১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকার সেই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর ক্যাডাররা এখন কে কোথায়-

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের রাউজানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মূলশক্তি ছিল তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী। জয়লাভের ক্ষেত্রে জনসমর্থনের চেয়েও মুখ্য ভূমিকায় থাকত এই ক্যাডাররা। বিএনপি-জামায়াত আট বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় সে ক্যাডাররা এখন ক্ষমতাহীন। প্রায় সকলেই গা ঢাকা দিয়ে আছে। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এখন আর কেউ নেই রাউজানে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাকা চৌধুরীর আধিপত্য রক্ষায় ছিল কয়েক শতাধিক ক্যাডার বাহিনী। এসব ক্যাডার তার নির্দেশে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের খুন, নির্যাতনসহ সকল ধরনের অপকর্ম করে বেড়াত। সাকার ক্যাডার বাহিনীদের মধ্যে বেশ ক’জন বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব-পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়। এছাড়া জীবিত থাকা সন্ত্রাসীরা ট্রাইব্যুনালে সাকার ফাঁসির মৃত্যুদ-াদেশ ঘোষণা হওয়ার পর কেউ দেশে আত্মগোপনে আর কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

সূত্র মতে, উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের গুহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হক বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দায়। বিদেশে এ সন্ত্রাসী হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পৌরসভার হিংগলা এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক রয়েছেন ওমানে। কারাগারে আটক আছেন সাকার আরেক ক্যাডার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আধারমানিক এলাকার বাসিন্দা বিধান বড়ুয়া। বুয়েট ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি কদলপুর ইউনিয়নের মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এখন কানাডায়। কদলপুর ইউনিয়নের অপর সন্ত্রাসী আলী হামজা রয়েছেন দুবাইয়ে। এছাড়া সাকার নির্দেশে খুনসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াত দক্ষিণ সর্তা এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে বাচা, দেলোয়ার। পশ্চিম গুজরার বদুমুন্সি পাড়া এলাকার রমজান আলী ও ফরিদ। দক্ষিণ হিংগলার বইদ্যা ওরফে জাপটা বইদ্যা। পূর্ব গুজরা বড়ঠাকুর পাড়ার জাহেদ।

৭৫-এর পর থেকে একটানা ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাউজান-রাঙ্গুনীয়া ছিল সাকা চৌধুরী পরিবারের একচ্ছত্র দাপট। মাঝে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় ৫ বছরের জন্য স্তিমিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর ফের চলে সেই তা-ব। চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সেই থেকেই গা ঢাকা দিয়ে আছে সাকার ক্যাডাররা। তবে তারা এখনও ফেরার অপেক্ষায়। কোন কারণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেই সেই ক্যাডারদের তা-ব ফের শুরু হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে রাউজানের সাধারণ মানুষের মাঝে।

সাকার ক্যাডার বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছেন যারা ॥ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গত চার দশকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডার বাহিনীর নির্যাতনে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন শতাধিক নিরীহ লোকজন। রাউজানে যারা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শী ছিলেন মূলত তারাই হয়েছেন তার ক্যাডার বাহিনীর টার্গেট। তার নির্যাতনের শিকার অনেক নিরীহ মানুষ এখনও পঙ্গুত্ব বরণ করে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাকার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ইন্ধনে রাউজান উপজেলার যেসব নিরীহ লোকজন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে- রাউজানের হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা এলাকার বাসিন্দা রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান পেয়ারু, হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস মাস্টার, একই ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা এমদাদ, যুবলীগ নেতা জানে আলম ও আজিজ। ডাবুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম, টিটু ও বিটু। চিকদাইর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রফিক। নোয়াজিশপুরের যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম। রাউজান পৌর এলাকার পশ্চিম গহিরা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা আসলাম, গহিরা মোবারক খীল এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ফারুক। সুলতানপুরের ছাত্রলীগ নেতা ফখর উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর। পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন রাজু, একই এলাকার ফেরদৌস আলম মাস্টার, প্রদীপ সেন মেম্বার, আবুল কাসেম, সাতবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা আবু তালেব। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বদু ও মুন্সিপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম। বিনাজুরীর ছাত্রলীগ নেতা আশিষ বড়ুয়া। রাউজানের মোহাম্মদপুরের যুবলীগ নেতা নেজাম উদ্দিন, হরিশখান পাড়ার সাহা আলম। কদলপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মুসলিম উদ্দিন খানের শ্যালক এস এম ফারুক, সনজিব বড়ুয়া, আরিফ বিল্লাহ। পাহাড়তলীর যুবলীগ নেতা মোহরম। বাগোয়ানের গশ্চি এলাকার ছাত্রলীগ নেতা ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন, আধারমানিক এলাকার যুবলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন জামিল, অমৃত তালুকদার, কৃষ্ণ দত্ত, মোঃ মিয়া, নাসিম, যুবলীগ নেতা রফিক, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আবদুল রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল, লিটন, যুবলীগ নেতা আবদুল হামিদ ও উরকির চরের ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ।