২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করুন

  • গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করে পাকিস্তান যে বিবৃতি দিয়েছে তা প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার শাহবাগে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চ। এই কর্মসূচীতে মঞ্চের নেতারা সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।

যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদ-ের পর পাকিস্তানের আপত্তিকর বিবৃতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, সন্তুষ্টিজনক জবাব দেয়া না হলে মঞ্চের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানের দূতাবাস ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। এ সময় চলমান সংসদ অধিবেশনে পাকিস্তানের বিবৃতির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান তিনি।

যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের ও আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর উপলক্ষে গণজাগরণ মঞ্চের বিজয় র‌্যালির পূর্বে জামায়াতের ডাকা হরতাল প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। বেলা সাড়ে এগারোটায় শাহবাগ থেকে হরতালবিরোধী মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে ফিরে আসে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও উদ্বেগ জানিয়েছিল পাকিস্তান। ‘পাকিস্তানের প্রতি অনুগত এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় দেশটির সেনাবাহিনীকে সমর্থন করায়’ কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে দাবি করে তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

তা নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে ওই প্রস্তাব গ্রহণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এর প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে একাধিক দিন গুলশানে পাকিস্তানের হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হয়। তখন পুলিশের লাঠিপেটায় ইমরানসহ আহত হয়েছিলেন অনেকে। ২৫ বছরের শোষণ-বঞ্চনার পর বাঙালীদের স্বাধিকারের দাবিকে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নির্বিচার হত্যাকা- শুরু করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। তখন প্রতিরোধ যুদ্ধে নামে বাঙালীরা। নয় মাসের রক্তাক্ত সংগ্রামের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে ইমরান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ধারাবাহিক বিচারে দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। কিন্তু ঘাতক গোষ্ঠী ও তাদের দোসররা বসে নেই। নানাভাবে তারা চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যেন কোনভাবেই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। যাদের রায় হয়েছে সেসব রায় দ্রুত কার্যকর করে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারে যত বিলম্ব হবে, যুদ্ধাপরাধীরা এবং তাদের সহযোগীরা দেশে খুন, সহিংসতা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে যাবে। আর কোন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। জামায়াতের অর্থনৈতিক উৎস ভেঙ্গে দিতে হবে। জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের পরিচায়নায় আনতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করারও দাবি জানান তিনি।

কুখ্যাত দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকরের পর তাদের সন্তানদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে ইমরান এইচ সরকার বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা এদেশের মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার করেছে, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণের মতো অপরাধ করেছে, তাদের বিচার হওয়ায় সারা দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। রাজাকারদের আস্ফালনের উপযুক্ত জবাব বাংলাদেশের মানুষ দিয়েছে। রাজাকারের সন্তানদের এই ঔদ্ধত্যের জবাবও সময়মতো দেয়া হবে।

সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকরের পর পাকিস্তানের বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, পাকিস্তান তার দালালদের রক্ষা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হলেই পাকিস্তানের বক্তব্য-বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, এই যুদ্ধাপরাধীরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আজীবন পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তান নাক গলানো বন্ধ না করলে কাদের মোল্লার রায়ের পর যেভাবে মানুষ পাকিস্তানের বক্তব্যের প্রতিবাদে হাইকমিশন ঘেরাও করতে রাজপথে নেমে এসেছিল, সেভাবে প্রয়োজনে আবারও বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের ধৃষ্টতার জবাব দেবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করে পাকিস্তান যে বিবৃতি দিয়েছে তা প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করতে হবে। জামায়াতের ডাকা হরতাল প্রতিহতের দায়িত্ব সাধারণ জনগণ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে বলে জানান ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ যার যার কাজে যোগদান করে, রাস্তায় বেরিয়ে জামায়াতের হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততার কারণে হরতাল প্রতিহত করতে কোন সংগঠিত শক্তির প্রয়োজন হয়নি।

যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা এদেশের মানুষকে শোষণ করে তৈরি করা তাদের অঢেল সম্পদ এদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিঘিœত করতে কাজে লাগাচ্ছে। তাদের মদদে এদেশে জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বেঁচে আছে। যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। গান, কবিতা, সেøাগানের মাধ্যমে হরতালবিরোধী অবস্থান চালিয়ে যান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। বিকেলে এ কর্মসূচী শেষ হয়। প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কর্মসূচীতে অংশ নেন।

নির্বাচিত সংবাদ