২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় তাইওয়ান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চান তাইওয়ানের ব্যবসায়িরা। এজন্য তারা এদেশে তাদের ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজ আর প্রযুক্তি নিয়ে তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় আগত ব্যবসায়ি ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে এই মনোভাবের কথা জানা যায়।

সোমবার রাজধানীর গুলশানের সিক্স সিজন হোটেলে দুই দিনব্যাপি ‘১ম তাইওয়ান টেক্সটাইল মেলা দক্ষিণ এশিয়া-২০১৫’র উদ্বোধন করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো‘র (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু। এসময় উপস্থিত ছিলেন তাইওয়ানের এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলের (টিএআইটিআরএ) ঢাকা অফিসের পরিচালক ড্যানি ইয়ং।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, তৈরি পোশাকের বিদেশী ক্রেতার পাশাপাশি এখন বিদেশী বিনিয়োগকেও সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। এখানকার তৈরি পোশাকের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে থাইল্যান্ড। এজন্য তাদের আছে উদ্বৃত্ত ফান্ড আর পর্যাপ্ত জ্ঞান।

তিনি বলেন, এখানকার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) নীতি খুবই সহায়ক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ড চাইলে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে বিয়োগ করে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লাভ করতে পারবেন। শুভাশীষ বসু বলেন, এখানকার রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্রায় ২২০মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমান সরকার আরও ১০০ টি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ি প্রতিনিধিদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান। এসময় তিনি তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া, গার্মেন্ট এক্সেসরিজ ও ফেব্রিক্স খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

মেলায় আগত বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোরশেদ জানান, তাইওয়ান মূলত পলেস্টার ফেব্রিক্স তৈরিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। তাদের পন্যের মান যেমন ভালো, দামও চীন, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় ১০-২০ শতাংশ কম। তিনি কয়েক বছর ধরে দেশটি থেকে পলেস্টার ফেব্রিক্স আমদানি করেন বলেও জানান। আরেক ব্যবসায়ি তারেক শিবলী জানান, তাইওয়ান উচ্চ মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করে। বিশ্ব মন্দার কারণে এসব পণ্যের চাহিদা এখন কম। বাংলাদেশ মূলত কম মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করে। যা পরিমানে অনেক বেশি। তাই তাইওয়ানের ব্যবসায়িরা এখন ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজ আর প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের বাজারকে কাজে লাগাতে।

তাইওয়ান ব্যবসায়ি প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির ইউনিভার্সেল টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেডের সেকশন ম্যানেজার ওট্টো হসু জানান বাংলাদেশে তাইওয়ানের বাজারকে আরও সম্প্রসারিত করতেই তারা মেলায় এসেছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজারের সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের কাছে আমাদের ফেব্রিক্সের চাহিদা বেশ। আমরা এটাকে আরও বাড়াতে চাই।

ইউনিভার্সেল টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেফ চ্যান বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ার এসে থাকে। তাই এই দেশ আমাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ন। তিনি বলেন, বাজারে নিজের অবস্থান ভালো করতে পারলে ভবিষ্যতে এখানে বিনিয়োগ করার বিষয়টিও তারা ভাববেন।

স্পোটর্সওয়্যার ফেব্রিক্স প্রস্তুতকারী টেক্সট্রা কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি ড্যানিয়েল হ্যাঙ বলেন, বাংলাদেশের বাজারে তারা নতুন। তবে, এদেশের স্পোটর্সওয়্যার রফতানিকারকদের কাছে তার ফেব্রিক্স তুলে ধরতেই এই মেলায় এসছেন।

ইমেন্সে নামক এক্সেসরিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী মিরান্ডা প্যান বলেন, বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে বাটন আমদানি করে। তারা আরও বেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে তা রফতানি করতে চাই।

তাইওয়ান টেক্সটাইল ফেডারেশন (টিটিএফ) ও ব্যুরো অব ফরেন ট্রেডের আয়োজনে ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া এক্সিবিশন বার্ষিক এই মেলা আয়োজন করেছে। এতে সার্বিক পৃষ্টপোষকতায় করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।