২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিসেম্বরে দলবদল, চট্টগ্রাম আবাহনীতে পূর্ণিমা!

  • মজিবর রহমান

ফুটবলারদের দলবদলকে ঘিরে যে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি সেটা হয়ত এই মুহূর্তে নিষ্পত্তি হবে না। তবে দলবদল ঠিকই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বছরই। শীতের আবহে নতুন বছরের আগমনী বার্তা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। নতুন বছর শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়। আর এ সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খেলোয়াড়দের জার্সি বদলের পালা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সূত্রে জানা গেছে আগামী মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বরেই শুরু হবে এ কার্যক্রম। বিষয়টা চূড়ান্ত হবে আজকের লীগ কমিটির সভায়। মূলত এটাই মূল এজেন্ডা। পাশাপাশি আগামী মৌসুমের ক্যালেন্ডারও ঠিক করা হবে যেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঘরোয়া ফুটবলের সময় নির্ধারণ করবে লীগ কমিটি। সূত্র মতে পেশাদার (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) লীগ দিয়েই মাঠে গড়াবে ২০১৫-১৬ মৌসুমের বল। যদিও কমিটির অনেকে ফেডারেশন কাপ দিয়ে মৌসুম শুরুর পক্ষে। সঙ্গত কারণে সভায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে কোন আসর দিয়ে যাত্রা শুরু হবে নতুন বছরের ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এদিকে মহানগর ক্লাব সমিতির এক শীর্ষ কর্মকর্তা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, বাফুফের বর্তমান কমিটির অধীনে দলবদলসহ ঘরোয়া ফুটবলের কোন কার্যক্রমে অংশ নেবেন না তারা। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন অবশ্য আগেরদিনই (পরশু) জেনে গেছেন জনকণ্ঠের পাঠকরা। প্রসঙ্গত বিশ্ব ফুটবলের শাসক সংস্থা ফিফার তত্ত্বাবধানে বাফুফের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের মার্চ/এপ্রিলে। নির্বাচন পরবর্তী দলবদল করতে গেলে মাঝে লম্বা সময় নষ্ট হতে বাধ্য। কিন্তু বাফুফে অনড়, সময় নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়েই ফুটবলারদের দলবদলসহ ঘরোয়া ফুটবল চালু করতে। এখন সময় ভাল বলতে পারবে পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয়। তবে বাফুফের শীর্ষ এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, দলবদলের জন্য মুখিয়ে আছে পেশাদার লীগের ক্লাবগুলো। এরমধ্যে দু’একটি ক্লাব হয়তো ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা করছে। তবে প্রায় সব বড় দলই এই মুহূর্তে দলবদলের পক্ষে। আমরা আজ তারিখ জানিয়ে দেব। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও ক্লাব কার্যক্রমে অংশ না নিলে আমাদের করার কিছু নেই। দলবদল করুক বা না করুক, সূচী অনুযায়ী মাঠে নামতে বাধ্য সব ক্লাব। আর না খেললে বাফুফের নিয়ম অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ। ওয়াকওভার মানেই বাইলজ অনুযায়ী অবনমন অবধারিত। কাজেই আমার মনে হয় এই ঝুঁকি কোন দল নেবে না, যদি তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য বা দলগড়ার সামর্থ্য না থাকে। উক্ত কর্মকর্তা জোর দিয়েই বললেন, আমাদের কার্যক্রম বাফুফের বিধান অনুযায়ী চলবে। এর বাইরে অন্য কোন কথা নেই। তিনি বললেন, আমি তো দেখছি দলবদল শুরুর চাপটাই বেশি। তবে দু’একটি ক্লাব যে এই মুহূর্তে দলবদলে অংশ নিতে চাচ্ছে না এটাও ঠিক। তবে দলবদল যে আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই।

এদিকে ফুটবলারদের তাঁবু বদলে এবার অনেক চমক অপেক্ষা করছে। ব্যাপক রদবদল হতে পারে শিরোপা প্রত্যাশী দলগুলোর তাঁবুতে। গতবারের লীগ রানার্সআপ শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র এবার আরও সুবিন্যস্ত দল গঠনে তৎপর। এ ছাড়া বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলের শিরোপা জয়ী চট্টগ্রাম আবাহনী। জাতীয় দলের একাধিক তারকা ফুটবলারকে দেখা যেতে পারে বন্দর নগরীর এই স্বনামখ্যাত এই ক্লাবে। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ রাসেল কেসির বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে। উক্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলের সুনাম ঘরোয়া ফুটবলেও দেখাতে চায় দলটি। আর এ কারণে বিশাল বাজেটের দল গড়তে তৎপর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই স্বপ্ন বা প্রত্যাশা যদি তারা বাস্তবে পরিণত করতে পারে তবে পূর্ণিমার চাঁদ তার স্নিগ্ধ আলো ছড়াবে চট্টগ্রামসীর জন্য। চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সি জড়িয়ে ঝড় তোলা শেখ রাসেলের খেলোয়াড়দের হয়তো তারা পাবে না ঘরোয়া ফুটবলে। কারণ বেশিরভাগ খেলোয়াড় ইতোমধ্যে আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে শেখ রাসেলেই। তবে লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বড় ক্ষতি করে দিতে পারে চট্টগ্রাম আবাহনী। কারণ শেখ জামালের ফুটবলাররা এখনও মুক্ত। ক্লাবের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি হয়নি বলে জানা গেছে। তবে সফল আলোচনা তারা করে রেখেছেন ফুটবলারদের সঙ্গে। সেটা ধরে রাখতে না পারলে এই সুযোগটা কাজে লাগাবে নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম আবাহনী। একইভাবে ঢাকা আবাহনীও দীর্ঘদিন পর সম্ভব গাঝাড়া দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

কারণ লীগ শিরোপা তারা কবে জয় করেছে হয়তো তা ভুলে গেছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। ফলে এবার আলোচনায় আসতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে আকাশী-হলুদ শিবির। তবে বাফুফের ঘোষিত সময়ে শেখ জামাল ও ঢাকা মোহামেডান যদি দলবদলে অংশ নেয় তাহলে সমৃদ্ধ দল গঠনে খেলোয়াড় টানার লড়াইটা দারুণ জমবে। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে ঢাকা আবাহনীর জার্সিতে নাকি দেখা যাবে একাধিক তারকা ফুটবলার। এরই মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে। এরমধ্যে জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল অন্যতম। তবে সূত্র মতে চট্টগ্রাম আবাহনীও চাচ্ছে মামুনুলকে সামনে রেখে সমৃদ্ধ দল সাজাতে। ঢাকা মোহামেডানও পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে যেতে চাইছে এবার সাড়া জাগানো একটি দল গড়ে। এক কথায় নামী সব দলই তৎপর চ্যম্পিয়ন ফাইটের দল গড়তে। কিন্তু সময় খুবই কম। বাফুফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বরে দলবদল হলে এক মাসও সময় পাবে না ক্লাবগুলো। এতে কোন দলের আর্থিক ভিত বা মাজার জোর কত তাই দেখার।

নির্বাচিত সংবাদ