২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দারুণ বিস্ফোরণ যেন গর্জনে হানে

  • জাফর ওয়াজেদ

ফাঁসির রজ্জু গলদেশে ধারণ হবার আগে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল ওরা। নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মৃত্যুদ- মওকুফের আবেদন জানিয়ে তারা প্রমাণ করে গেছে, আদালত ন্যায্য বিচারই করেছে। আরও জানান দিয়ে গেছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তারা জড়িত ছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ডাকসাইটে এই দুই সহযোগী শাস্তি প্রাপ্তির আগে নানা টালবাহানা কিংবা প্রতারণা চালিয়েও পার পায়নি। পাকিস্তানেও তাদের সহযোগীরা মৃত্যুরোধে অপতৎপরতা চালিয়েছে। পাকিস্তানী প্রভুরা তাদের পক্ষে যে সাফাই গেয়েছে তাতেও পরিষ্কার করে দিয়েছে, দুই যুদ্ধাপরাধীর পাকিস্তানের পক্ষে একাত্তর সালে সাহসী ভূমিকার কথাÑ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের কথা। আত্মস্বীকৃত এই দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার কলঙ্কমোচনের পথে আরও একটি ধাপ পার হলো। শহীদ পরিবারগুলোর বুকের ভার অনেকটাই লাঘব হলো। এটাও বাস্তব যে, কিছু কিছু মৃত্যু আছে, যা মানুষকে শান্তি ও স্বস্তি দেয়। পঁচাত্তর পরবর্তী এই নরঘাতকদের পুনরাবির্ভাব জনমনে আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি করেছিল। এরা অর্থ ও অস্ত্রবলে বলীয়ান হয়ে পুনরায় ফিরে এসে সমাজে, রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে ক্রমশ অবস্থান নিয়ে বেশ হৃষ্টপুষ্ট পরিণত হয়। জান্তা শাসকদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধে এরা এতোটাই মত্ত হয়ে ওঠে যে, গুপ্তঘাতক বাহিনী গঠন করে রগকাটা থেকে বোমা, গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা যেমন করছে, তেমনি মুক্তচিন্তার লেখক, বুদ্ধিজীবী, প্রকাশক হত্যায় পিছপা হচ্ছে না। এদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও দাপটের মাত্রা তীব্র হয়ে ওঠে যখন শাসক ক্ষমতার অংশীদারে পরিণত হয়। যে দেশটির বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, শিক্ষক বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিকামী মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করেছে, সেই দেশটির পতাকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, সেই তারা বীররূপে এই জনপদে মন্ত্রীত্বের স্বাদ যেমন পেয়েছে, তেমনি স্বাধীন দেশের পতাকাবাহী গাড়িতেও চড়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নিয়ে এই দেশকে আবারো পাকিস্তানী চেতনার প্রসার ঘটিয়ে এসেছে। এদের নেতা প্রধান যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম তো ১৯৭৩ সাল থেকে লন্ডনে বসে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্প চালু করেছিল। যুদ্ধাপরাধের কারণে এদেশের নাগরিকত্ব হারানো গোলাম আযমকে ১৯৭৭ সালে জান্তা শাসক এদেশে ফিরিয়ে এনে রাজাকার পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করে। সেই থেকে তারা এদেশে দাপট বিস্তার করতে থাকে সব অঙ্গনেই। ঘুণাক্ষরেও কোনদিন তারা ভাবতে পারেনি, একাত্তরে তাদের নৃশংস ও নির্মম এবং জঘন্য গণহত্যার দায়ে কখনো শাস্তি পেতে হবে। তাই যুদ্ধাপরাধী সদ্য দন্ডপ্রাপ্ত আলী আহসান মুজাহিদ সদর্পে বলেছিল, এদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। কোন স্বাধীনতা বিরোধীও নেই। একাত্তরের ভূমিকার জন্য সামান্য অনুতপ্তও ছিল না। