২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৪৩ বছরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে চার শতাধিক মৃত্যুদন্ড কার্যকর

শংকর কুমার দে ॥ একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ৪৩ বছরে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৪ শতাধিক কয়েদিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশের ৬৪ কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ৭৫ সহস্রাধিক, যা ধারণক্ষমতার বেশি। এর মধ্যে মৃত্যুদ-ে দ-িত কয়েদির সংখ্যা সাত শতাধিক। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি সেন্ট্রাল জেলে ৩ শতাধিক মৃত্যুদ-ে দ-িত কয়েদি রয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। সারাদেশের ৬৪ কারাগারের মধ্যে ১৫টি কারাগারে ১৬টি ফাঁসির মঞ্চ রয়েছে। সারাদেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদ- কার্যকর করার জন্য জল্লাদ রয়েছে অর্ধ শতাধিক। তবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই হাই-প্রোফাইলের মৃত্যুদ-ে দ-িত কয়েদিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। শনিবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-ে দ-িত দুই কয়েদি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সবচেয়ে বেশি দীর্ঘ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদ- কার্যকরকারী জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। একটি ফাঁসির রায় কার্যকর করলে একজন জল্লাদের ২ মাস ৪ দিন করে কারাদ- মওকুফ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারাগার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে মৃত্যুদ- কার্যকর করতে ফাঁসিতে ঝুলানোর জন্য ম্যানিলা থেকে দেশে আনা হয় ১০ হাজার ফাঁসির রশি। এই রশি দিয়ে ফাঁসির দ- কার্যকর করা হয় বলেই ফাঁসির দড়ির নাম ম্যানিলা রশি করা হয়েছে। কারাগারগুলোতে যেসব জল্লাদ মৃত্যুদ-ে দ-িত কয়েদিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে খ্যাতনামা হয়েছেন এবং ন্যূনতম পাঁচজনকে ফাঁসি দিয়েছেন তার মধ্যে আছেনÑ জল্লাদ শাহজাহান ভুইয়া, রাজু, আবুল, মাসুদ, ইকবাল ও মুক্তার। এ কয়েকজন দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার সময় অংশগ্রহণ করেছেন। এর আগে তারা অপর দুই যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের ও কামারুজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার সময়ও অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়াও পাঁচজনের বেশিসংখ্যক মৃত্যুদ-ে দ-িত কয়েদিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করেছেন এমন জল্লাদের মধ্যে আছেনÑ হাফিজ উদ্দিন, কালু মিয়া, কামরুজ্জামান ফারুক, শেখ সানোয়ার, জয়নাল বেপারি, মোয়াজ্জেম হোসেন, মাসুম, তানভীর হাসান রাজু, মনির হোসেন ও মোহাম্মদ বাবুল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব আলোচিত ব্যক্তি মৃত্যুদ-ে দ-িত হওয়ার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেÑ ডাঃ ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক নিজামউদ্দিনের কন্যা শারমিন রীমা হত্যার আসামি মনির হোসেন (খুকু মনি), কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গী নেতা বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানী, ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসান, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পাঁচ আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) ও মেজর (বরখাস্ত) বজলুল হুদা। রংপুর জেলা কারাগারে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আসামি এএসআই মইনুল হক ও আবদুস সাত্তার, দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আরেক আসামি পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মণ, জেএমবির জঙ্গী নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার মামুন। সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আবদুল কাদের, কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকরে জল্লাদ শাহজাহান নেতৃত্ব দিয়েছেন।