২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তামিমকে গালাগালি করল ফ্র্যাঞ্চাইজি!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘এমন আচরণ করেছে, পরিবার তুলে গালাগালি করেছে। এমনটি হয় নাকি! কারও সঙ্গেই এমন আচরণ করা যায় না। জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সেক্ষেত্রে একটা সম্মান আছে তো। ভিক্ষুকের মত আচরণ করেছে। এমনটি হলে ক্রিকেটই ছেড়ে দেব!’ রবিবার কথাগুলো খুব কষ্ট নিয়েই বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। যিনি চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়কও। যে দলটি সিলেট সুপার স্টারসকে শেষ বলে ১ রানে হারিয়েছেও। সেই সুপার স্টারসের মালিক (ফ্র্যাঞ্চাইজি) আজিজুল ইসলাম অপমান করেছেন তামিমকে। গালাগালি করেছেন।

এমন কি হল, যে ম্যাচ শেষে তামিম এমন কথা বলতে বাধ্য হলেন? ঘটনাটি ঘটেছে দুপুরে। অনেক নাটক হয়েছে চিটাগাং ভাইকিংস ও সিলেট সুপার স্টারসের ম্যাচে। দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকে ম্যাচটি। অথচ বিদেশী দুই ক্রিকেটার জশুয়া কব ও রবি বোপারার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নাটকে ম্যাচটি শুরু হয় ৩টা ৭ মিনিটে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকে।

টস হওয়ার আগে দুইদলকেই ম্যাচ রেফারির কাছে একাদশ দিতে হয়। সেই সঙ্গে দুইদলের অধিনায়কের কাছেও প্রতিপক্ষের একাদশ পৌঁছে। যখন চিটাগাং ভাইকিংসের অধিনায়কের কাছে সিলেট সুপার স্টারসের একাদশ পৌঁছায় তখন দুই বিদেশী ক্রিকেটার দিলশান মুনাবিরা ও অজন্থা মেন্ডিসের নাম একাদশে ছিল, যখন টস হয়। এরপর তামিম ব্যাট হাতে যখন নামতে থাকেন, তখন দেখেন ফিল্ডিংয়ে নামছেন কব ও বোপারাও। তামিম তাতে আপত্তি করেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী চার বিদেশী একাদশে থাকতেই হবে। কিন্তু অনাপত্তিপত্র না আসায় শুরুতে একাদশে কব ও বোপারাকে রাখতে পারেনি সিলেট সুপার স্টারস। কিন্তু যেই মাঠে নামার আগে এনওসি এসেছে, দুইজনকে ফিল্ডিংয়ে নামাতে চায় সিলেট সুপার স্টারস। তামিম তাতে বাধা দেন এবং গোঁ ধরেন। মানতে রাজি হন না। তামিমকে মানানোর চেষ্টা করে বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলও। কিন্তু তাতে কাজ হয় না। যখন তামিম কোনভাবেই মানতে চান না, এমন সময়ে তামিমকে সিলেট সুপার স্টারসের মালিক আজিজুল ইসলাম ‘যা-তা’ বলতে থাকেন। গালাগালি করেন। পরিবার তুলেও গালি দিতে ছাড়েননি। এ ঘটনা দেখেছেন বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক জালাল ইউনুস। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন আকসুর (এন্টি করাপশন এ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট) এক সদস্যও।

ম্যাচ শেষে এসব ঘটনা নিয়ে সিলেট সুপার স্টারসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম কোন কথাই বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, ‘এ বিষয়গুলো আমাদের দেখার বিষয় না। এগুলো বিসিবি ও বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিল দেখবে। আমরা একটি দলের হয়ে খেলছি। সেই দলের মালিকপক্ষ আমাদের যেভাবে মাঠে নামতে বলবে আমরা নামব।’

তবে মুশফিকের পর যখন সংবাদ সম্মেলনে জয়ী দলের অধিনায়ক তামিম আসেন, তখন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শুরুতে বলেন, ‘আমি খুব ওপেন। এ রকমটি হতে পারে না।’ খেলা শুরু করতে দেরি করার ব্যাখ্যা দেয়ার পর তামিম বললেন, ‘আমি আইপিএলে না খেললেও একটি দলের সঙ্গে ছিলাম। আমি দেখেছি মালিকদের ব্যবহার কি রকম। তাদের টাকা আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের থেকে অনেক বেশি। তারপরও খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন। অথচ এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি কি করল! তার (আজিজুল ইসলাম) অনেক টাকা থাকতে পারে, তাই বলে একজনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার নিশ্চয়ই করতে পারেন না। তবুও আমি বারবার তাকে স্যার স্যার সম্বোধন করেছি। এরচেয়ে বড় সম্মানের আর কি হতে পারে। আমি একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার। আমি কেন, কোন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করতে পারেন না। অথচ কি খারাপ ব্যবহার করল। ভিক্ষুকের মত আচরণ করল। আমরা কি মানুষ না? এভাবে চলতে পারে না। আমি বিসিবির কাছে অবশ্যই অভিযোগ করব। আর এভাবে চলতে থাকলে ক্রিকেটই ছেড়ে দেব।’

তামিম তার ক্ষোভের, দুঃখের কথা বলার পরই বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। তিনি বলেন, ‘আসলে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে সিলেট সুপার স্টারস অপরাধ করেছে। হিসেবে চিটাগাং ভাইকিংস ওয়াকওভারই পেয়ে যায়। কিন্তু ক্রিকেটের স্বার্থে তামিমকে বুঝিয়ে খেলা চালানো হয়। যেন বিপিএলের গায়ে, ক্রিকেটের গায়ে কোন আঁচড় না লাগে। তবে আমরা তামিমের সঙ্গে হওয়া ঘটনা দেখেছি। এমনকি যে সময় ঘটনা ঘটেছে আকসুর একজন ছিলেন, তিনি মেজর। সব দেখেছেন।’

বিসিবির পরিচালকই যখন সব দেখেন, আকসুর সদস্য যখন দেখেন; এরপরও কি সিলেট সুপার স্টারসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্ষমা পেয়ে যাবে, শাস্তি হবে না? জালাল ইউনুস বললেন, ‘অবশ্যই এটা ভাল করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে বিপিএলের প্রথম আসরে বরিশাল বার্নার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিলেন আলিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। তখনও সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে ছাড় পেয়েছে বরিশাল। এবার যখন সিলেট সুপার স্টারস দলটিতে আছেন একই মালিক। এবারও বিপিএলের দ্বিতীয় দিন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ছাড় পেল তারা। তাও আবার তামিম ইকবালের মত জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারকে গালাগালি করল। এখন দেখার বিষয় বিসিবি তাদের বিরুদ্ধে কি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। তাদের এমন আচরণে বিপিএলের তৃতীয় আসর কলঙ্কিতই হয়ে পড়ল বলা চলে। সেই কলঙ্ক এখন সিলেট সুপার স্টারসের মালিকপক্ষকে শাস্তি দিয়েই দূর করতে হবে বিসিবিকে। আদৌ কি সেই ব্যবস্থা নিতে পারবে বিসিবি বা বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিল?

নির্বাচিত সংবাদ