২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগে শিবিরের স্পাই !

আহমেদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম অফিস ॥ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর ছাত্রশিবির। বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর, জেলাসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে শিবির তাদের ক্যাডারদের অনুপ্রবেশ করিয়ে সংগঠনটির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। ছাত্রলীগের লেবাস পরে ভেতরে ভেতরে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টি করছে। ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে তারা। চট্টগ্রামেও একই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে শিবির। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর ছাত্রলীগে অসংখ্য শিবির ক্যাডারের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ১৮ নবেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয় থেকে শিবির ক্যাডার কাউছার নিয়াজ সাইমুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সাইমুন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। জুলাই মাসে সম্পন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সাইমুন কাউন্সিলর ছিলেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একজন কাউন্সিলরের শিবির সম্পৃক্ততায় ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন ছাত্রলীগের সাইমুনের মতো আরও অনেক শিবির ক্যাডার ছদ্মবেশে রয়েছে।

খোদ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও সোমবার হরতালবিরোধী সমাবেশে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীরা আমাদের দলেও রয়েছে। ওরা আমাদের দলে ঢুকে মিলেমিশে আছে। তাদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।

মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি বলেন, সাইমুন নয় সারাদেশে ছাত্রলীগে এ রকম অসংখ্য শিবিরের স্পাই রয়েছে। আমরা ছাত্রলীগের কর্মীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করছি। মহানগর ছাত্রলীগে যদি কোন শিবিরকর্মী থাকে, তবে তা অচিরেই শনাক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিবির যতই চেষ্টা করুক ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারবে না। ছাত্রলীগের মধ্যে তারা থাকতে পারবে না।

পুলিশ সূত্র জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের আদেশের দিন নাশকতা ঠেকাতে মঙ্গলবার রাতে দেওয়ান বাজার এলাকায় জামায়াত ও শিবির অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে কাউছার নিয়াজ সাইমুন, জামায়াত ও শিবিরের পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। পরে সাইমুনের বাসা থেকে রামদা, চাপাতি, ছুরি, উস্কানিমূলক লিফলেট, শিবিরের সাংগঠনিক বই ও ‘আলী আহসান মুজাহিদ মুক্তি পরিষদ’র নামে ছাপানো লিফলেট উদ্ধার করা হয়। সাইমুন বাঁশখালীর কাতরিয়া গ্রামের মো ঃ হোসেনের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকা সত্ত্বেও ওই ইউনিট থেকে ২৫ জন কাউন্সিলরের তালিকা দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আগের কমিটির সহ-সভাপতি বাঁশখালী উপজেলার এক ব্যক্তির আশীর্বাদে সে সময় ওই তালিকায় সাইমুনও ছাত্রলীগের কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ পান।

স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সুজন, বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরানুল হকসহ স্থানীয় বেশকিছু ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে সাইমুন উপজেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। সাইমুনকে ছাত্রলীগের কোন একটি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন দুই নেতা। তাকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে রাখা হতো বলে তারা অভিযোগ করেন। সাইমুনকে ছাড়ানোর তদ্বির করতে কেন্দ্রীয় এক ছাত্রলীগ নেতা গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে জানতে বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরানুল হকের মোবাইলে সোমবার একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি।