২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খেলায় আন্তর্জাতিক রং

ঢাকা ডিনামাইটস, চট্টগ্রাম ভাইকিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, বরিশাল বুলস, রংপুর রাইডার্স, সিলেট সুপারস্টার্স- দেশের ছ’টি জেলার নামের সঙ্গে কৌতূহলোদ্দীপক অভিধা বা বিশেষণজুড়ে দিয়ে তৈরি এ নামগুলোই জানিয়ে দিচ্ছে এ প্রতিযোগিতার স্বাতন্ত্র্য। দেশী-বিদেশী ক্রিকেট তারকার সমন্বয়ে গড়া এমন ছ’টি দল নিয়ে রবিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। এটি বিপিএলের তৃতীয় আসর। সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দলের সমন্বয়ে ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বিপিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। পরের আসরেও শিরোপা ঘরে তোলে তারা। আগের সাতটি দল থেকে একটি কমে এবার দল হয়েছে ছ’টি, বাদ পড়েছে খুলনা আর রাজশাহী, যোগ হয়েছে কুমিল্লা। বর্তমান বিশ্বের ক্রিকেট পরাশক্তি ভারতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ। গোটা বিশ্বের শক্তিমান দেশগুলোর ক্রিকেট তারকাদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জমজমাট ক্রিকেট আসর আইপিএলের সাফল্য অনেক। ওই আসরে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার অংশ নিয়ে দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন। একই দলে আমাদের সাকিব খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসসহ বাঘা সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে। এর ফলে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে মূল্যবান সংগ্রহের সমান্তরালে আত্মবিশ্বাস ও উদ্যম বহুলাংশে বেড়েছে। এটি খেলোয়াড়ি সত্তার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। বিপিএল চালু হওয়ায় বিদেশী খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই টিমে খেলার সুযোগ আরও বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে আমাদের ক্রিকেটারদের উন্নতি ও দেশের ক্রিকেটের মানের উৎকর্ষ ঘটেছে। এভাবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যত বেশি আন্তর্জাতিক স্বাদ ও রঙের সংযুক্তি ঘটবে, ততই এগিয়ে যাবে খেলাধুলা।

টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ক্রিকেটারদের স্বল্প সময় ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করার এক দারুণ লড়াই। এতে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং টিমওয়ার্কের চূড়ান্ত রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। আর সে কারণেই আইপিএল এবং বিপিএল ক্রিকেট দর্শকদের কাছে এত বেশি আকর্ষণীয়। বিদেশী খেলোয়াড়দের সহযোগী (টিমমেট) এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে যত বেশি টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া যাবে ততই দেশীয় ক্রীড়ার উৎকর্ষ ঘটবে। বিশেষ করে দেশের মাটিতে এ ধরনের আয়োজনে খেলোয়াড়রা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ ও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পান।

গত দুই আসরের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে শুরু থেকেই এই আয়োজন নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যে কারণে খেলোয়াড়দের নিলাম পদ্ধতিতেও এবার আনা হয় পরিবর্তন।

শুধু ক্রিকেটেই নয়, দেশের মাটিতে ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলায়ও আন্তর্জাতিক স্বাদ ও রঙের দেখা মিলেছে এ বছর। দেশের ফুটবলামোদী মানুষের জন্য আশা ও আনন্দের কথা দেড় দশক পরে হলেও আবার শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। এ টুর্নামেন্ট সর্বশেষ হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সেটি ছিল দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু কাপ। স্বাগতিক বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় দল ওই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অনুর্ধ-২৩ দল পাঠায়। এ ধরনের টুর্নামেন্ট এবং বিপিএল আয়োজনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ক্রীড়ার বিশ্বমান অর্জনের জন্য এটি আবশ্যক।