২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াত কর্মী মুফতি অংশ নিয়েছিল নীলাদ্রি হত্যায়

  • নিশ্চিত হতে চলেছে গোয়েন্দারা

গাফফার খান চৌধুরী ॥ মুক্তমনা ব্লগের লেখক নীলাদ্রি চ্যাটার্জী নিলয় হত্যায় গ্রেফতারকৃত জামায়াত কর্মী মুফতি আবদুল গাফফার সরাসরি অংশ নিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। কারণ হত্যাকা-ের প্রত্যক্ষদর্শী নিলয়ের স্ত্রী ও শ্যালিকার বর্ণনার সঙ্গে আবদুল গাফফারের অনেক কিছ্ইু মিলে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আবদুল গাফফার ছাড়াও নিলয় হত্যায় গ্রেফতারকৃত দুই শিবির নেতাকেও দুই প্রত্যক্ষদর্শীকে দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতারকৃত ৩জনই ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। নিলয় হত্যায় নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত বলে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত নিলয় হত্যায় গ্রেফতারকৃত ৭ জনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। এদের অনেকেই জামায়াত-শিবিরের পদধারী নেতা এবং সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে রাজাধানীর খিলগাঁও থানাধীন পূর্ব গোড়ানের ৮ নম্বর সড়কের ১৬৭ নম্বর পাঁচতলা বাড়ির পঞ্চমতলার পূর্ব দিকের ভাড়া বাসায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জী নিলয়কে (৪০)। হত্যার সময় নিলয়ের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে বারান্দায় আর তার বোনকে রান্না ঘরে আটকে রেখেছিল হত্যাকারীরা।

নিলয় হত্যায় জড়িত সন্দেহে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট সাদ আল নাহিন ও মাসুদ রানা, গত ২৭ আগস্ট কাউছার হোসাইন খান (২৯) ও কামাল হোসেন সর্দার (২৯) এবং সর্বশেষ গত ১৭ নবেম্বর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মুফতি আবদুল গাফফার, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানার ভাটিয়ারী ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মর্তুজা ফয়সাল সাব্বির ও সীতাকুন্ড থানা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটাার জেনারেল তারেকুল আলম তারেক ডিবির হাতে গ্রেফতার হয়। সর্বশেষ গ্রেফতারকৃত তিন জনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

নিলয় হত্যার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মুফতি আবদুল গাফফারের ইসলামের সৈনিক সত্যের লড়াকু ও ইসলামের সৈনিক সত্যের পাইকসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক এ্যাকাউন্ট রয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে ইসলামের সৈনিক সত্যের লড়াকু নামক নিজের ফেসবুক থেকে ‘আইতাছি, তোরে কোপামু চাপাতি দিয়া।’ লিখে নিলয়কে হত্যার হুমকি দেয়। নিলয় হত্যার পর সাব্বির ও তারেক আনসার আল ইসলামের নামে ফেসবুক পেজ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করে। নিলয় হত্যায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ৭ জনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তাদের অনেকেই এখনও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

তদন্তকারী সংস্থা ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, নিলয় হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী তার স্ত্রী ও শ্যালিকার জবানবন্দী কয়েক দফায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে রেকর্ড করা হয়েছে। রেকর্ডকৃত জবানবন্দীতে দেয়া বর্ণনার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আবদুল গাফফারের অনেক কিছুই মিলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আব্দুল গাফফার সরাসরি হত্যাকা-ে অংশ নিয়ে থাকতে পারে। হত্যাকারীদের মধ্যে একজন দাড়িওয়ালা ছিল। সেই হত্যাকারীই আবদুল গাফফার হওয়া বিচিত্র নয়। আবদুল গাফফারসহ গ্রেফতারকৃত ৩ জন সরাসরি হত্যাকা-ে অংশ নিয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে নিলয়ের স্ত্রী ও তার বোনকে দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে, ব্লগার, লেখক ও বিদেশী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই এখনও বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আবার অনেকেই আগে এসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যায় গ্রেফতারকৃত ৫ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সিজার হত্যায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এমএ মতিনসহ দুই জন বিএনপি নেতা। বাকি ৩ জন যুবদলের নেতাকর্মী। এমএ মতিন বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এএম কাইয়ুমের ছোট ভাই।

আর রংপুরে হোসি হত্যায় গ্রেফতারকৃতরা বিএনপি ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যেই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিবিরের ৫ জন এবং বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের ভাই চঞ্চলসহ বেশ কয়েকজন আটক হয়েছে। যদিও গ্রেফতারকৃত শিবির নেতাকর্মীরা তাদের নেতাকর্মী নয় বলে দলের তরফ থেকে গ্রেফতারের পর পরই দাবি করা হয়।