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বাসই করতো না স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে সারা বাংলাদেশকে ওরা জেলখানায় পরিণত করেছিল। পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয় এই সহযোদ্ধারা পুরো দেশকে কারাগার বানিয়ে নির্বিচারে নৃশংসভাবে হত্যা করে নারী, পুরুষ, শিশু, যুবা, বৃদ্ধ নির্বিশেষে লাখো লাখো মানুষকে। গড়ে তোলে টর্চার সেল। পালাবার সব পথ রুদ্ধ করে রেখেছিল। পিতা পায়নি সন্তানের লাশ, সন্তান পায়নি পিতার- এমন অজস্র ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতাকামী মানুষকে তারা ঘোষণা দিয়ে হত্যা করেছে। জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, পিডিপি তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাই শুধু করেনি, সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করে। পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী হিসেবে এরা বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ আলবদর নামক সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেছিল। তাদের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম লিখেছিল, ‘‘আলবদর একটি নাম। একটি বিস্ময়। আলবদর একটি প্রতিজ্ঞা। যেখানে তথাকথিত মুক্তিবাহিনী, আলবদর সেখানেই, যেখানেই দুষ্কৃতকারী, আলবদর সেখানেই। ভারতীয় চর কিংবা দুষ্কৃতকারীদের কাছে আলবদর সাক্ষাৎ আজরাইল।’’ মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ নেতৃত্বাধীন বদর বাহিনী সারাদেশে সাক্ষাৎ আজরাইল হিসেবে নেমেছিল। শকুনের মত ডানা মেলে বাঙালীর মাংস খুঁটে খুঁটে খেয়েছে। এরা ভিন্নধর্মীদের বিরুদ্ধেও অস্ত্র উঁচিয়েছিল। তাদের ঘরছাড়া, দেশছাড়া করতে বাধ্য করেছে। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর ঢাকায় বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ছাত্রসংঘের এক জমায়েতে সংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি ও আলবদরের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ ‘চারদফা’ ঘোষণা প্রচার করে। বলা হয়, ‘দুনিয়ার বুকে হিন্দুস্থানের কোন মানচিত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। যতদিন পর্যন্ত দুনিয়ার বুক থেকে হিন্দুস্থানের নাম মুছে না দেয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেবো না।’ দ্বিতীয় ঘোষণায় কঠোরভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘আগামীকাল থেকে হিন্দু লেখকের কোন বই অথবা হিন্দুদের দালালি করে লেখা পুস্তিকাদি লাইব্রেরীতে কেউ স্থান দিতে পারবে না। বিক্রি অথবা প্রচার করতে পারবে না। যদি কেউ করে তবে পাকিস্তানের অস্তিত্বে বিশ্বাসী স্বেচ্ছাসেবকরা তা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেবে।’ যেই পথ ধরে তারা এখনও এদেশে লেখক-প্রকাশক হত্যা করে চলেছে। মুজাহিদ তার চারদফা বাস্তবায়নের জন্য ‘প্রয়োজন হলে নয়াদিল্লী পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে আমরা বৃহত্তর পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করবো।’ কিন্তু তার সেই দম্ভ দর্পচূর্ণ হয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর। পরাজয়ের শেষ মুহূর্তে তাই ১৪ ডিসেম্বর শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে মুজাহিদের নেতৃত্বে বদর বাহিনী নৃশংস নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করেছিল। সামান্য শিক্ষিত বাঙালীও বদর বাহিনীর শিকারে পরিণত হয়েছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান আসামী মুজাহিদ ফাঁসির দ- বরণ করার আগে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। কিন্তু সে আবেদন নাকচ হয়ে যায়। একাত্তরে কত মানুষ মুজাহিদসহ বদর বাহিনীর কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েও পায়নি। