২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলবায়ু পরিবর্তনে ঢাকার জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেবে

  • ৩৫ বছরে ক্ষতি হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা;###;বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ঝুঁকি মোকাবেলায় স্মার্ট পলিসি গ্রহণের পরামর্শ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিশ্বব্যাংক বলেছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতায় আগামী ৩৫ বছরে ক্ষতি হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজধানীর ঢাকাকে ঘিরে ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করতে হবে। তা না হলে জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সমস্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে ঢাকা। কিন্তু বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে বাজেটে বরাদ্দ অপ্রতুল। এই অবস্থায় তীব্র বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় স্মার্ট পলিসি গ্রহণ করা দরকার। বৃহত্তর ঢাকার জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার ঝুঁকি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংস্থাটির ঢাকা অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের

মাধ্যমে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির

পরিবেশবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সুষ্মিতা দাশগুপ্ত। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ ড. আইনুন নিশাত, ওয়াটার রিসোর্স কনসালটেন্ট ড. আসিফ জামান, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের উর্ধতন

কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে ঢাকার সব খাল ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাল উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে গেলে সবাই হাইকোর্টে যায়, বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে। সেক্ষেত্রে আমার কি করার আছে। এক্ষেত্রে যেটা হয়, সেটি হচ্ছে মেয়র আসে, মেয়র যায় কোর্ট কেস শেষ হয় না। তারপরও আমি আশা করছি সকল খাল দখলমুক্ত করা হবে। তিনি জানান, রাজধানীতে সরকারের ৫৬টি সংস্থা কাজ করে। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা কম। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। যেমন খাল রক্ষার দায়িত্ব আমার নয়, আবার খালের পাশে সড়ক ও পাড় দেখার দায়িত্ব আমার। আমি যদি খাল উদ্ধারে টাকা খরচ করতে যাই তখন দুর্নীতির অভিযোগ আসবে, দুদক ধরবে। বলবে খাল উদ্ধারের দায়িত্ব তোমার নয়। তখন আমি কি করবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে আমেরিকা, চীন, জাপানের জন্য আমাদের দেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি ড্রেন করে দিতে পারি, কিন্তু তাতে কতটুকু লাভ হবে। সব ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সকল পক্ষের ব্যাপক সহায়তা। আনিসুল হক আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা খাল ও নদী দখল হয়ে যাওয়া। দেখা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি খাল শুরুতে ২০০ ফুট হলেও অনেক স্থানে তা ৫০ ফুট হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা এই দখলের সঙ্গে জড়িত থাকে বিধায় উদ্ধার করা কঠিন। এজন্য জলাবদ্ধতাও রাতরাতি নিরসন সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকায় অব্যাহত বন্যা ও জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জীবন ও

জীবিকাকে ব্যাহত করছে। সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে রাজধানীকে ঘিরে নদী বা খাল

পাড় এলাকা ও বস্তিতে বসবাসকারীরা। আগামী দশকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে

আরও ঘন ও তীব্র বৃষ্টিপাতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হার বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, যদি জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়

তবে ২০৫০ সাল নাগাদ অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ১১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হবে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির আশঙ্কাসহ হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান ও পয়ঃনিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও, বৃষ্টিপাতের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেক ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা কমাতে বর্ষার নিষ্কাশন পাম্পের জন্য ২৭০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। এছাড়া নিষ্কাশন পাইপ ক্লিয়ারিং স্থাপন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ধারণা পত্র ও অন্যান্য ব্যবস্থা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাত্রা আরও বাড়াতে হবে। ২০৫০ নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা করতে ক্রমবর্ধমান হারে আরও ১৩০ কোটি

টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যাংক-পূর্ব ঢাকা, গোরান চাঁটবাড়ি, কল্যাণপুর, সেন্টাল ঢাকা, পুরান ঢাকা, ডিএনডি এবং নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সরেজমিন গবেষণা চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।