২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় চিটাগাং ভাইকিংসের

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় চিটাগাং ভাইকিংসের
  • সিলেট সুপার স্টারসকে ১ রানে হারাল

মিথুন আশরাফ ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল-টি২০) সোমবার নাটকের দেখা মিলল। একাদশে চার বিদেশী ক্রিকেটার থাকতেই হবে। এ হচ্ছে শর্ত। সেই শর্ত পালন করল না সিলেট সুপার স্টারস। দুই বিদেশী নিয়ে খেলতে নামল। এরপরও চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে সিলেট সুপার স্টারসের ম্যাচটি হল! তাতে শেষ বলে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ রানে হারল সিলেট সুপার স্টারসই। চিটাগাং ভাইকিংস টুর্নামেন্টে প্রথম জয়ও তুলে নিল।

ম্যাচে টস জিতল মুশফিকুর রহীমের সিলেট সুপার স্টারস। চিটাগাং ভাইকিংসকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানাল সুপার স্টারস। সুযোগটি ভালভাবেই কাজে লাগাল তামিম ইকবালের দল। ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে চিটাগাং ভাইকিংস। তামিম ৬৯ ও ক্যারিয়ারের প্রথম টি২০ খেলতে নামা ইয়াসির আলী ৬৩ রান করেন। জবাবে অনেক চেষ্টার পরও মুশফিকুর রহীম (৫০*) দলকে জেতাতে পারলেন না। পুরো ২০ ওভারই খেলল সিলেট সুপার স্টারস। ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করল।

ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা দুপুর ২টায়। সেখানে দুপুর ৩টা ৭ মিনিটে শুরু হল খেলা। এর আগে এই একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলল নাটক! কি সেই নাটক? নিয়ম হচ্ছে বিদেশী ক্রিকেটারদের দলে খেলাতে হলে সেই ক্রিকেটারের নিজ দেশের বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) লাগবে। কিন্তু যখন টস করা হয় তখন সিলেট সুপার স্টারসের জসুয়া কব ও রবি বোপারার এনওসি আসেনি। তাই দলটি একাদশে এ দুইজনকে রাখেওনি। যখন টস হল এরপর এ দুইজনেরই এনওসি আসল এবং তখন মাঠে এ দুই বিদেশী ক্রিকেটারকে নামাতে চাইল। এ নিয়েই শুরু হল ঝামেলা। মাঠে কব ও বোপারার উপস্থিতি মানতে চাইল না চিটাগাং ভাইকিংস। কারণ টস করার সময় এ দুইজন একাদশেই ছিলেন না। পরে যুক্ত হয়। এ নিয়েই খেলা বন্ধ থাকল একঘণ্টারও বেশি সময়। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হল। খেলাও শুরু হল। কিন্তু চার বিদেশী খেলানোর যে নিয়ম আছে তা আর মানা হল না। দিলশান মুনাভিরা ও অজন্থা মেন্ডিসকে নিয়েই মাঠে নামল সিলেট সুপার স্টারস। সবাই তখন আশ্চর্য! এ কি হল। বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিল যে নিয়ম করে দিয়েছে সিলেট সুপার স্টারস তা মানল না। খেলা শুরু হয়ে গেল। তিলকরতেœ দিলশান কিছুই করতে পারলেন না। রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে গেলেন। তবে তামিম ও ইয়াসির মিলেই দলকে ৯৩ রানে নিয়ে গেলেন। দুইজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়লেন। এখানে চিটাগাং ভাইকিংস বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে গেল। ৯৩ রানের সময় ৪৫ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ রান করা তামিম আউট হতেই ১৩৮ রানের মধ্যে চার উইকেটের পতন ঘটল চিটাগাং ভাইকিংসের। এনামুল হক বিজয় (৩) ও জীবন মেন্ডিস (২০) সাজঘরে ফিরলেন। এরপর ইয়াসিরের সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিনোদন দিলেন। ৭ বলেই ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ রান করে ফেলেন জিয়া। ১৮০ রানের সময় ইনিংসের শেষ বলে গিয়ে ইয়াসির আউট হলেও জিয়া অপরাজিতই থাকেন।

