১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘আর ধান চাষ করমুনা এর চাইতে রিক্সা চালানও ভাল’

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ২৩ নবেম্বর ॥ বাউফলের কালাইয়া হাটে ধান বিক্রির পর বর্গাচাষী ফরিদ মিয়া ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘আর ধান চাষ করমুনা। এর চাইতে রিক্সা চালানও ভাল। হারা বছর খাইট্টা পাইট্টা যদি নিজের মজুরির টাহাও না পাই তাইলে হেই কাম কইর‌্যা লাভটা কি কন ভাইসাব।’ এ বছর বাউফল উপজেলার সর্বত্রই আমন ধানের ফলন ভাল হওয়াতে প্রান্তিক কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কৃষকের সেই হাসি ম্লান হয়ে গেছে ধানের নিম্নমুখী বাজারমূল্যে। উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের আনোয়ার, কালাইয়া ইউনিয়নের ফরিদ মিয়া, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলম সিকদারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আমন মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অধিক দামে বীজ কিনতে হয়েছে তাদের। এরপর সার, কীটনাশক, ট্রাক্টর খরচ এবং বদলাসহ সব মিলিয়ে একর প্রতি আমন চাষে খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। আর সেখানে তারা একর প্রতি ধান পেয়েছেন ১৬ থেকে ১৭ মন। চুক্তি অনুযায়ী যার অর্ধেকটা যাবে জমির মালিকের গোলায়। বর্তমানে প্রতি মণ আমন ধানের বাজারমূল্য ৫শ’ টাকা। তাও আবার ৪৮ কেজিতে মণ ধরছে ফড়িয়ারা। সেই হিসেব অনুয়ায়ী প্রতি একরে তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। কালাইয়া ধান চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি মোঃ শাহিন জানান, এখন পর্যন্ত সব ধান বাজারে ওঠেনি। সব ধান যদি বাজারে আসে সে ক্ষেতে ধানের বাজার আরও নি¤œমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধার দেনা করে জমিতে ফলানো এই ধান বিক্রির টাকার ওপরই নির্ভর করে একটি কৃষক পরিবারের পুরো বছরের ভরণ-পোষণ। অভাব আর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে এখনই বেচতে হবে ধান। অথচ বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ধান বেচলে ওঠবে না খরচ। এ অবস্থায় অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে। কৃষকরা যদি এভাবে লোকসানের মুখে পড়ে তাহলে পরিবারগুলো একে একে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তবে কৃষকের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের উচিত, যেহেতু বরিশাল বিভাগে আমনের ফলন বেশি হয় তাই এ বিভাগের প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরকার সরাসরি ধান ক্রয় করা। যাতে কোন মধ্যস্বত্ব¡ভোগী কোন ফায়দা না লুটতে পারে।

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাভার, ২৩ নবেম্বর ॥ সোমবার সকালে শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে অবশেষে আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের ‘ছয়তলা’ এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্যাশন ক্রাফট’ নামের একটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, পাঁচ দফা দাবিতে ওই কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক রবিবার সকালে কারখানায় প্রবেশ করে উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। পরে এর কোন সমাধান না হওয়ায় সোমবার সকালে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।