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ঠা-া মাথায় বদর বাহিনীর নৃশংসতা যুদ্ধের শেষ পাঁচটি মাসে জনমনে ভয়াবহ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিলো। পাকিস্তান কবলিত প্রতিটি জেলা ও মহকুমা শহরেই এদের নিজস্ব ক্যাম্প ছিল। এসব ক্যাম্পে ধরে আনা স্বাধীনতাকামীদের ক্রমাগত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করতো তারা। শিক্ষিত জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত বদর বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধরত বাঙালী জনগোষ্ঠীকে অস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে, প্রয়োজনে হত্যা করে পাকিস্তানী জীবনদর্শনে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা। তাই মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামীদের খুঁজে বের করে হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া, হিন্দুদের বলপূর্বক মুসলমান বানানো, সেমিনার ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে জামায়াতী চিন্তাধারার প্রচার এবং প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্রভাবে মোকাবেলা করা ছিল বদরদের প্রধান কাজ।

সদ্য দ-প্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পিতা মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীসহ পুরো পরিবারটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণই শুধু করেনি, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞও চালিয়েছে। স্বাধীনতার পর ফকা চৌধুরী গ্রেফতার হয়। বিচার চলাকালে কারাগারে মারা যায়। ১৬ ডিসেম্বরের পর নৌপথে মিয়ানমারে পালিয়ে যাবার সময় ট্রলারসহ ধরা পড়েছিল ফকা চৌধুরী। সাকা চৌধুরী পালিয়ে যায় লন্ডনে। পঁচাত্তর পরবর্তীকালে জান্তা শাসকের রাজাকার পুনর্বাসনের আওতায় সাকা চৌধুরী আবির্ভূত হয়। তখন তার দাম্ভিকতা ও অশালীনতা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ছিল তার ইতরজনোচিত ক্রিয়াকলাপেরই অংশ। স্বাধীনতার পূর্বাপর সময়ে এই পরিবারটি নৌপথে স্বর্ণ, অস্ত্রসহ মাদকদ্রব্য চোরাচালান করতো। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর বাংলাদেশে ছিল প্রতিভূ সে। এরা মনেপ্রাণে পাকিস্তানী। এবং সেই ভাবধারায়ই পরিচালিত বলে একাত্তরের ভূমিকার জন্য অনুতপ্ত ছিল না। তবে দ- কার্যকর হবার আগে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চেয়েও পায়নি। তারই দাম্ভিকতা বংশ পরম্পরায় তার সন্তানদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তারা হাসিমুখে বলেছে, তাদের বাবা কোন অপরাধ করেনি। এমনকি তিনি একজন সজ্জন। পিতা যেখানে অপরাধ স্বীকার করছে প্রাণরক্ষার জন্য, সেখানে পুত্ররা পিতাকে তার ভূমিকার জন্য গৌরবান্বিত করতে চায়। পাকিস্তানও মুজাহিদ ও সাকার জীবন রক্ষার জন্য উদগ্রীব ছিল। যেমনটা এর আগে অন্য যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেও তারা তাদের সংসদে প্রস্তাব এনেছিল। ফাঁসির রায় ঠেকানোর জন্য পাকিস্তানকে সরব হবার আহবান জানিয়েছিল পাকিস্তান জামায়াত। ফাঁসির রায়ের কড়া সমালোচনা করে তাদের দুই প্রিয় সহযোগীকে রক্ষার জন্য বলেছেও। বাংলাদেশ সরকার তার রাজনৈতিক মতবিরোধের বিচারিক হত্যাকা- চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টকে ‘ক্যাঙারু আদালত’ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ‘অবিচার’ বলে অভিহিত করে এই আদালতের বিচার বন্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি আহবানও জানায় পাকি জামায়াত। এমনকি মুসলিম বিশ্বসহ সারাবিশ্বকে সোচ্চার হতে উদ্যোগ নেবার আহবান জানায় পাকি সরকারের প্রতি। পাকি জামায়াত তাদের দুই নাগরিক তথা মুজাহিদ ও সাকাকে নিষ্পাপ আখ্যায়িত করে এদের ফাঁসি রোধে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে সরকারকে বলেছে। তবে এরা যে যুদ্ধাপরাধী তা পাকি জামায়াত সভাপতি সিরাজুল হকের বক্তব্যে ওঠে এসেছে। তিনি দাবী করেছেন, মুজাহিদ কোন অপরাধী নয়। সেই সময়ে মুজাহিদ একজন পাকিস্তানী নাগরিক হিসেবে ভারতীয়দের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ কিছু যুদ্ধ আগ্রাসীর হাত থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেছিল। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে মুজাহিদ অপরাধী নয় বলে পাকিস্তান মনে করতেই পারে। এরাই পাকিস্তানী হানাদারদের গ্রামে গ্রামে নিয়ে যেত। মুক্তিকামীসহ হিন্দুদের ঘরবাড়ি লুট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ গণহত্যা চালাতো। সেসব ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।

