২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঠিয়ায় ১৫ বছর পর ভোটের হাওয়া

  • পৌর নির্বাচন

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর এবারই প্রথম পুঠিয়া পৌরসভায় ভোটের ‘স্বাদ’ পেতে যাচ্ছেন নাগরিকরা। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর সীমানা বিরোধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ পৌরসভায় কোন নির্বাচন হয়নি। শুরু থেকেই প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। ফলে কাক্সিক্ষত উন্নয়নের স্বাদ ও নাগরিক সেবাও পায়নি পৌরবাসী। পুঠিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, এতদিন শুধু ট্যাক্স দিয়ে গেছি। তবে কোন জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কর্মকা-ও হয়নি। এবার ভোটের খবরে খুশি ভোটাররা জানান, এবার নির্বাচন হলে প্রথমবারের মতো জনপ্রতিনিধি পাবেন তারা। তিনি আমাদের আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়াবেন। এলাকার উন্নয়নও হবে, মিলবে নাগরিক সেবাও। জানা যায়, ২০ হাজার জনগোষ্ঠী নিয়ে ২০০১ সালের ২২ মে পুঠিয়া পৌরসভা গঠন করা হয়। সে সময় বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসকে প্রশাসক মনোনীত করা হয়। আব্দুল লতিফ বিশ্বাস প্রশাসক দায়িত্বে থাকাকালীন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের কারণে একাধিক মামলায় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রশাসক পদ থেকে তাকে সরিয়ে দায়িত্বভার দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এরপর থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে পুঠিয়া পৌরসভার নির্বাচন স্থগিতাদেশ ও পৌরসভা বাতিলের দাবিতে উচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন করা হয়। তবে ওই দুটি আবেদন ২০০৮ সালের ২৭ মে হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন এ পৌরসভার নির্বাচন দিতে পারেনি এতদিন। তবে আগামী ডিসেম্বরে হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনের জন্য যেসব পৌরসভার তালিকা নির্বাচন কমিশন করেছে তার মধ্যে পুঠিয়া পৌরসভার নামও রয়েছে। ফলে এবার নতুন কোন বাধা না এলে ১৫ বছর পর নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন পুঠিয়াবাসী। এদিকে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পেতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সমর্থন ও মনোনয়ন পেতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও দৌড়ঝাঁপ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পৌর নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, সে নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিএম হীরা বাচ্চু, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার জাহান হীরক ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক। এছাড়া বিএনপির সর্মথন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেনÑ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মিয়া।