২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ

  • তরুণদের রিক্রুট করতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তৎপরতা

ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর যোদ্ধা সংগ্রহের জন্য সন্ত্রাসী দলটি পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর দিয়েছে। তরুণদের রিক্রুট করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে যেসব রাজ্যকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ তাদের অন্যতম হতে পারে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর জরিপে একথাই বলা হয়। এ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি এর সঙ্গে যুবকদের উৎসাহিত করতে কেবল সাইবার রুটই খোলেনি, তারা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী কোন কোন জেলায় সশরীরে এর সদস্যদের উপস্থিত হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে।

খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কয়েকবার রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সন্ত্রাসী তৎপরতার সম্ভাব্য স্থল বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং উল্লেখ করেছেন। তবে সরকার এখনও রাজ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতা মনিটর করার জন্য কোন সাইবার সেল খোলেনি।

১২টি রাজ্যের ডিজিপিদের সঙ্গে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সাবেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এল সি গোয়েল উল্লেখ করেন যে, যে সব জায়গা থেকে উৎসুক যুবকরা ইসলামিক স্টেটের তৎপরতা এবং সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এর পরামর্শ নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করছে হাওড়া তাদের অন্যতম।

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রধান জি.এম পি, রেড্ডিও ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এরপর মন্ত্রণালয় সাইবার বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করতে রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানায়। এ টিম যাতে সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো মনিটর করতে পারে, সেজন্য একে বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশনে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এমন কি চার মাস পরও রাজ্য সরকার টিম গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাজ্যে কিছু কিছু তৎপরতা চলছে এবং আমরা আমাদের নিজস্ব উপায়ে এবং বর্তমান ব্যবস্থাধীনে সেগুলোর খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা এ মুহূর্তে কোন সার্বক্ষণিক সাইবার টিম গঠন করতে পারছি না। আমাদের জনবলের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। যে পর্যন্ত না সেই সমস্যার সুরাহা করা হয়, সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো মনিটর করতে দক্ষ কর্মকর্তাদের ছেড়ে দিতে পারছি না। কোন কোন জায়গা থেকে আইএস যুবকদের রিক্রুট করার চেষ্টা করছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাইবার সেল দেশব্যাপী জরিপ চালানোর পর সন্ত্রাসীদের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের নাম ভেসে ওঠে।

জরিপ অনুযায়ী, যেসব জায়গার ১৬ থেকে ৩০ বছরের যুবকরা অনলাইনে আইএসের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে, সেসব জায়গার মধ্যে শ্রীনগর, গুয়াহাটি ও চিনবোদের (পুনের এক উপশহর) পরই চতুর্থ শহর হিসেবে রয়েছে হাওড়ার নাম। আইএস যে বাংলায় এর প্রচার চালাচ্ছে, কেবল তাই নয়, গত দু’মাসে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে বহুসংখ্যক আইএস পোস্টার আটক করা হয়।

জেলা পুলিশ পোস্টার আটক করার বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর এক রিপোর্টে বলা হয়, ১৭টি গ্রাম থেকে ১৪৭টি পোস্টার আটক করা হয় এবং এদের মধ্যে ১১টি গ্রাম মুর্শিদাবাদে এবং ৬টি নদিয়ায় অবস্থিত। পোস্টারগুলোতে বলা হয়, ভারতের মুসলমানদের জন্য প্রস্তাবিত এক স্বাধীন আবাসভূমির নাম মোগালিস্তান বা মোগলস্তান। জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) কর্মীরা এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করেছে। এটি আইএস জঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুুযোগ সৃষ্টি করবে। এসব ভালভাবে জানা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে রয়েছে এবং এখনও এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি।