১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ ছেড়ে দ্বিতীয় দফায় ভারতে চলে গেলেন আরও ২৭৬ জন

  • ছিটমহল বিনিময়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মাতৃভূমি বাংলাদেশকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে সোমবার ভারতে চলে গেলেন আরও ৮৩ পরিবারের ২শ’ ৭৬ জন নারী-পুরুষ। এদের মধ্যে রয়েছে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ পরিবারের ১৪৭ জন এবং লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে ৫৫ পরিবারের ১২৯ জন। সোমবার বেলা আড়াইটায় নীলফামারীর সীমান্ত দিয়ে এবং দুপুর দেড়টায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে চলে যান। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

নীলফামারী/পঞ্চগড় ॥ নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি অভিবাসনের ৭৮২ সীমান্তের প্রধান পিলার দিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে আড়াই মাসের ভারত রায় নামের এক নবজাতকসহ ২৮ পরিবারের ১৪৭ জন সদস্য ভারত গমন করেছে। সোমবার বেলা পৌনে তিনটায় এরা ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে। এদের মধ্যে ৭১ জন পুরুষ এবং ৭৬ জন নারী ও শিশু ছিল। এরা সকলেই পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার কোটভাজনী ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ির বিলুপ্ত ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দা ছিল। এ সময় তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ পরিচিতজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল। এই পথে গত রবিবার পঞ্চগড় থেকে প্রথম দফায় ৪৮ জন সদস্য ভারতে গমন করেছিল। আজ মঙ্গলবার একই পথে পঞ্চগড়ের তৃতীয় দলের ২৯ পরিবারের ১৪৮ জন সদস্যের ভারত গমনের কথা রয়েছে।

পঞ্চগড় ও নীলফামারী নাগরিক অধিকার সমন্বয় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সকল প্রকার সার্বিকভাবে ভারত গমনকৃতদের সহযোগিতা করছেন। এদের পঞ্চগড় জেলা দেবীগঞ্জ উপজেলার গজঘাঁটি নামক স্থান থেকে চারটি বাসে এবং ৭টি ট্রাকে মালপত্রসহ তাদের চিলাহাটি নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টা থেকে এখানকার আব্দুল রউফ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পে তাদের দুটি বুথের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। পঞ্চগড়ের এই দ্বিতীয় দলটি ভারতের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরের সময় ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম, কাস্টমস ইমিগ্রেশনের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন হাফিজ, রাজস্ব কর্মকর্তা আহসান হাবিব, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ময়নুল ইসলাম, ৫৬ বিজিবির পক্ষে সুবেদার আব্দুল ওহাব, ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের, ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনছুর আলী প্রমুখ। অপরদিকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- কুচবিহারের জেলা শাসকের এডিএম আয়শা রানী, ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রমাকান্ত গোপ্তা, বিএসএফের ৫৮ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডার একে ঝা, কাস্টম সুপার সন্দীপ ব্যান্যার্জী প্রমুখ।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় দফায় বিলুপ্ত বালাপাড়া খাগরাবাড়ি ও কোটভাজিনী ছিটমহল থেকে ২৮টি পরিবারের ১৪৭ জন চিলহাটী-হলদিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান। দুপুর আড়াইটায় ৭টি ট্রাকে মালামাল নিয়ে ৪টি বাসে এসব নতুন ভারতীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার বিলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবারের এক নবজাতকসহ ১৪৯ জন ভারতে যাওয়ার কথা।

লালমনিরহাট ॥ ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড় দেশ। তাই সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সদ্যবিলুপ্ত পাটগ্রাম উপজেলায় ভৌগোলিকভাবে অবস্থিত সদস্য বিলুপ্ত ভারতীয় ৫৫টি ছিটমহলের ১২৯ জন আজ সোমবার দুপুর দেড়টায় বুড়িমারী ইমিগ্রেশন রুট দিয়ে ভারতে স্থায়ী বসবাসের জন্য চলে গেছে।

এ বছরের ৬-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ভারত যৌথভাবে ছিটমহলে জন সমীক্ষা হয়। এতে লালমনিরহাট জেলা সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের ভৌগোলিকভাবে ৫৯টি ভারতীয় ছিটমহল ছিল। এসব ছিটমহল হতে ১৯৫ জন বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। এতে ভারত সরকার তাদের ট্রাভেল পাস দেয়। প্রথম দফায় এ মাসের ১৯ তারিখে ৬২ জন ভারতে যায়। দ্বিতীয় দফায় ২৩ নবেম্বর দুপুর একটা ৩০ মিনিটে ১২৯ জন ভারতে যায়। তবে বিবাহ সূত্রে ও শিশু জন্মগ্রহণ করায় ভারতে যাওয়ার সংখ্যা দুইজন বৃদ্ধি পায়। সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৭ জনে। প্রথম দফায় কাগজপত্র ভুল থাকার কারণে দুটি পরিবারের চারজন যেতে পারেনি। একজন মুসলিম যুবক মহুবর উপস্থিত হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ১৩০ জনের মধ্যে ভুট্টু নামের একজন উপস্থিত হয়নি। ভুট্টু বাঁশকাটা ১১২ নম্বর ছিটমহলের বদির উদ্দিনের পুত্র।

সদ্যবিলুপ্ত ছিটমহলে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা পরিবারগুলো ভারতে যাওয়ার জন্য ভোরে ইমিগ্রেশন রুটে গিয়ে উপস্থিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ভারতের প্রশাসন তাদের গ্রহণ করে। পাটগ্রামের যে ১২৯ জন ভারতের ট্রাভেল পাস নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছে তারা হলেন- ছিট নং ১১২ বাঁশকাটা, ছিট নং ১১৫ বাঁশকাটা ও ছিট নং ১১৯ বাঁশকাটা। দ্বিতীয় দফা ভারতে স্থায়ী বসবাস করতে যাওয়া নাগরিকদের গ্রহণ করে ভারতীয় কুচবিহার জেলা প্রশাসন।