২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন

রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) বিল-২০১৫ পাস হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থীরা স্ব-স্ব দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা এর আওতায় বাইরে। তারা আগের মতোই নিজ পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ নিতে পারবেন দলীয় পরিচয়ে। ফলে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনী বিধান যুক্ত হলো। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ও মহিলা কাউন্সিলর এই তিন পদেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক দলগুলোও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেবে। অবশ্য এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অরাজনৈতিক পরিচিতি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কখনই ছিল না। প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি যুক্ত থাকত। অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও প্রচারকার্য চালানো হতো দলীয় পরিচয়েই। এমনকি নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময়ও প্রার্থীদের দলীয় পরিচয়টি তুলে ধরা হতো। এতে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে জনগণের রায় এবং তাদের আশা-আকাক্সক্ষা পূর্ণ হওয়ার পথ আরও সুগম হবে আশা করা যায়। জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় ওই সময় দেশে প্রায় আড়াই শ’ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে পৌরসভা নির্বাচনে কেবল কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই তাদের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবে। পৌরসভা নির্বাচনের আগে নতুন কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেয়ার সুযোগ থাকছে না। অনেকে মনে করেন নতুন অধ্যাদেশ জারি করায় এখন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী বিষয়ক অতীতে যে সমস্যার সৃষ্টি হতো এখন তা হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। এতে দলীয় সমর্থক, কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ভেতরও এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাবে। নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও নিজের ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখাসহ জনপ্রত্যাশা পূরণে সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিরা দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। বিশ্বের বহু দেশেই দলীয় পরিচয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে স্থানীয় নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারবে। এ কথা সত্য, সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে স্থানীয় সরকারের ওপর। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তাদের কাজে বাধা কম আসবে। কাজে গতি বাড়বে। তবে অনেক সময় স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নানা ধরনের অপরাধে জড়িত হন। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নজরদারির আওতায় রাখা সহজ হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে কমবেশি সহিংসতা হয়ে থাকে। নির্বাচন যাতে সহিংসতামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। পৌরসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দক্ষতার পরিচয় দেবে, নির্বাচন কমিশনও সব বিতর্কের উর্ধে উঠে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এমন প্রত্যাশা সবার।