সাকা ও মুজাহিদসহ যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট শুরু থেকেই বিরোধিতা শুধু নয়, বিচার নস্যাতে সচেষ্ট ছিল। চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে, পেট্রোল বোমা মেরে বহু মানুষকে হতাহত করেছে। তারা বিচার বানচালে দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীদের হাতে প্রাণ হারানোর মত স্বাধীন দেশে তাদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। বিদেশী নাগরিকও এদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। বিচার বানচাল করতে এরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। করেছে দেশে বিদেশে। লবিস্টও নিয়োগ করেছে। তাদের অর্থের ভা-ার বিশাল বলেই দু’হাতে ব্যয় করছে। যার প্রতিফলন দেখা যায় এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তৎপরতায়। তারা দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা শুধু নয়, এদের মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নেয়। এ্যামনেস্টিকেরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার দাবী করে। পুরো বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যত তৎপরতা দেশে বিদেশে চালানো হয়েছে, তা বুমেরাং-এ পরিণত হয়েছে। সাকা চৌধুরীর প্রতারণা মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দেখা গেছে। জাল সনদপত্র আদালতে পেশ করে জালিয়াতের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে। আদালত বলেছে, এসবই জাল নথি। সাকাকে রক্ষার জন্য বহু ধরনের তৎপরতা চালানো হয় বিচার চলাকালেই। রায়ের কপি পর্যন্ত পাচার করা হয়। এ ব্যাপারে একটি মামলা বিচারাধীন। এ বিষয়েও কথা বলেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তাই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এসোসিয়েট প্রেস (এপি) এরকম খ্যাতনামা সংস্থাটিও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ঢাকা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে দুই যুদ্ধাপরাধীকে বিরোধী রাজনীতিক হিসেবে দেখিয়ে প্রতিপক্ষ দমনে বিচার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে। শিরোনাম দিয়েছে, ‘বাংলাদেশ আদালত দুই রাজনীতিকের মৃত্যুদ- বহাল রেখেছে।’ অথচ এরা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দ-াদেশপ্রাপ্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধাপরাধী আদালতকে রাজনৈতিক শাস্তিস্বরূপের ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ জানে, দেশে বিদেশে যারা যুদ্ধাপরাধের পক্ষাবলম্বন করেছে তাদের পূর্বসূরি ও তারা একাত্তরে তাদের পক্ষে ছিল। সুতরাং তাদের পক্ষে এসব বলা সহজ। ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়নি যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ দিয়েছে। এমনকি প্রাণভিক্ষার আবেদনও। এটি জানা উচিত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন রাজনৈতিক ইস্যু নয়। শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও দেশের জনগণের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এই বিচার। দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও দ-াদেশ মুক্তির গানকে সামনে নিয়ে আসে। তাই দারুণ বিস্ফোরণ আজ গর্জন হয়ে উঠেছে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনির ভেতর থেকে।

ুধভধৎধিুবফ@ুধযড়ড়.পড়স