১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনের আগে বন্ধু হারাচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন!

  • মজিবর রহমান

দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচন। চার বছর মেয়াদী নির্বাহী কমিটির নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে দেশের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। মাঠের লড়াই যেন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ফুটবল সংগঠকদের টেবিলে। বাফুফে থেকে শুরু করে ক্লাব কর্মকর্তা পর্যায়ে মনোমালিন্য, কাঁদা ছুড়াছুড়ি এখন নিত্য ঘটনা। গোলমালের উত্তপ্ত কড়াইয়ে ঘি ঢেলে একে আরও রসালো করে দিয়েছে অশালীন ভাষার একটি বিক্ষিপ্ত খ- মিছিল। বাফুফে ভবন চত্বরে গত পরশু দুপুরে নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালীন ফুটবলপ্রেমী এক সংগঠকের বিরুদ্ধে এই মিছিল-সেøাগান পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে দিয়েছে। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার মতে তার বিরুদ্ধে এই মিছিল বাফুফের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় লোক ভাড়া করে। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে খ্যাতিমান এই ফুটবল সংগঠক বললেন, বাফুফের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমি ইচ্ছে করলে এক কিলোমিটার লম্বা মিছিল করে দেখিয়ে দিতে পারি। সেই ক্ষমতা আমার আছে। আমার টিমের খেলায় গোটা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি দর্শকে পরিপূর্ণ করে সেই প্রমাণ কয়েকবার দেখিয়েও দিয়েছি। তবে এই মুহূর্তে আমি কোন নোংরামিতে যেতে চাই না। সামনে নির্বাচন। আমার খেলাটা আমি তখনই খেলতে চাই। সেই অপেক্ষায় রইলাম।

প্রসঙ্গত, আগামী বছরের এপ্রিলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে বাফুফে নির্বাচন। হাতে সময় মাত্র কয়েক মাস। আর নির্বাচনের ঠিক আগে বাফুফের বর্তমান কমিটির সঙ্গে ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী ক্লাব কর্মকর্তাদের দূরত্ব কোন ঈঙ্গিত বহন করছে তা সময়ই হয়তো বলে দেবে। তবে এটা নির্জলা বাস্তব যে দেশের ফুটবলের জন্য এ ধরনের ঘটনা অমঙ্গল ছাড়া কোনভাবে মঙ্গল বয়ে আনবে না। ফুটবল গ্রেট কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বাফুফের বর্তমান কমিটির সঙ্গে ক্লাব কর্মকর্তা পর্যায়ে দূরত্ব সৃষ্টির পেছনে তৃতীয় কোন শক্তি কাজ করছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এ কথা অনস্বীকার্য যে, খোদ নির্বাহী কমিটির মধ্যেই সালাউদ্দিনের অনেক শত্রু লুকিয়ে আছে। প্রকাশ্যে সমালোচনা করার লোকেরও অভাব নেই। তারপরও সালাউদ্দিন টিকে আছেন তার সাংগাঠনিক দক্ষতা বা ফিফা আইনে সভাপতিই ফেডারেশনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী বিধায়। কিন্তু নির্বাচনের আগে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রমাণ করছে ক্রমেই ‘বন্ধুহারা’ হয়ে যাচ্ছেন সালাউদ্দিন। কাছের লোকদের দূরে ঠেলে দিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছেন তিনি। যদি এবারও তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চান তাহলে অবশ্যই তার সতর্ক হওয়ার এখনই সুযোগ, তৃতীয় শক্তি গা ঝাড়া দেয়ার আগে কাছের লোকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে। কারণ খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে ইতোমধ্যে সালাউদ্দিনের বিকল্প হিসেবে সভাপতি প্রার্থী খুঁজতে মাঠে নেমে পড়েছে একটি মহল। দু’একজন হ্যাভিওয়েট প্রার্থীর সন্ধানও নাকি তারা পেয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দেশের বিখ্যাত একজন শিল্পপতি, তথা প্রথিতযশা ক্রীড়া সংগঠক রয়েছেন। যদিও নাম না প্রকাশ করার শর্তে উক্ত শিল্পপতি, সংগঠক জনকণ্ঠকে বলেছেন, নির্বাচন করতে তিনি রাজি নন। যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে দায়িত্ব নিতে তার আপত্তি নেই। এদিকে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন বর্তমান সরকার সমর্থিত সংগঠক হিসেবে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতির আসনে বসানোর সর্বাত্ব¡ক চেষ্টা করা হবে। তাদের প্রত্যাশা ’সাসকেস’ অবধারিত, ১০০%। কাজী সালাউদ্দিনকে সভাপতি প্রার্র্থীর পদ থেকে বসিয়ে দিলেই ল্যাটা চুকে যাবে। আর তাকে বসিয়ে দেয়ার মতো অনেক রসদ তাদের কাছে নাকি রয়েছে। সালাউদ্দিন না থাকলে তাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্য কোন প্রার্থী থাকবে না বলে মনে করছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদীর বিকল্প বেশ আগেই তারা ঠিক করে রেখেছেন। আর এই প্রার্থীও সালাম মুর্শেদীর মতো এক সময়কার মাঠ কাঁপানো তারকা ফুটবলার। দেশের ফুটবলে তার যথেষ্ট ভক্ত, অনুরাগী রয়েছে। উক্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী অবশ্য এরই মধ্যে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি শীর্ষ ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান। মোদ্দাকথা সালাউদ্দিন-সালাম মুর্শেদী জোটের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে শক্তিশালী ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি প্যানেল তৈরি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সালাউদ্দিন-সালামকে সাইজ করতে অচিরেই একটি কঠোর কর্মসূচী আসছে। আর তা আসন্ন দলবদলকে ঘিরে। সেটা হচ্ছে বাফুফের বর্তমান কমিটির অধীনে ফুটবলের কোন কর্মসূচীতে অংশ নেবে না ঢাকার ক্লাবগুলো। নির্বাচন পরবর্তী আগামী বছর নতুন কমিটির অধীনে ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ফুটবলারদের দলবদলে অংশ নেয়ার বিষয়টি এক প্রকার চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন ক্লাব সমিতির জনৈক শীর্ষ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তার সঙ্গে ফোনে মৌখিক আলোচনা হয়েছে পেশাদার লীগের প্রায় সব ক্লাবের সঙ্গে। এখন একটি সভা ডেকে সবকিছু চূড়ান্ত করে বাফুফেকে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উক্ত কর্মকর্তা। যিনি একটি স্বনামখ্যাত ক্লাবের সভাপতিও। সচেতন মহলের মতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করা বা বাফুফের ওপর চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ বাফুফে ভবনের সামনে পরশুর সেই অনাকাক্সিক্ষত মিছিল। আর বাফুফের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই ক্লাব কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিসের জের তো রয়েছেই।