২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাপ্টাগনের নেশায় বুঁদ হয়ে দিনরাত যুদ্ধ করছে আইএস জঙ্গীরা

  • নেশার প্রভাবে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে

উগ্রপন্থী জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধারা ‘ক্যাপ্টাগন’ নামের এক মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে দিনের পর দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা ও সমর বিশেষজ্ঞরা। স্নায়ু উত্তেজক ওই ট্যাবলেট খেয়ে আইএস যোদ্ধারা দিনের পর দিন নির্ঘুম যুদ্ধের ময়দানে পড়ে থাকছে। এই ট্যাবলেটটি শুধুমাত্র সিরিয়াতেই তৈরি হয়, পাওয়া যায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যই। খবর বিবিসির।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, শক্তিশালী ক্যাপ্টাগন খুব দ্রুত কাজ করে এবং এটি খেয়েই সিরিয়ার যোদ্ধারা বিশ্রামহীনভাবে দিন-রাত সর্বক্ষণ যুদ্ধ করতে পারছে। নেশা সৃষ্টিকারী এই ট্যাবলেট খাওয়ার কারণেই জিহাদীরা কোন ধরনের বিচার বিবেচনা ছাড়াই নির্বিচারে হত্যাকা- চালাতে পারছে। প্রচ- নেশা সৃষ্টিকারী এই মাদক বিক্রি করে পাওয়া কোটি কোটি ডলার চলে যায় যুদ্ধ কবলিত সিরিয়ার কালোবাজারে। এসব অর্থ দিয়ে জিহাদীরা নতুন নতুন অস্ত্র কিনতে পারছে। এই ট্যাবলেট গ্রহণ করেন লেবাননে এমন একজন বলেছেন, এই ড্রাগটি নিলে ঘুমতো দূরের কথা, চোখও বন্ধ করা যায় না। বিবিসির একটি তথ্যচিত্রে আরেকজন গ্রহণকারী বলেছেন, এই ট্যাবলেট একবার খেলে আপনি আর কিছুতেই এটা খাওয়া বন্ধ করতে পারবেন না। তিনি বলেন, মনে হবে আমি পৃথিবীর শীর্ষে অবস্থান করছি। আমার যে ক্ষমতা তা আর কারও নেই। এই পৃথিবীর আর কেউ আমাকে আক্রমণ করতে পারবে না। গত বছর করিম নামের ১৯ বছর বয়সী এক আইএস যোদ্ধার বরাত দিয়ে সিএনএনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জঙ্গীদের উত্তেজক ট্যাবলেট সেবনের বিষয়টি উঠে আসে। করিম বলেছে, ওরা আমাদের নেশার বড়ি খেতে দিত। এটা এমনভাবে কাজ করে যে, আপনি বাঁচবেন না মরবেন, সেই চিন্তা না করেই যুদ্ধ করে যাবেন। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে সিরিয়া এখন এই মাদকের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে থাকে। ৬০’এর দশক থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। বিষণœতা কাটাতে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে পরে এটি নেশা সৃষ্টিকারী ড্রাগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করলে বেশিরভাগ দেশেই এটা নিষিদ্ধ করা হয়।

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আইএস এই ড্রাগ প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করছে। সৌদি আরবে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এই নেশার জন্যে চিকিৎসা নিয়ে থাকে। চিকিৎসকরা বলেছেন, মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার মতো এই ড্রাগের মারাত্মক কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর আগে আল কায়েদাও তাদের বুলেটবিদ্ধ যোদ্ধাদের কষ্ট কমাতে এ ধরনের (এ্যামফেটামিন) ব্যবহার করার পরামর্শ দিত। এ ধরনের মাদক ব্যবহার তাদের যুদ্ধের মাঠে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলত বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।