২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝিকরগাছা পৌরবাসী নির্বাচনের কথা ভুলতে বসেছে

  • ৯ বছর নির্বাচন হয় না

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ কবে পৌর নির্বাচন হয়েছে, তা ভুলতে বসেছে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরবাসী। ফলে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত সেখানকার মানুষ। তাদের দাবি দ্রুত নির্বাচনের। কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না আইনী জটিলতায়। অভিযোগ, পৌর মেয়র ক্ষমতায় থাকার জন্য ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের মামলা করিয়েছেন উচ্চ আদালতে। তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার যশোরের ঝিকরগাছাকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করে। সীমানা নির্ধারণ করে ২০০১ সালের ২ এপ্রিল ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। পাঁচ বছর পর ২০০৬ সালের ১২ মে এই পৌরসভার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। নির্বাচন হওয়ার আগেই সীমানা সংক্রান্ত মামলা করেন ঝিকরগাছা পৌরসভার কাওরিয়া গ্রামের মৃত মোয়ালেম আলির পুত্র শাহিনুর রহমান, মল্লিকপুরের মৃত উলিউল্লাহ মুনসীর পুত্র সাইফুজ্জামান এবং বামনআলী গ্রামের মৃত নেয়াব মোড়লের পুত্র সাহাদত হোসেন। তিনটি মামলার বাদী তিনজন হলেও বিষয় ছিল এক। তারা উল্লেখ করেছে, তাদের এলাকা দরিদ্র, পৌর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হলে, তাদের বেশি ট্যাক্স দিতে হবে। ফলে তারা পৌর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না। মামলার বাদী কাউরিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান জানান, এ এলাকার মানুষ দিন আনে, দিন খায়, পৌরসভার মধ্যে পড়লে তারা অতিরিক্ত ট্যাক্সের আওতায় পড়বে। তাই এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেন।

এদিকে পৌরসভায় ৯ বছরের বেশি ভোট না হওয়ায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার রাস্তাঘাট ভাল না। রাতে রাস্তায় বাতি জ্বলে না। ড্রেন নেই বললেই চলে। বর্তমানে যশোর বেনাপোল প্রধান সড়কের পাশে কিছু ড্রেন হচ্ছে। এক কথায় পৌরসভার মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। পৌর এলাকার কাটাখালের বাসিন্দা আমিনুর রহমান জানান, কবে নির্বাচন হয়েছে মনে নেই। আমরা চাই এই পৌর সভায় দ্রুত নির্বাচন হোক, না হলে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হোক। নির্বাচন না হওয়ার পেছনে পৌর মেয়রসহ কাউন্সিলাররা একজোট। তারা পৌরসভাকে লুটপাটের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই, কিন্তু তা পারছি না। ঝিকরগাছা পৌর এলাকার মানুষের অভিযোগ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল মেয়র পদ আঁকড়ে রাখতে এ মামলা করিয়েছেন। আরও অভিযোগ মামলার বাদীদের তিনি নিয়মিত টাকা দেন।