বড় স্কোরই গড়ল চিটাগাং ভাইকিংস। তবে শুরুতেই মুনাভিরা ঝলক দেখান। দ্বিতীয় ওভারে ৬ বলে ৬টি চার হাঁকান। এক দিলশান (মুনাভিরা) আরেক (তিলকরতেœ) দিলশানের এক ওভারেই ২৪ রান নিয়ে নেন। সেইসঙ্গে ২ ওভারে যে সিলেট সুপার স্টারসের স্কোরবোর্ডে ২৯ রান জমা হয়, সব রানই নেন মুনাভিরা। উদ্বোধনী জুটিতে মুনাভিরা ও জুনায়েদ সিদ্দিকী মিলে ৬৬ রান জমা করেন। একদিকে জুনায়েদ উইকেট ধরে খেলেন। আরেকদিকে মুনাভিরা বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। দলের ৬৬ রানের সময় জুনায়েদ (৫) আউট হওয়ার আগেই মুনাভিরা অর্ধশতক করে ফেলেন। আর ১০ রান যোগ হতেই ৩০ বলে ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ৬৪ রান করা মুনাভিরাকে সাজঘরে পাঠান সাঈদ আজমল। একই সময় মুমিনুল হকও (২) আজমলের শিকার হন। মুমিনুল আউটের পর মুশফিকুর রহীম ও নুরুল হাসান মিলে অনেক দূর এগিয়ে যান। দলকে ১৩১ রানে নিয়ে যান এবং ৫৫ রানের জুটি গড়েন। এমন সময়ে শফিউল বল করতে এসে নুরুলকে (৩২) সাজঘরে ফেরান। কিছুটা এগিয়ে যেতে দলের ১৪৫ রানের সময় নাজমুল হোসেন মিলনকে (৯) বোল্ড করে দেন শফিউল। তখন সিলেট সুপার স্টারসের জিততে ২৪ বলে ৩৬ রানের প্রয়োজন থাকে। মুশফিক উইকেটে থাকায় সিলেট সুপার স্টারসের জয়ের আশা ভালভাবেই থাকে। ১৮ বলে জিততে ২৬ রানের প্রয়োজন থাকে। হাতে থাকে ৫ উইকেট। এমন সময়ে মোহাম্মদ আমের বল করতে আসেন। দলের যখন ১৩ বলে ২১ রানের প্রয়োজন অহেতুক রান আউট হয়ে যান মোহাম্মদ শহীদ (৩)। ১২ বলে ২১ রানের প্রয়োজন থাকে শেষে। তাসকিন আহমেদ বল করতে আসেন। দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দেন মুশফিক। ১৯তম ওভারে ১২ রান আসে। ৬ বলে জিততে ৯ রান লাগে। আমের শেষ ওভারটি করতে আসেন। মুশফিক ব্যাটিংয়ে থাকেন। প্রথম বলে এক রান নেন মুশফিক। অজন্থা মেন্ডিস ব্যাটিংয়ে থাকেন। পরের দুই বলে কোন রানই আসেনি। ৩ বলে জিততে তখন ৮ রান লাগে। যে কোন দল জিততে পারে। এমন সময়ে চতুর্থ বলে অনেকটা জোর করেই এক রান নেন মুশফিক। ২ বলে জিততে ৭ রানের প্রয়োজন থাকে। টান টান উত্তেজনা তৈরি হয়। মুশফিক ব্যাটিংয়ে আর আমের বোলিংয়ে। কি ঘটবে? মুশফিক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দেন। ১ বলে তখন জিততে ৩ রানের প্রয়োজন থাকে। মুশফিক এবার ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। সেই সঙ্গে মুশফিকের অর্ধশতকও হয়। তবে হার হয় ১ রানের। টুর্নামেন্টের প্রথমদিনে চিটাগাং ভাইকিংস ২ উইকেটে রংপুর রাইডার্সের কাছে হারলেও দ্বিতীয় দিন জয় তুলে নেয়।

নির্বাচিত সংবাদ