২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাহরিয়ারের আস্থা দেশী ক্রিকেটারের ওপর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) প্রথম দুই আসরে ৭টি সেঞ্চুরি হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশী ক্রিকেটাররাই করেছেন ৫টি। আর বাংলাদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে ২০১৩ সালের দ্বিতীয় আসরে দু’টি সেঞ্চুরি করেন শাহরিয়ার নাফিস ও মোহাম্মদ আশরাফুল। সেবার বরিশাল বার্নার্সের পক্ষে খেলা শাহরিয়ার প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিপিএলে শতক হাঁকান। এবারও তিনি বরিশালেই খেলছেন। তবে মালিকানা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর নামও হয়েছে বর্তমানে বরিশাল বুলস। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখাতে চান। তার দাবি বিপিএলে কোন দলের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভরশীল স্থানীয় ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যের ওপর। এ কারণে নিয়মিত রান করে দলের সাফল্যে অবদান রাখতে চান তিনি। রবিবার সকালে মিরপুরের জাতীয় একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আজই প্রথম মাঠে নামবে বরিশাল বুলস, প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স। চার বছর আগে সর্বশেষ ওয়ানডে এবং ২০১৩ সালে সর্বশেষ বার টেস্ট খেলেছেন শাহরিয়ার। অথচ ওয়ানডেতে ৪টি এবং টেস্টে ১টি সেঞ্চুরি আছে তার। বাংলাদেশের প্রথম টি২০ জয়ের ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২০০৬ সালে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে করেছিলেন ২৫ রান। সেটাই তার একমাত্র আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা। অথচ প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে স্বীকৃত কোন টি২০ আসরের সেঞ্চুরিয়ান তিনি। এবার দীর্ঘ পরিসরের জাতীয় ক্রিকেট লীগেও (এনসিএল) দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দু’টি সেঞ্চুরিসহ সর্বাধিক ৭১৫ রান করেছেন। এবার টি২০ ক্রিকেটেও নিজের যোগ্যতা পুনরায় প্রমাণের সুযোগ তার। এ বিষয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘বিগত এক দেড় বছর ধরে আমার লক্ষ্যটা ধারাবাহিকভাবে পারফর্মেন্স করা। ওই কারণেই চেষ্টা করছি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে। চেষ্টা করব বিপিএলে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার।’ দুরন্ত রাজশাহীর বিরুদ্ধে ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ওই সুখস্মৃতির পুনরাবৃত্তির বিষয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘চেষ্টা করব। গত বিপিএলে প্রায় প্রত্যেকটি ম্যাচেই ভাল পারফর্মেন্স করতে পেরেছিলাম। এবার বিপিএলে ১০টা ম্যাচ আছে, ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার চেষ্টা থাকবে। আলাদা করে নির্ধারিত স্কোর করার আপাতত কোন লক্ষ্য নেই। দলের জন্য প্রতিদিনই কোন না কোন কিছু অবদান রাখার চেষ্টা থাকবে।’

আগে বরিশাল বার্নার্সের আইকন ক্রিকেটার ছিলেন শাহরিয়ার। তবে এখন দলের আইকন ও অধিনায়ক জাতীয় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নিজ দল নিয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের দল খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আইকন খেলোয়াড় রিয়াদ খুব ভাল ছন্দে আছে। সাব্বির ভাল টাচে আছে। রনি তালুকদার আছে। বিদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে সামি, কুপার, ব্রেন্ডন টেলর। আমরা চেষ্টা করব সবাই এক সঙ্গে নৈপুণ্য দেখিয়ে ফলাফল বের করে আনার।’ প্রথম বিপিএলে বরিশালের হয়ে খেললেও দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সে খেলেছিলেন ক্যারিবীয় বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। তবে এবারও তিনি বরিশাল বুলসে। তার বিষয়ে শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি কোন দলে এবার একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেয়ার মতো খেলোয়াড় নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবারের বিপিএলটা বাংলাদেশের স্থানীয় খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটা অনেক ভাল দিক।’

পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন সারোয়ার ইমরান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোচের পদ শূন্য হলেও অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) টি২০ আসরে সিলেট সুপারস্টারসের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান। আগের দুই আসরেও সিলেট রয়্যালসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার দল গড়ার সময়ই বোলিং বিভাগ সাজিয়েছেন মূলত দেশী ক্রিকেটারদের নিয়ে। তবে বোলিং বিভাগে অন্যতম নির্ভরতা রুবেল হোসেন ইনজুরিতে পড়ার কারণে পূর্ব পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। শনিবার অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ইনজুরিতে পড়ার পর আবারও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। তবে দু’জনের ইনজুরি অন্য কোন ক্রিকেটারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এমনটা মনে করছেন না সুপারস্টারসের কোচ সারোয়ার। রবিবার সকালে মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আজ বিপিএলের দ্বিতীয় দিনে চিটাগাং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে সিলেট সুপারস্টারস। কিন্তু মাঠে নামার আগেই দুটি ইনজুরির ধাক্কা। সেজন্য পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন ঘটাতে হয়েছে। এ বিষয়ে সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমরা আসলে পরিকল্পনা করলে তা যে শতভাগ ঠিক হবে তেমন নয়। আমরা দুটি ইনজুরির জন্য তৈরি ছিলাম না। একটা ইনজুরি আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু রাজ্জাকের ইনজুরির কারণে আমাদের অনেক পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। তবে এসব আমরা মানিয়ে নেব।’ ক্ষুদ্রতম ফরমেটের খেলা টি২০। এ কারণে খুব বেশি সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। রাজ্জাকের ইনজুরির পর দ্রুতই দলের একটা সমন্বয় ভেবে নিয়েছেন সারোয়ার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রুবেল ইনজুরিতে পড়ার পর একটা কম্বিনেশন শুরু করেছিলাম। আবার কাল (শনিবার) রাজ্জাক ইনজুরিতে পড়ার পর দলের সমন্বয়ে একটু সমস্যা ছিল।‘