২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াশিংটনে টিকফার দ্বিতীয় বৈঠক শুরু, ইতিবাচক সাড়া মিলেছে

এম শাহজাহান ॥ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। দু’দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং এক্ষেত্রে বাধা দূরীকরণে ওয়াশিংটনে এখন টিকফার দ্বিতীয় বৈঠক চলছে। বৈঠকে অংশগ্রহণে ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, টিকফা বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়বে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত যেসব সমস্যা, সঙ্কট ও বাধা রয়েছে তা চিহ্নিত। এখন তা দূরীকরণে টিকফা বৈঠকে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নানা ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

জানা গেছে, রফতানিতে জিএসপি স্থগিত ও বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের মতো চ্যালেঞ্জ থাকার পরও চলতি অর্থবছরের জুলা-Ñসেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যুুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ। আর আয় হয়েছে ১৫৫ কোটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানির এ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভাল অবস্থায় রয়েছে। এখন এটিকে আরও এগিয়ে নিতে হলে যেসব বাধা ও সমস্যা রয়েছে তা আগে দূর হওয়া প্রয়োজন। আর তাই টিকফার (ট্রেড এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট) দ্বিতীয় বৈঠকে এ বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। রফতানিতে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে এবারও জোর দেয়া হচ্ছে।

এছাড়া বাণিজ্য বৃদ্ধি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কয়েকটি বিষয়ে তাগিদ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র সম্পদ বা ব্লু-ইকোনমিতে বিনিয়োগের সুযোগ, মেধাস্বত্ব ছাড়, সরকারের ক্রয় নীতি, আমদানি লাইসেন্স, শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার বাজার সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ট্রেড ইউনিয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারী পদক্ষেপের অগ্রগতি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যেই ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে এই বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশের মূল এজেন্ডা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পাওয়া। জিএসপি ফিরে পাওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রমমান উন্নয়নে যে ১৬ দফার শর্ত দেয়া হয়েছে, সেসব শর্ত পালনেও সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি জানিয়েছেন, দু’দশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করাই হচ্ছে টিকফার প্রধান কাজ। তাই দ্বিতীয় বৈঠকে এবার অনেক নতুন সম্ভাবনাময় দিক যেমন, ওষুধশিল্প থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রফতানির বাধা দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই চুক্তিটি গত ২০১৩ সালে করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তত একবার কিংবা প্রয়োজনে যে কোন সময়ে টিকফার বৈঠক আহ্বান করতে পারবে যে কোন দেশ। তবে গত বছর টিকফার কোন বৈঠক না হতে পারলেও এবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই বৈঠক করার প্রস্তাব দেয়া হয়। বাণিজ্য সচিব আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ‘ব্লু’ বা সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিদ্যুত ও জ্বালানিখাতসহ দেশের বিভিন্ন খাত নিয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ যখন মন্দা তখন এদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কার্যসূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।