড়া পূর্ব বাংলার প্রশাসনে ব্যাপকভাবে পশ্চিমের নাগরিকদের নিযুক্তি দেয়া হলো। পূর্ব বাংলায় মুখ্যসচিব হিসেবে প্রথম বাঙালী নিযুক্ত হন ১৯৬১ সালে (কাজী আনোয়ারুল হক), প্রথম প্রাদেশিক সচিব হন ১৯৬০ সালে মুখলেসুর রহমান। এসব বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ সোচ্চার হয়ে ওঠে ১৯৪৮ সালেই এবং রাজনীতিবিদদের ত্যাগ স্বীকার ও ‘অহেতুক দেশপ্রেমে’র বিকল্প হিসেবে ছাত্র রাজনীতি পূর্ব বাংলায় ব্যাপক প্রাধান্য পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯২১ সালে। তারও ইতিহাস সবিশেষ আকর্ষণীয়। ভারতে প্রথম ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল কলকাতা মাদ্রাসা, যা প্রতিষ্ঠা পায় ১৭৮১ সালে। তারপর ১৭৯২ সালে বেনারস সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা পায় ১৮১৫ সালে ডেভিড হেয়ারের বিদ্যালয়। তারপর শুরু হয় পশ্চিমা ও প্রাচ্য শিক্ষা নিয়ে বিতর্ক এবং ১৮৩৪ সালে ইংরেজীই হলো শিক্ষার মাধ্যম। তারপরই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তাগিদ আসে। ইতোমধ্যে বিশপ কলেজ ১৮১৯ সালে, হিন্দু কলেজ ১৮২৬ সালে, হুগলী মহসিন কলেজ ১৮৩৬ সালে, ১৮৪১ সালে ঢাকা কলেজ, ১৮৪৫ সালে কৃষ্ণনগর কলেজ এবং ১৮৫৩ সালে বিরহামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা পায়। ১৮৫৬ সালে হিন্দু কলেজ হয় প্রেসিডেন্সি কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তাগিদ উনবিংশ শতাব্দীর বিশের দশকেই পরিলক্ষিত হয়। অবশেষে ১৮৫৭ সালে একসঙ্গে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়- কলকাতা, মুম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৮ সালে কলকাতার প্রথম ¯œাতক হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং যদুনাথ ঘোষ।

চলবে...